ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়


আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণকাজের কারণে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহী ও বগুড়ার কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) বগুড়ার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এবং নেসকো রাজশাহীর বিমানবন্দর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নেসকো বগুড়ার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন সাসেক প্রকল্পের আওতায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য আগামী ১০ অক্টোবর সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই সময় ৩৩ কেভি রহমান নগর এবং ৩৩ কেভি বনানী ফিডারসমূহের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে নেসকো কর্তৃপক্ষ জরুরি নির্মাণকাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে।

আরও পড়ুন: পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়

অন্যদিকে, রাজশাহীর কিছু এলাকায় শনিবার পর্যায়ক্রমে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। নেসকো রাজশাহীর বিমানবন্দর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিদ্যুৎ লাইনের নিকটবর্তী গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের জন্য ১১ কেভি বাগধানী ফিডারের আওতাধীন দুয়ারি, কুমড়াপুকুর ও বাগসারা এলাকায় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা এবং তেঘর থেকে বাগধানী এলাকা পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

যদি নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার জন্য সাময়িক এই অসুবিধার জন্য নেসকো কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে

মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে দোকানপাট ও মার্কেটে প্রবেশ করে। কিন্তু যদি তারা তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে দেখে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে তাদের প্রচেষ্টা বিফলে যাবে। তাই, আসুন জানি শনিবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে

শহরের বিভিন্ন স্থান যেমন শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, চানখাঁরপুল এইসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানশন এইসব মার্কেটগুলোও শনিবার বন্ধ থাকবে।

যে দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে

শিশু একাডেমি জাদুঘর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি পালন করে। আগামীকাল রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল রূপান্তরের পথে বেরোবির লাইব্রেরি: নতুন বই, বিশ্বমানের ই-জার্নালের সাথে চালু হচ্ছে অটোমেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৫ এম


ডিজিটাল রূপান্তরের পথে বেরোবির লাইব্রেরি: নতুন বই, বিশ্বমানের ই-জার্নালের সাথে চালু হচ্ছে অটোমেশন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে লাইব্রেরিতে অটোমেশন, ই-রিসোর্স বৃদ্ধি, নতুন বই সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিটাল ও ই-রিসোর্স সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের ই-বুকস ও ই-জার্নালের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকাশনার (JSTOR এবং Emerald) ই-জার্নাল ক্রয় করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ডাউনলোড ও পড়তে পারছেন।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রকাশনার প্রায় ৩০,৭০০ শিরোনামের ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার ই-বুকস ও ই-জার্নাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে অটোমেশনের প্রাথমিক ধাপের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

নতুন বই সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যচাহিদা পূরণে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয় করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে রিডিং রুমে পাঠের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব বই লাইব্রেরি সংগ্রহে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা:

শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইব্রেরি ভবনের পশ্চিমাংশে আউটডোর রিডিং জোনে উভয়মুখী বসার বেঞ্চ ও টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের বসার ব্যবস্থা করার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও (স্টাফদের) যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ভবনের বাইরে গাড়ি রাখার জন্য একটি গ্যারেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইনডোর ও আউটডোর উভয় জোনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাবনা:

লাইব্রেরির এই আধুনিকায়ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, লাইব্রেরিতে JSTOR এবং Emerald-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ই-জার্নাল যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। আগে গবেষণার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভালো আর্টিকেল বা বই আমরা পেতাম না। এখন ক্যাম্পাসের আইপি ব্যবহার করে খুব সহজেই এগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারছি। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনে বসার সুন্দর ব্যবস্থা ও নতুন ওয়াশরুমের সুবিধা দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ স্বস্তি দেবে।

একই বিষয়ে নাম প্রকায় না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ও গবেষণা। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে এভাবে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিপুল পরিমাণ ই-বুক ও ই-জার্নাল সংযোজন শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। একই সাথে নতুন বইয়ের সংযোজন এবং লাইব্রেরির অটোমেশন প্রক্রিয়া শিক্ষক ও গবেষকদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।


অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম:

আর্কাইভস সেকশনকে সমৃদ্ধ করতে ২০১১ সাল থেকে অদ্যাবধি বাছাইকৃত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পত্রিকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাঁধাইকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি লাইব্রেরি ভবনের ৩য় তলার আংশিক সম্প্রসারণের কাজও খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এসব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সিংহভাগই ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের ‘বন্ধু’ তুরস্ককে কেন কাছে টানছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ এম


পাকিস্তানের ‘বন্ধু’ তুরস্ককে কেন কাছে টানছে ভারত

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার পরও ভারত তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের দরজা বন্ধ করতে চায় না। বরং, নয়াদিল্লি মাদক পাচার দমন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী। এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। ভারত তুরস্কের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখে ইসলামী বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠতা ভারতের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বারবার পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। সর্বশেষ, গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। এর জবাবে ভারত জানিয়ে দেয়, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো পক্ষের ভূমিকা নেই।

তবে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্র বিদ্যমান। সম্প্রতি, তুরস্ক থেকে মাদক পাচারকারী নাভপ্রীত সিংকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে—রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও অপরাধ দমন ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারে তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যু ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠতা দুই দেশের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করলেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের কারণে সহযোগিতার সুযোগ ধরে রাখতে চায় উভয় পক্ষ।

কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ

ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাধা কাশ্মীর ইস্যু। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে এরদোয়ান এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। পাকিস্তান কাশ্মীর বিরোধের সমাধানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায়। তুরস্কও বিভিন্ন সময়ে এ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ভারত বলছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপক্ষীয় বিষয়।

২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে এরদোয়ান সরব হন। ২০২০ ও ২০২১ সালেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, কাশ্মীরসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব বিরোধ জাতিসংঘ সনদ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিষয়ে বাইরের কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেয় তুরস্ক। মক্কা চুক্তি নামে পরিচিত এ সমঝোতা ভারতের উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর ফলে তুরস্কের উন্নত ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি পাকিস্তানের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীরা আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ও সামরিক-শিল্প সহযোগিতা পর্যালোচনা করছেন। বিশেষ করে উন্নত ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার বিষয়ে নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

এ চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযান নিয়েও তুরস্ক বা সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। অপারেশন সিঁদুরের মতো অভিযানের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত জানিয়েছে, তিন দেশের এই সমঝোতার ওপর নজর রাখছে তারা। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি। এদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন কৌশলগত সমীকরণের মধ্যে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের সহযোগিতা একটি পাল্টা ভারসাম্য তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অপরাধ দমনে সহযোগিতা

রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের একটি কার্যকর ক্ষেত্র হলো অপরাধ দমন। সম্প্রতি, পলাতক মাদক পাচারকারীদের ভারতে ফেরাতে সহযোগিতা করেছে তুরস্ক। তাদের মধ্যে সেলিম ডোলার মতো আলোচিত অপরাধীও রয়েছেন।

ভারতীয় সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব ব্যক্তি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্র পরিচালনা করতেন। আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হেরোইন ও কৃত্রিম মাদক ভারতে পাচারের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোসহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের খুঁজছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০১ সালে ভারত ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পলাতক ব্যক্তিদের জাল নথি ও ভুয়া বিদেশি নাগরিকত্বের পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও ব্যবহার করা হয়। এর ভিত্তিতে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য করা বিনিয়োগসংক্রান্ত আবেদন আটকে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে।

তুরস্কের জন্যও মাদক পাচার দমন গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অপরাধ দমন তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।

চার বছর পর আবার আলোচনা

সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও চলতি বছরের এপ্রিলে চার বছর বন্ধ থাকার পর দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের আলোচনা আবার শুরু হয়। তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনচি ভারতে গিয়ে বৈঠকে অংশ নেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিমবিষয়ক সচিব সিবি জর্জের সঙ্গে যৌথভাবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জ্বালানি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় আসে।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুক্তেশ পারদেশি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে বলেন, ‘আমরা মনে করি, কথা না বলে মতবিরোধ ও ভুল-বোঝাবুঝি আরো বাড়ানোর চেয়ে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া ভালো। আর আলোচনাগুলো সন্তোষজনক হয়েছে।’

ভারতে তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার পর আঙ্কারা এশিয়ায় নিজেদের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব থেকে আলাদা রাখার উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে ভারতকে আশ্বস্ত করে তুরস্ক জানায়, দুই দেশের মধ্যে মৌলিক কোনো দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নেই।

ভারতের কাছে তুরস্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ

তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে ভারতের সামনে কয়েকটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি হয়। প্রথমত, এর মাধ্যমে ইসলামী বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পায় নয়াদিল্লি। দ্বিতীয়ত, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতাও দুই দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তুরস্কের জন্যও অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা এনে দিতে পারে।

ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আঙ্কারার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটছে না নয়াদিল্লি। কাশ্মীর ও প্রতিরক্ষা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্কের কার্যকর ক্ষেত্রগুলো ধরে রাখতে চাইছে ভারত।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক কাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ এম


জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক কাল

পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের তারিখ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে আগামীকাল রবিবার (১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা।

এ তথ্যটি শনিবার (১০ অক্টোবর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা। সভার সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

এদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যে, যদি বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য।

চাঁদ দেখার তথ্য জানাতে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও চাঁদ দেখার তথ্য জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%