ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেমিট্যান্সকে কাজে লাগাতে হবে, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমায় : রূপা হক


রেমিট্যান্সকে কাজে লাগাতে হবে, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমায় : রূপা হক

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা বা ফরেন এইড কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রূপা হক, যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য (এমপি), প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল রেমিট্যান্সকে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ শনিবার অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং পরিচয়গত পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

রূপা হক উল্লেখ করেন, অফিশিয়াল হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮৭ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তবে আনঅফিশিয়াল হিসাবে এ সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। সৌদি আরবে প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী থাকলেও ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের মাদ্রিদের মতো শহরেও বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান রাশেদ খাঁনের

তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে কাতারসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করে অভিবাসী শ্রমিকরা যে অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। যুক্তরাজ্য থেকেই বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রূপা হক বলেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে একসময় জিডিপির দশমিক ৭ শতাংশ আন্তর্জাতিক সাহায্যে দেওয়ার নীতি থাকলেও তা কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ বা তারও নিচে নামানো হয়েছে। এতে খাদ্য কর্মসূচি, রোগ প্রতিরোধ এবং নারী শিক্ষার মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দানশীল ব্যক্তি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সাহায্যের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অর্থায়ন মডেল তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও কথা বলেন রূপা হক। তিনি জানান, সম্প্রতি ভোটাধিকার পেয়ে প্রায় পাঁচ লাখ অনিবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) ভোট দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ ব্যবস্থার প্রশংসা করেন তিনি, যেখানে অভিবাসীদের ভোটাধিকারের সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রূপা হক। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের দাবিতে প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার, বিগ বেন এবং ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিচয় ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়েও রূপা হক বলেন, গত কয়েক দশকে প্রবাসীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সত্তরের দশকের নানা বাধা পেরিয়ে বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখেই ব্রিটিশ সমাজের মূলধারায় সমন্বিত হতে পেরেছে।

নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে রসাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য শেষ করেন রূপা হক। তিনি বলেন, ‘একটি মেয়েকে বাংলাদেশ থেকে বের করে আনা সম্ভব, কিন্তু সেই মেয়েটির ভেতর থেকে বাংলাদেশকে কখনো বের করে আনা সম্ভব নয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকট চিরকাল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকট চিরকাল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের দ্বারা সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংকটের ভারী বোঝা চিরকাল ধরে বহন করা সম্ভব নয়।

শনিবার ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফার্স্ট কনভারসেশন : আ ওয়ার্ল্ড রিরাইটেন—পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন দ্য এজ অব আনসার্টেনটি’ শীর্ষক উদ্বোধনী সেশনে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বহুমুখী ও জটিল পরিস্থিতি সমাধানের জন্য আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, শিবিরে বসবাসরত তরুণ রোহিঙ্গা জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে এবং নতুন করে শরণার্থীদের আগমন ঘটছে, ফলে এই মানবিক সংকট ক্রমেই বাড়ছে। তিনি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

সংকট সমাধানে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টির জন্য চীন কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমস্যা সমাধানে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলো নয়, বরং আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসলামিক দেশগুলোসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার ২০২৭ বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়বে, শিক্ষায় কমবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


রাশিয়ার ২০২৭ বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়বে, শিক্ষায় কমবে

ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রাশিয়া আগামী বছরের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের ব্যাপক বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একইসাথে, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর এবং কর বৃদ্ধি করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। রাশিয়ার খসড়া বাজেটের নথিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বৃদ্ধি করেছে। মস্কো প্রায় প্রতিদিন কিয়েভে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনুমোদনের জন্য খসড়া বাজেটটি জমা দেওয়া হয়েছে। এতে যেসব পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে:

খসড়া বাজেট অনুযায়ী, ২০২৭ সালে রাশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ২০৪ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।

নথি অনুযায়ী, মোট সরকারি ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ- এই তিন খাতের সম্মিলিত বরাদ্দের চেয়েও প্রতিরক্ষা ব্যয় বেশি হবে।

২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিরক্ষা ব্যয় কমার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পূর্বাভাস একাধিকবার অতিক্রম করেছে।

ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র মন্তব্য করেছেন, প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, কারণ এ খাতের প্রকৃত ব্যয়ের বড় অংশ গোপন রাখা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রকাশিত অঙ্কগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে বাজেট নিয়ে আলোচনার কেবল প্রাথমিক প্রস্তাব।

গত সপ্তাহে খসড়া বাজেট প্রকাশের সময় রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সামাজিক কল্যাণ ও প্রতিরক্ষা দুই খাতকেই ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বাজেটের নথিতে সামরিক খাতের বাইরে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ২০২৭ সালের জন্য মূল পরিকল্পনার তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি করে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সামাজিক কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমতে পারে ৬ শতাংশের বেশি।

পরিকল্পিত কাটছাঁটের মধ্যে রয়েছে সরকারের ক্যানসারবিরোধী কর্মসূচি। এ কর্মসূচিতে মূল বাজেটের প্রায় ৯৭ শতাংশ অর্থ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘ইমপরট্যান্ট স্টোরিজ’ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কলামিস্ট বরিস গ্রজোভস্কি বলেন, সরকার সরকারি কর্মীদের বেতন ও সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি অবকাঠামো প্রকল্প- বিশেষ করে নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমাচ্ছে।

বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে সরকার কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক আমানত ও সম্পত্তি বিক্রির ওপর করের হার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাড়ছে ঋণ

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার বাজেটে প্রতি বছরই ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

২০২৭ সালে বাজেট ঘাটতি প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুবল বা ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুবল ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, নতুন হিসাব তার তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি।

২০২৭ সালে সরকারি ঋণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২০ শতাংশের বেশি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার তুলনামূলক কম হলেও রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় আগে যে মাত্রাকে ‘নিরাপদ’ বলেছিল, এটি তার চেয়ে বেশি।

এ ছাড়া ২০২৭ সালে সরকারের মোট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ গত বছর করা প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি হতে পারে।

গ্রোজোভস্কি ভাষায়, যথেষ্ট অর্থ নেই।

তার মতে, সরকার কার্যত সবাইকে একটি বার্তা দিচ্ছে- সরকারি বাজেট থেকে অর্থ পাওয়ার ওপর ভরসা না করাই ভালো; কারণ যাদের অর্থ দেওয়া একেবারেই জরুরি, মূলত তারাই বরাদ্দ পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাসাচুসেটসে দুই মাথাওয়ালা বিরল কচ্ছপছানা, চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


ম্যাসাচুসেটসে দুই মাথাওয়ালা বিরল কচ্ছপছানা, চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে একটি বিরল কচ্ছপছানার সন্ধান পাওয়া গেছে, যার দুটি মাথা রয়েছে। এই কচ্ছপটি ‘ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন’ প্রজাতির এবং এর জন্মগত শারীরিক অস্বাভাবিকতা বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে, কচ্ছপছানাটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বন্য প্রাণী সেবাকেন্দ্রের কর্মীরা।

কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার, যা ম্যাসাচুসেটসের বার্নস্টেবলে অবস্থিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কচ্ছপটির সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বন্য প্রাণী সংরক্ষণাগার মাস অডুবন ওয়েলফ্লিট বে ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংকচুয়ারির কর্মকর্তারা কচ্ছপছানাটিকে তাদের কাছে নিয়ে আসেন। এটি ওয়েলফ্লিটের একটি সুরক্ষিত প্রজননক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্য প্রাণী কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মতে, কচ্ছপটির দুটি মাথা থাকার কারণ হিসেবে ‘বাইসেফালি’ নামক বিরল জন্মগত অবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভ্রূণের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিন্ন যমজ সম্পূর্ণভাবে আলাদা না হলে এ ধরনের শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

কচ্ছপছানাটির শারীরিক অবস্থা নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসকদের একটি দল কাজ করছে। তারা রেডিওগ্রাফি ও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে কচ্ছপটির শারীরিক গঠন, দুটি মাথার কার্যকারিতা এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।

কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে তারা এ ধরনের মাত্র দুটি কচ্ছপ দেখেছেন। ফলে বিরল এই কচ্ছপছানার শারীরিক গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে, কচ্ছপটির খাবারের প্রতি আগ্রহ, বেড়ে ওঠা ও আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই মাথাবিশিষ্ট প্রাণীর বেঁচে থাকা ও স্বাভাবিক বিকাশ অনেকটাই নির্ভর করে তাদের অভ্যন্তরীণ শারীরিক গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা এবং দুটি মাথার সমন্বয়ের ওপর। তাই বিরল এই কচ্ছপছানার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিউস্টনে অভিভাবকত্ব হারিয়ে মেয়ে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


হিউস্টনে অভিভাবকত্ব হারিয়ে মেয়ে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে পরাজয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, এক নারী নিজের চার বছরের মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর সিবেল সাভেলা নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবরটি নিউইয়র্ক পোস্টের মাধ্যমে জানা যায়।

এবিসি১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিবেলের প্রাক্তন স্বামী অ্যারন সাভেলার কাছে মেয়েকে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু হিউস্টনে নিজের ৮ লাখ ২৪ হাজার ডলারের বাড়িতে তিনি মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর নিজেকেও গুলি করেন।

হিউস্টন পুলিশের লেফটেন্যান্ট ল্যারি ক্রাউসন জানান, ‘অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি শুনানি ওই মায়ের পক্ষে যায়নি। তাই বাড়ি ফিরে নিজের ৪ বছর বয়সী মেয়েকে গুলি করেন, এরপর নিজেকেও গুলি করেন।’

এই ঘটনার পর সিবেলকে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে একদিন পর তিনি মারা যান।

ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া সাবেলা ২০২৪ সালের নভেম্বরে অ্যারনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটান। এরপর তাদের মধ্যে মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়।

আদালতের নথিপত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টা আগে সিবেল আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হন। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, পর্তুগিজ জানা তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতি ছাড়া সিবেল তার মেয়ের সঙ্গে মাতৃভাষা পর্তুগিজে কথা বলতে পারবেন না।

মেয়ের স্কুলের কোনো অনুষ্ঠানে সিবেলের উপস্থিতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রাক্তন স্বামীকে অর্থ প্রদান এবং চিকিৎসার যাবতীয় খরচের ৫০ শতাংশ বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে সিবেল কেন অভিভাবকত্ব হারিয়েছিলেন এবং মেয়ের বিষয়ে তার ওপর কেন এত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

শিশুটির স্বজনরা জানিয়েছেন, ভিভিয়ানের বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর। তাকে সবাই ভালোবাসত। তারা বলেন, ‘আমরা কী হারিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’

তারা আরও বলেন, ‘সন্তানকে সুরক্ষা দিতে একজন অভিভাবকের কাছে আইন যা প্রত্যাশা করে, অ্যারন তার সবটাই করেছিলেন। তিনি আদালতের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।’

তারা বলেন, ‘অ্যারন আদালতের প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলেছিলেন। তিনি আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। মঙ্গলবার একজন বিচারক ভিভিয়ানের প্রাথমিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব অ্যারনকে দিয়েছিলেন এবং সন্ধ্যায় মেয়েটির তাঁর কাছে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আর ফেরেনি।’

কেএইচওইউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারনের প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী শার্লট রেইনওয়াটার বলেন, ‘এ ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ২৮ বছর ধরে পারিবারিক আইন নিয়ে কাজ করছি এবং আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%