০৯:০৩ পি.এম
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় অধস্তন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে (ডেথ রেফারেন্স) এবং এ সংক্রান্ত আপিলের দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আলাদা বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন।
আজ বুধবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠন করা এ বেঞ্চটি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষরিত গঠনবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হবে।
আরও পড়ুন: সিজেপির দুই মুখপাত্র এক সপ্তাহ পর মুক্তি
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, অধস্তন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা কার্যকরে উচ্চ আদালতের অনুমোদন এবং শুনানি অনুষ্ঠিত হতে হয়। এজন্য অধস্তন আদালতের রায়ের অনুলিপি ও মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হলে এটি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যায় এবং শুনানির জন্য পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত করা হয়। অপরদিকে, কারাগারে থাকা আসামি হাইকোর্টে আপিল বা জেল আপিল করার সুযোগ পান।
সুপ্রিমকোর্টের গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া মামলাগুলোর শুনানির জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগে পাঁচ বছরের বেশি। বর্তমানে হাইকোর্টের পৃথক চারটি বেঞ্চে ২০১৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া কিছু ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলমান রয়েছে বলে সুপ্রিমকোর্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ৭ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের পর এই রায় দ্রুত কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। রামিসার মতো এ ধরনের ঘটনার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি সব মহল থেকে ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলও উল্লেখ করেছেন, রামিসার মতো নৃশংস হত্যার ঘটনার বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা (ডেথ রেফারেন্স ও আপিল) শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন: ‘ভাই ফটো তুললেন না, বিজিবি দেখলে বিপদ’
এই বিশেষ বেঞ্চ আগামী রবিবার থেকে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন