প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের রাজস্থানে এক জ্যেষ্ঠ আমলা ও তার পুলিশ কর্মকর্তা স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আইএএস কর্মকর্তা শিখর আগরওয়াল সরকারি পদ ব্যবহার করে একটি বেসরকারি হোটেল ও রিসোর্ট প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছেন। এর বিনিময়ে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে ৩৬টি রিসোর্ট ভিলা কিনেছেন।
এই ভিলাগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ রুপি। রাজস্থানের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি) এই অভিযোগের তদন্ত করছে। তদন্তে শিখর আগরওয়ালের সঙ্গে গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালকদের কথিত যোগসাজশ খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানটি ‘আনন্ত’ ব্র্যান্ডের অধীনে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট পরিচালনা করে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া, রিসোর্ট নির্মাণের শর্ত শিথিল করা, প্রয়োজনীয় সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করেই অনুমোদন দেওয়া এবং আগরওয়াল ও তার স্বজনদের নামে একাধিক সম্পত্তি কেনা। গত ২৭ অক্টোবর দৈনিক ভাস্করে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন, শিল্প বিভাগের দেওয়া তথ্য এবং গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থানের দুর্নীতি দমন ব্যুরো প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। রাজ্য সরকার বিস্তারিত তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে।
এসিবির মহাপরিচালক গোবিন্দ গুপ্ত জানিয়েছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর ১৭এ ধারায় শিখর আগরওয়াল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে। এসিবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ওই কর্মকর্তা কোম্পানির পরিচালকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাজ্য সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
উদয়পুরের জেলা প্রশাসক, রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিল্প বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আগরওয়ালের কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এসিবি খতিয়ে দেখছে, এসব দায়িত্বে থাকাকালে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেড এমন সুবিধা পেয়েছিল কি না, যা সাধারণভাবে প্রতিষ্ঠানটির পাওয়ার কথা ছিল না। একই সঙ্গে ওই সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে পরবর্তী সময়ে আগরওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রিসোর্টের ভিলা কেনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।
গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেড ‘আনন্ত’ ব্র্যান্ডের অধীনে উদয়পুরের বুজড়া এবং আলওয়ারের আজবগড় এলাকায় হোটেল ও রিসোর্ট পরিচালনা করে। এই দুই এলাকার রিসোর্টেই আগরওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ভিলা কেনার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উদয়পুরের বুজড়ায় গত মার্চে ২০টি ভিলা কেনা হয়। এর মধ্যে ১০টি আগরওয়ালের নামে এবং বাকি ১০টি তার স্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তা প্রশাখা মাথুরের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে। প্রতিটি ভিলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ রুপি। সে হিসাবে ২০টি ভিলার মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি রুপি।
অন্যদিকে, আলওয়ারের আজবগড় এলাকায় আনন্ত রিসোর্টে আরও ১৬টি ভিলা কেনার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা। প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে আটটি ভিলা আগরওয়াল ও তার স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের নামে চারটি করে ভিলা নিবন্ধন করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের দুই ছেলের নামে চারটি এবং আগরওয়ালের শ্বশুর-শাশুড়ির নামে আরও চারটি ভিলা কেনার অভিযোগ রয়েছে।
আজবগড়ের ভিলাগুলোর দাম প্রায় ১৫ লাখ থেকে সাড়ে ১৬ লাখ রুপির মধ্যে। আগরওয়াল ও তার স্ত্রীর নামে কেনা আটটি ভিলার প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে সাড়ে ১৬ লাখ রুপি। দুই ছেলের নামে নিবন্ধিত চারটি ভিলার প্রতিটির দাম প্রায় ১৫ লাখ রুপি। আর শ্বশুর-শাশুড়ির নামে কেনা চারটি ভিলার প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ রুপি।
সব মিলিয়ে উদয়পুরের বুজড়ায় ২০টি এবং আলওয়ারের আজবগড়ে ১৬টিসহ দুই এলাকায় মোট ৩৬টি ভিলা কেনার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। উল্লেখিত ক্রয়মূল্য সঠিক হলে এসব সম্পত্তির মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ রুপি। এসিবি জানিয়েছে, গত ২৭ মার্চ গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডকে বিশেষ আর্থিক ছাড়ের প্যাকেজ দিয়েছিল রাজস্থানের অর্থ বিভাগ। তদন্তকারীরা আরও তথ্য পেয়েছেন, একই দিনে আগরওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২০টি ভিলা নিবন্ধন করা হয়েছিল। এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন