০৪:৩৮ পি.এম
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামে স্বামীর সামনে স্ত্রীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন— আচুরা গ্রামের মো. রাব্বি (২৮), পালং উপজেলার আটিপাড়া এলাকার হযরত আলী খন্দকার (৪২) এবং আচুরা গ্রামের ইমন খন্দকার (২৬)।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজন সূত্র জানায়, অভিযুক্ত হযরত আলী খন্দকার স্বামীকে মোবাইল ফোনে কল করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। স্বামী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার, ইমন খন্দকারসহ আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বেঁধে ফেলে। পরে তাকে তার স্ত্রীকে ফোন করে টাকা নিয়ে যেতে বলার চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। সেই সময়ে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন আসতে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার স্বামীকে মাদক ব্যবসায়ী ধরার কথা বলে সোমবার সন্ধ্যা দিকে হযরত আলী খন্দকার, ইমন খন্দকার ও রাব্বি ডেকে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে অপহরণ করে নড়িয়া উপজেলার আচুরা এলাকার আজিজ ঢালীর বাগানে বেঁধে রাখে।
এছাড়া, অপহৃত স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে টাকা এবং পেনড্রাইভ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে বলা হয় এবং তাকে আনতে লোক পাঠানো হয়। পরে তাকে আচুরা এলাকার আজিজ ঢালীর বাগানের একটি নির্জন স্থানে নেয়া হয়, যেখানে তার স্বামীকে আগেই বেঁধে রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে স্বামীর সামনেই তিনজন মিলে ঐ নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, "আমার স্বামী তার মোবাইল থেকে রাত ৯টার দিকে কল করে আমাকে বাসা থেকে বের হতে বলে একজন লোক পাঠায়, তার সঙ্গে অটোতে করে আমি যাই। পরে আমাকে আচুড়ার একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে আগেই বেঁধে তার গলায় ছুরি ধরে রেখেছে। পরে তার সামনেই হযরত ও আরও ৩ জন আমাকে ধর্ষণ করে। শেষে আমি চিৎকার করলে এলাকার লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।"
প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক জানান, "অনেক রাতে বাড়ির পাশের জঙ্গলে চিৎকারের শব্দ শুনে আমরা গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি এক লোক তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করছে। আমরা জিজ্ঞাসা করলে আমাদের ধর্ষণের বিষয়টি জানান। পরে বাড়ির অন্য মহিলারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দিলে তারা তাদের নিয়ে যায়।"
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে শীতলা মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবিতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন