বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:৩০ পি.এম
ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৬ : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন দুই পেসার জশ টাং ও ওলি রবিনসনের বোলিং তোপে সফরকারী পাকিস্তান ১৭১ রানে অলআউট হয়ে যায়। টাং এবং রবিনসন দুজনেই ৫টি করে উইকেট শিকার করেন।
প্রথম দিনের খেলা শেষে ইংলিশরা ২ উইকেটে ১১২ রান করেছে। ৮ উইকেট হাতে নিয়ে তারা ৫৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে। লিডসে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রবিনসনের বোলিং তোপে পাকিস্তান ৬ রানে ২ উইকেট হারায়। ইনিংসের প্রথম বলে ওপেনার আজান আওয়াইস সাজঘরে ফিরে যান। রানের খাতা খুলে শান মাসুদ ৫ রানে বিদায় নেন।
তৃতীয় উইকেটে ৯১ রানের জুটিতে আরেক ওপেনার ইমাম উল হক এবং আব্দুল্লাহ শফিক শুরুতে যে ধাক্কা সামলে ওঠেন, পরে ৯৭ থেকে ১১৮ রানের মধ্যে পাকিস্তান ৩ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে। এসময় ইমামকে ৪২ রানে আউট করেন টাং এবং শফিককে ৬১ ও সৌদ শাকিলকে ৫ রানে আউট করেন রবিনসন।
১১৮ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের পর পাকিস্তানের পরের দিকের ব্যাটাররা টাংয়ের পেস সামলাতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে তারা শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৮.১ ওভারে ১৭১ রানে গুটিয়ে যায়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সালমান আঘা ২১, খুররাম শাহজাদ ১৪ ও উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ১২ রান করেন।
রবিনসন ৫১ রানে এবং টাং ৪৬ রানে ৫টি করে উইকেট নেন। রবিনসন তার ২২তম ম্যাচে পঞ্চমবার এবং টাং ১৩ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবার ইনিংসে ৫ উইকেট নেন। এরপর ৩৬ রানের সূচনা পাওয়ার পর ইংল্যান্ড ৪৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায়। দুই ওপেনার বেন ডাকেট ১৫ এবং এমিলিয়ো গে ৩৩ রানে বিদায় নেন।
তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেন জর্ডান কক্স ও অধিনায়ক জো রুট। কক্স ২৩ এবং রুট ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলি ১টি করে উইকেট নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও তিন শিশুর। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭২ জন শিশু। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমানে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গের কারণে মোট ৯২৫ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮২৬ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে এবং নিশ্চিত করে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪ জন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ৯৫০ শিশু নতুন করে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ৮৭৯ শিশু ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এর আগে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ১৮ হাজার ১৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা নিয়ে, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক, সিন্ডিকেট সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। সাক্ষাৎকালে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ, বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচালিত যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিসহ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। উপাচার্য এসময় মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ মর্যাদা প্রাপ্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফান্ড বৃদ্ধি, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন, অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তৃতীয় ভাষা, জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও রোবোটিক্স বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন আবাসিক হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অ্যালামনাইদের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। উপাচার্য আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় সম্ভাব্য সমাবর্তনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বলেন যে তিনি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি মমত্ববোধ ও এর শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সকল ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়ন, গবেষণা ও বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য সমাবর্তনে আগামী জানুয়ারি মাসে যোগদানের আমন্ত্রণও তিনি গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক, সিন্ডিকেট সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর অবহিত করেন।
এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচালিত যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদার, অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত নানা পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তিনি।
উপাচার্য মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবময় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে গবেষণা ফান্ড বৃদ্ধি, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, জীববিজ্ঞান ও জীব-প্রযুক্তির মতো আধুনিক বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নেও তিনি সরকারের সহায়তা চান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
উপাচার্যের বক্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদান ও বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে অ্যালামনাইদের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি মমত্ববোধ এবং শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে আন্তরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময়ের এশিয়ার শীর্ষ ধনী এবং চীনা আবাসন খাতের পরাশক্তি এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হুই কা ইয়ানের জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। চীনের শেনঝেন শহরের একটি আদালত ৬৭ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীকে আর্থিক জালিয়াতি, তহবিলের অপব্যবহার এবং অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। আদালত সাজা ঘোষণার সময় তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছে।
কিছু বছর আগে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২১ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদ্ভব অনুষ্ঠানে তৎকালীন কোটিপতি হুই কা ইয়ানকে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে হাসিমুখে সিনিয়র নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা গ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল। অনেকেই তখন এটা সরকারের পক্ষ থেকে তার ব্যবসার প্রতি সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে, দীর্ঘ তিন বছর আটক থাকার পর, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে হলো এই শিল্পপতিকে।
হেনান প্রদেশের এক সাধারণ গ্রামীণ পরিবারে জন্ম নেওয়া হুই কা ইয়ান, বড় হয়েছিলেন তাঁর দাদির কাছে। তিনি একসময় ইস্পাত কারখানার টেকনিশিয়ান ছিলেন এবং পরে আবাসন খাতের সম্রাট হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দ্রুত দেশটির বৃহত্তম আবাসন কোম্পানি হয়ে ওঠে। ব্যাপক পরিমাণ ঋণ নিয়ে জমি কিনে এবং তুলনামূলক কম দামে দ্রুত ফ্ল্যাট বিক্রি করে এভারগ্র্যান্ড ২০২০ সালে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৭ সালে ফোর্বসের তালিকায় ৪৫.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তকমাও অর্জন করেন।
কিন্তু অতিরিক্ত ঋণনির্ভর ব্যবসায়িক মডেল এই প্রতিষ্ঠান এবং হুই কা ইয়ানের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণে জর্জরিত এভারগ্র্যান্ড ২০২১ সালে তাদের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে, হংকংয়ের আদালতের নির্দেশে কোম্পানিটি অবসায়নের প্রক্রিয়ায় চলে যায়। ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বাঁচানোর জন্য ইলেকট্রিক গাড়ি ও ফুটবলের মতো চীনা সরকারের পছন্দের প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি হুই।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, হুই কা ইয়ানকে আর্থিক বিবরণীতে কারচুপি, শেয়ারবাজারে প্রতারণা এবং জনস্বার্থের চরম ক্ষতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এভারগ্র্যান্ড গ্রুপকে প্রায় ১.৩১ বিলিয়ন ডলার এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দেশের আবাসন সংকটের মাঝখানে কোটি কোটি সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির এই ট্র্যাজিক অধ্যায় হুই কা ইয়ানকে নিয়ে গেল কারাগারের অন্ধপ্রকোষ্ঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ