০৩:৩৬ পি.এম
চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার আমদানি করা হয়েছিল, যার ঘোষণা ছিল প্রিন্টিং মেশিন। কিন্তু কাস্টমসের গোয়েন্দা তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই চালানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদনের মাধ্যমে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং প্রসাধনী আমদানিতে প্রায় আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে এই অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়। গত ৯ আগস্ট চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। আমদানি ঘোষণায় পণ্যের বিবরণ ছিল ‘প্রিন্টিং মেশিন’। তবে সন্দেহজনক হওয়ায় সিআইসি চালানটি বিশেষ নজরদারিতে রাখে।
আরও পড়ুন: রংপুরে এক হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবাসহ তরুণী আফসানা মরিয়ম গ্রেফতার
গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা যৌথভাবে চালানটি বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি। বরং কনটেইনারে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া যায়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চালান থেকে ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। এসব স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এ ধরনের একটি সিগারেটের প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। সরকার প্রতি প্যাকেট থেকে ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা রাজস্ব পায়।
উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারত বলে জানিয়েছে এনবিআর। অন্যদিকে চালানে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিরূপণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ চালানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এতে রাজস্ব ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্যিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন: মাওলানা ফারুকী হত্যা মামলায় ৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু
এনবিআর জানিয়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন