০১:৩৫ পি.এম
ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পশ্চিমা সমরাস্ত্রের সরবরাহ লাইন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে এবার আরো একধাপ আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে পুতিন বাহিনী। গত রাতে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী একটি বিদেশী সমুদ্রগামী কার্গো জাহাজে সরাসরি আঘাত হেনেছে রাশিয়ার নৌ ও বিমান বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোববার এক বিবৃতিতে এ সফল ও বিধ্বংসী হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সামরিক দফতরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রুশবাহিনী জানতে পারে যে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজের আড়ালে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে ইউক্রেনীয় নব্য-নাৎসি বাহিনীর জন্য ভারী অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আসা হচ্ছিল। জাহাজটি ইউক্রেনের একটি কৌশলগত বন্দরে নোঙর করার আগেই রুশ নৌবাহিনীর নির্ভুল গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন বহর এর ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালায়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজে থাকা ইউক্রেনীয় ফ্রন্টলাইনের জন্য বরাদ্দকৃত পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া বিপুল পরিমাণ সাঁজোয়া যান, রকেট এবং অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের যন্ত্রাংশ সাগরের বুকেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: নিউ ইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে যুক্ত হলো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দনবাস ও কুরস্ক অঞ্চলে তীব্র চাপের মুখে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য এ অস্ত্র সরবরাহ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রুশ হামলায় এ কার্গো জাহাজটি ধ্বংস হওয়ায় জেলেনস্কি বাহিনীর রসদ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ হামলার পর আবারও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে যারা এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায়, তাদের যেকোনো সামরিক কার্গো বা সরঞ্জামকে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে এবং তা ধ্বংস করা হবে’।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ কার্গো জাহাজে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেছে যে, জাহাজটি কোনো সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল না, বরং এটি একটি সাধারণ বেসামরিক শস্য বা বাণিজ্যিক পণ্যবাহী যান ছিল। তবে রাশিয়া এ দাবি নাকচ করে দিয়ে জাহাজে হওয়া সেকেন্ডারি বিস্ফোরণের (অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফাটার তীব্রতা) ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কৃষ্ণসাগরের এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ওই অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র : তাস।
আরও পড়ুন: শত্রুরা ফের হামলা চালালে সংঘাত কখন শেষ হবে ঠিক করবে ইরান: খামেনি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন