মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৩ এম
বান্দরবান, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার রুমা উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১০ পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও নগদ সহায়তা প্রদান করেছে খ্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)।
সিসিডিবির উদ্যোগে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার মোট ৬২৫টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে এ জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বান্দরবান সদরে ৩৫০টি, রোয়াংছড়িতে ১৬৫টি এবং রুমায় ১১০টি পরিবার রয়েছে।
এর অংশ হিসেবে সোমবার রুমা উপজেলার ১০টি গ্রামের ১১০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়।
প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, ৩ কেজি ডাল, ২ কেজি লবণ, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২টি গোসলের সাবান, ২টি কাপড় ধোয়ার সাবান ও ১ প্যাকেট স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়।
পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা, রুমা প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মারমা, সিসিডিবির কো-অর্ডিনেটর আর্নেস্ট সরকার, সিসিডিবি বান্দরবানের এরিয়া ম্যানেজার হ্লামং মার্মা এবং হার-সেব প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার তাপস সরকার।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘব এবং জরুরি খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সিসিডিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কাছ থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। এ স্বীকৃতিকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য ঐতিহাসিক ও গৌরবের অর্জন হিসেবে দেখছেন কলেজসংশ্লিষ্টরা।
সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের এ অর্জন কোনো একক প্রচেষ্টার ফল নয়। মালিক ও পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মালিক ও পরিচালনা পর্ষদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিরলস প্রচেষ্টা কলেজটিকে এ স্বীকৃতি অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকমণ্ডলী ও চিকিৎসকদের মেধা, প্রজ্ঞা এবং নিরবচ্ছিন্ন পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এ অর্জনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে পর্দার আড়ালে থেকে তাদের দিন-রাতের পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসাকে এ সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা.জহিরুল হক বলেন, “সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের এই স্বীকৃতি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্নের সফল পরিণতি। এ অর্জনের পেছনে পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। আমরা এই স্বীকৃতিকে দায়িত্ব হিসেবে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাব। আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো চিকিৎসক তৈরি করা নয়, বরং দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক তৈরি করা।”
এদিকে সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি, নিবন্ধকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের ওপর আস্থা রাখা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মন্ত্রিসভা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (প্রতি ১০ শলাকা) ৬২ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬৫ টাকা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এ অনুমোদন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পরিবর্তন করার পাশাপাশি সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
সংশোধনের মাধ্যমে নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (প্রতি ১০ শলাকা) ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণের ফলে এই খাতে অবৈধ বাণিজ্য হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি কমবে বলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের পতাকা হাতে সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেনে অনুষ্ঠিত ৩৩তম আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার ম্যারাথনে দৌড়ানোর গৌরব অর্জন করেছেন জার্মানির মিউনিখে বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসী দৌড়বিদ শিব শংকর পাল।
শনিবার, বিশ্বের ৬৬টিরও অধিক দেশের প্রায় ৪০০০ এ্যাথলেটের সাথে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দরতম ম্যারাথন, সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেনে অনুষ্ঠিত ইয়ুংফ্রাউ দূরপাল্লার এই ম্যারাথনে ৪২.২ কিলোমিটার পাহাড় পর্বত ঘেরা উঁচুনিচু পথ সাফল্যের সাথে অতিক্রম করে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন শিব শংকর।
ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার অন্যতম উচ্চতম পর্বত ইয়ুংফ্রাউ, যা চার হাজার মিটারেরও অধিক উচ্চতায় অবস্থিত। এই পর্বতের ৫৬৮ মিটার উচ্চতার একটি ক্যাম্প থেকে শুরু করে বইনিংগেন, ভিল্ডার্সভিল, ৮১২ মিটার উচ্চতার লাউটারব্রুনেন পয়েন্ট, ১২৮৩ মিটার উচ্চতার ভেনগেন পর্বত এবং সর্বোচ্চ পর্বতমালা ২৩২০ মিটার উচ্চতায় আইগারগ্লেটশার নামক স্থানে এসে শিব শংকর সময় নিয়েছেন সাড়ে তিনঘন্টার কাছাকাছি।
ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী শিব শংকর একজন সৌখিন দৌড়বিদ। তাঁর একটি প্রধান ইচ্ছা হলো বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য ম্যারাথনগুলোতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উঁচু করা। শিব শংকর একমাত্র বাংলাদেশি যিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ম্যারাথনে শতাধিকবার অংশ নিয়ে গৌরবের সাথে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেছেন।
দৌড় শেষ করার পর শিব শংকর পাল জানান, "বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার মত অহংকারের আর কিছুই হতে পারেনা।" তিনি বলেন, "এই ম্যারাথনটি বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুন্দর তবে কঠিন সব পর্বতমালা পাড়ি দেয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পাওয়ার মত সুন্দর বিষয় আর কিছুতেই হতে পারেনা।"
তিনি আরও জানান, "আমি ১০ম বারের মত এই ম্যারাথনেই অংশ নিয়েছি। এই স্ট্রেকেটা আমার প্রিয়।" সৌখিন দৌড়বিদ শিব শংকর জানান, এটি তাঁর ১৪৩তম আন্তর্জাতিক ম্যারাথন।
ম্যারাথনে সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটক এবং শিব শংকরের স্ত্রী শিখা শংকর পালসহ তাঁর সন্তানরাও উপস্থিত ছিলেন।
সৌখিন এই দৌড়বিদ তাঁর ক্যারিয়ার গড়তে ১৯৮৯ সালে জার্মানিতে পাড়ি জমান। ১৯৯৯ সালে জার্মানির মিউনিখে পাল ইলেক্ট্রো নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বেশ কয়েকবার জার্মানির মিউনিখ শহর কর্তৃপক্ষ তাঁকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে এক মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনায় এই নারীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে আসাম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট।
মুমতাজ বেগম নামের ওই নারীকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার স্বামী মুজাম্মেল হক গৌহাটি হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস (জোর করে হেফাজতে রাখা কাউকে আদালতে প্রদর্শন) আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্দের বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশ দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মুমতাজকে বাংলাদেশি ঘোষণার পর তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়নি এবং সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। তাকে আটক ও বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আইনি বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
মুমতাজের মামলাটি এর আগে নাগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে চলছিল। ২০১৯ সালে ট্রাইব্যুনাল তাকে বিদেশি ঘোষণা করে। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত দেখতে পান, তার দাখিল করা সব প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। চলতি বছরের এপ্রিলে হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে মামলাটি নতুন করে বিবেচনার নির্দেশ দেন।
এরপর গত ৩০ মে মুমতাজ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন রাতে তাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে তার পরিবারকে আগে জানানো হয়নি।
হাইকোর্ট এ ঘটনায় নাগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ‘আইনের অপব্যবহারের প্রবণতা’ স্পষ্ট হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিকে বিদেশি ঘোষণা করে আটক করার আগে তাকে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি তাকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও বিষয়টি জানাতে হবে।
এ ছাড়া পুরো ঘটনার বিষয়ে আসামের স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মুমতাজকে বাংলাদেশ থেকে শনাক্ত করে ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ