১২:১৭ এম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে, কাতারে জমা থাকা ৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ব্যবহার করে ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানবিক ও নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা পণ্য কিনতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, যাতে ইরান পরমাণু আলোচনায় তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলতে পারে এবং দুটি দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা কার্যকর থাকে। তবে এই অর্থ কিন্তু শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কেনার জন্যই ব্যবহৃত হবে বলেও কূটনৈতিক সূত্র দ্বারা জানানো হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির সময়ে এই অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। এই অর্থের পরিমাণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কিছু শর্ত পূরণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে আলোচনার পরবর্তী পর্যায়ে আরও অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা থাকবে।
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দর ঘিরে থাকা নৌ অবরোধ আংশিকভাবে শিথিল করতে এবং ৬০ দিনের জন্য তেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বহু তেল বিক্রির অর্থ বিদেশের বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে। চীন, জাপান, ভারত ও ইরাকের ব্যাংকগুলোর অর্থ উল্লেখযোগ্য। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সময়ে মোট প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় পাওয়ার আশা করছে তেহরান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্দি বিনিময় চুক্তির পর দক্ষিণ কোরিয়ায় রাখা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। পরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি খারাপ হলে ইরান অর্থে প্রবেশাধিকার হারিয়েছে।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
ট্রাম্প বলেছেন, এই অর্থ যদি ইরানের নিজস্ব এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবহার করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও মানবিক বাণিজ্য উভয়ক্ষেত্রেই লাভ হবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই চুক্তিতে ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন