১১:৫৬ পি.এম
বৃহস্পতিবার, জাতীয় সংসদ ভবনে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার ছবিটি পিএমও কর্তৃক লক্করড।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার দশম বৈঠকে সরকার ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
আজ ১৮ জুন জাতীয় সংসদে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় আইনটির খসড়া উপস্থাপন করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জুয়ার বিস্তার এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানোর ফলে, অনলাইন এবং অফলাইন বিভিন্ন ধরনের জুয়া কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস, আর্থসামাজিক এবং মানসিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য এই সকল জুয়া কার্যক্রমের উপর মনোযোগ দিতে হবে। যথাযথ তত্ত্বাবধান এবং আইনগত কাঠামো গঠনের জন্য রাষ্ট্রের সার্বিক নৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। এজন্য ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭' প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করে, ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
প্রস্তাবিত খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নীচে উল্লেখ করা হলো:
(ক) জুয়া খেলা, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর (বুকমেকার), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ জুয়া সংক্রান্ত নানা বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
(খ) অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে, যেমন অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয়দণ্ড। পরে মন্ত্রিসভা কর্তৃক 'জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬'-এর খসড়া লেজিসলেটিভ এবং সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
সভায়, ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এই আইনের খসড়াটি উপস্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
দেশের পাবলিক পরীক্ষাসমূহে নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ প্রস্তুত এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণীত হয়। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায়, বিদ্যমান আইনের অনেক ধারা সময়োপযোগী নয়। পাবলিক পরীক্ষাসমূহের সুষ্ঠু এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য, ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধগুলোর দণ্ড আইনগত কাঠায় এনে আনয়নের জন্য এই আইনের সংশোধন করা হয়েছে।
ছবি : পিএমও
প্রস্তাবিত ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
(ক) পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
(খ) ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
(গ) পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানা সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিন সভায় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার উদ্যোক্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
এই আইনটির খসড়ায় জানানো হয় যে, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ গত ১৫ জুলাই ২০০১ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও সেটি কার্যকর করা হয়নি। বর্তমানে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়োগ এবং শিক্ষাও কার্যক্রম চালু অবস্থায় রয়েছে। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তন করে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, আইন, কৃষি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে 'বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬'-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
একইসঙ্গে সভায় 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আইনটি উল্লেখ করে যে, মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার এবং চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য ২০১৮ সালের ৬৩ নম্বর আইন 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২০)' প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে, মাদক পাচার এবং অপব্যবহারের পরিবর্তিত ধরণ, মাদকসংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং বিচারিক কার্যক্রমে উদ্ভূত বাস্তব সমস্যাসমূহের সমাধানের জন্য আইনটির কিছু ধারা সংযোজন এবং সংশোধন করে 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
(ক) বিচারিক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
(খ) মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধে, বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনের নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী
(গ) সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক পাচার প্রতিরোধে এবং অভিযান পরিচালনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
(ঘ) মাদকদ্রব্য সহজে শনাক্তকরণের জন্য ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা কর্তৃক ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন