ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারী-শিশু নির্যাতনের মামলার ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ


নারী-শিশু নির্যাতনের মামলার ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় অধস্তন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে (ডেথ রেফারেন্স) এবং এ সংক্রান্ত আপিলের দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আলাদা বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন।

আজ বুধবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠন করা এ বেঞ্চটি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষরিত গঠনবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন: সিজেপির দুই মুখপাত্র এক সপ্তাহ পর মুক্তি

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, অধস্তন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা কার্যকরে উচ্চ আদালতের অনুমোদন এবং শুনানি অনুষ্ঠিত হতে হয়। এজন্য অধস্তন আদালতের রায়ের অনুলিপি ও মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হলে এটি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যায় এবং শুনানির জন্য পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত করা হয়। অপরদিকে, কারাগারে থাকা আসামি হাইকোর্টে আপিল বা জেল আপিল করার সুযোগ পান।

সুপ্রিমকোর্টের গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া মামলাগুলোর শুনানির জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগে পাঁচ বছরের বেশি। বর্তমানে হাইকোর্টের পৃথক চারটি বেঞ্চে ২০১৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া কিছু ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলমান রয়েছে বলে সুপ্রিমকোর্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত ৭ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের পর এই রায় দ্রুত কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। রামিসার মতো এ ধরনের ঘটনার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি সব মহল থেকে ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলও উল্লেখ করেছেন, রামিসার মতো নৃশংস হত্যার ঘটনার বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা (ডেথ রেফারেন্স ও আপিল) শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: ‘ভাই ফটো তুললেন না, বিজিবি দেখলে বিপদ’

এই বিশেষ বেঞ্চ আগামী রবিবার থেকে কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যারেজ মালিককে জিম্মি করে অটোরিকশার ৮০টি ব্যাটারি লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


গ্যারেজ মালিককে জিম্মি করে অটোরিকশার ৮০টি ব্যাটারি লুট

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজে ভয়াবহভাবে ডাকাতির একটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নেওয়া হয়েছে এবং ১৬টি অটোরিকশার প্রায় ৮০টি ব্যাটারি লুট করে নেয় একদল দুর্বৃত্ত।

বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে উপজেলার আড়াইওড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গ্যারেজ মালিকের নাম মো. মবিন মিয়া।

গ্যারেজ মালিক মবিন মিয়া এই সম্পর্কে জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল টিনের বেড়া টপকে তার গ্যারেজে প্রবেশ করে। তারা ভেতরে ঢুকেই তাকে জাপটে ধরে হাত-পা বেঁধে দেয়। এই সময় দুর্বৃত্তরা তার মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে চিৎকার না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

তিনি আরো জানান, এরপর দুর্বৃত্তরা একে একে ১৬টি অটোরিকশা থেকে প্রায় ৮০টি ব্যাটারি খুলে নেয়। যাওয়ার সময় তারা গ্যারেজে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার সব যন্ত্রপাতিও লুট করে নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা যাওয়ার পর তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় দুই মাস আগে একই এলাকার আরেকটি গ্যারেজ থেকেও ১৫ থেকে ১৬টি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বা জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অপরাধীরা পুনরায় এ ধরনের দুঃসাহস দেখিয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

বুধবার সকালে মবিন মিয়া কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ জ্যাকুলিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ জ্যাকুলিন

২০০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বলিউডের অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা চ্যালেঞ্জ করেই এই আবেদন করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের কাছ থেকে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ একাধিক দামি উপহার গ্রহণ করেছেন। মামলাটি বর্তমানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তদন্তাধীন রয়েছে।

এর আগে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রশান্ত শর্মা ৩০ মে এক নির্দেশের মাধ্যমে জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইডি-র জমা দেওয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। আদালতের মতে, এ ধরনের কিছু প্রমাণ রয়েছে যা নিশ্চিত করে যে, তিনি অপরাধলব্ধ অর্থের সুবিধা পেয়েছিলেন এবং সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন।

এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জ্যাকুলিন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার তাঁর আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান। পরে বিচারপতি পি. কে. মিশ্র এবং বিচারপতি এ. এস. চন্দুরকরের বেঞ্চ মামলাটি শুনতে সম্মত হন।

আদালত এই মামলার শুনানির জন্য আগামী ১১ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাক-আফগান সীমান্তে কেন দফায় দফায় ঝরছে প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


পাক-আফগান সীমান্তে কেন দফায় দফায় ঝরছে প্রাণ

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় গত কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সবসময় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিয়ে দুই দেশই একে অপরের প্রতি পাল্টা অভিযোগ চালিয়ে যেত।

এর মধ্যে আফগান সীমান্তে একদিনেই দুবার ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে অন্তত ৩৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানি বিমান হামলায় কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, সীমান্তবর্তী চারটি লক্ষ্যবস্তুতে ‘পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট’ হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, এসব হামলায় ২৬ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গোলাবারুদের গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক পাকিস্তানে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সীমান্তের ওপারে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে পাকিস্তান সবসময় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চেয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আশ্রয় পায় এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হয়। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

কাবুল স্পষ্ট জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে না। একই সঙ্গে অন্য দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে পড়ে। পরে গত অক্টোবর মাসে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যার ফলে কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল।

তবে সর্বশেষ বিমান হামলার ঘটনায় সেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যে দুই দেশকে সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

উন্মুক্ত যুদ্ধ

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলা আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিকে ভেঙে দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে দুই দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।

বার্তা সংস্থা ডয়েচে ভেলে বলছে, ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদ ঘোষণা দেয় যে তারা কাবুলের সঙ্গে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, দেশটির ভেতরে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ার পেছনে আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দায়ী।

পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ সমস্যা সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

এর পর মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

এদিকে জাতিসংঘের গত মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।

উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক

আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্পেরা জেলায় একটি বাড়িতে হামলা চালানো হলে নয়জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হন।

প্রতিবেশী পাকতিকা প্রদেশে স্থানীয় বাসিন্দারা এএফপিকে জানান, বারমাল জেলায় আরেকটি হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সেখানকার এক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমান হামলাটি একটি বাড়িতে আঘাত হানে এবং নিহতদের মধ্যে শিশু ছিল।

বার্তা সংস্থা আলজাজিরা জানায়, এই হামলাগুলোর ঠিক একদিন আগে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার হাসান খেল এলাকায় সন্দেহভাজন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালানো হয়।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলার পর তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়, যাতে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির (পাকিস্তানের প্রধান আধা-সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) ছয় সদস্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

২০২১ সালে তালেবান দ্বিতীয়বারের মতো আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরো তীব্র আকার ধারণ করে।

সব মিলিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সর্বশেষ এই হামলা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসক-রোগী মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র চলছে: ডা. রফিকূল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


চিকিৎসক-রোগী মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র চলছে: ডা. রফিকূল ইসলাম

চিকিৎসকদের নিয়ে কটূক্তি, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং স্বাস্থ্যখাতকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানাতে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে চিকিৎসকরা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরের এই মানববন্ধনে বক্তারা স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা, জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি একেবারে গ্রহণযোগ্য বলে ব্যক্ত করেন।

মানববন্ধনে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "গঠনমূলক সমালোচনা আমরা স্বাগত জানাই। স্বাস্থ্যখাতে সমস্যা থাকলে তা নিয়ে আলোচনা হোক, জবাবদিহি হোক, সংস্কার হোক।" কিন্তু উল্লিখিত মিথ্যা তথ্য, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, অপমানজনক ভাষা এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জনমনে ঘৃণা তৈরির প্রচেষ্টা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চিকিৎসকদের বিপক্ষে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চলছে কি না, তার খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও এর পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী বা বহিঃশক্তির সুবিধা জড়িত আছে কি না তা নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

ডা. রফিকূল ইসলাম বলেন, "২০২৩ সাল পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী একটি দেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশিদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে সেই ব্যবসার ক্ষেত্রে ধস নেমেছে। তাই চিকিৎসকদেরকে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা চলছে কি না, সেটি তদন্তের দাবি রাখে।"

তিনি আরও বলেন, "স্বাস্থ্যখাতকে দুর্বল করা মানে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিকে দুর্বল করা। চিকিৎসক ও রোগীকে প্রতিপক্ষ বানানো যাবে না। চিকিৎসক ও রোগী একই পক্ষের মানুষ। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই—মানুষের জীবন বাঁচানো।"

মানববন্ধনে অন্য বক্তারা সাংবাদিক মাসুদ কামালের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘৃণ্য, বিদ্বেষমূলক ও চিকিৎসক সমাজের জন্য অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। তারা তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে চিকিৎসক সমাজ ও জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায়, সরকারের কাছে এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান চিকিৎসক নেতারা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা না করেন।

ডা. রেজওয়ান তাহসিন সীমান্তের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএমইউর প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা, বিএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শফিউদ্দিন, রেডিওলজি ও ইমেজিং সোসাইটি সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মিয়া ওয়াহিদুজ্জামান, সোসাইটি অফ মেডিসিনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া আল আজিজ, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উপ প্রকল্প পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. লোহানী তাজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান নোমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. সামী আল হাসান ইমন, বিসিএস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা আসাদুজ্জামান রতন, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল, ডা. মমি আনসারীসহ অন্যান্য বক্তারা।

মানববন্ধনে অবস অ্যান্ড গাইনি সোসাইটি, সোসাইটি অব মেডিসিন, সোসাইটি অব রেডিওলজি, কার্ডিয়াক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইএনটি সোসাইটি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্স, সোসাইটি অব সার্জনসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সোসাইটির সদস্য এবং চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%