ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সৌদি আরবে ঘন কুয়াশা ও বজ্রবৃষ্টির কারণে ‘রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি


সৌদি আরবে ঘন কুয়াশা ও বজ্রবৃষ্টির কারণে ‘রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা এবং মাঝারি থেকে ভারি বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে রেড এন্ড অরেঞ্জ সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)।

রোববার (১ নভেম্বর) এনসিএমের পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রেড অ্যালার্টের অর্থ হলো গুরুতর আবহাওয়াজনিত বিপদের সতর্কতা, যেখানে অরেঞ্জ অ্যালার্ট নির্দেশ করে সম্ভাব্য বিপজ্জনক আবহাওয়ার আগাম সতর্কতা।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দুটি লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে কুয়াশার জন্য কমলা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায়

এছাড়া, নর্দার্ন বর্ডার, হাইল, মক্কা, আসির, আল-বাহা এবং জাজান অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া কেন্দ্র জানায়, জাজান, আসির, আল-বাহা, মক্কা, মদিনা, হাইল এবং নর্দার্ন বর্ডারের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব অঞ্চলের পাশাপাশি রিয়াদ এবং আল-কাসিমের কিছু এলাকায় ধুলা ও বালুজড় সৃষ্টিকারী প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে। ভারি বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

আরও পড়ুন: মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫, বিক্ষোভ অব্যাহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবেলায় নতুন কড়াকড়ি কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ পি.এম


দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবেলায় নতুন কড়াকড়ি কার্যকর

ভারতের রাজধানী দিল্লির বাতাসের গুণগত মান বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক পরিচিতি লাভ করেছে। বায়ুমান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দিল্লির নাম প্রায়শই নেতিবাচক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। আজ, ১ নভেম্বর, দিল্লির বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্তরে পৌঁছেছে।

আজ সকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির সামগ্রিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বিভিন্ন স্থানে ২৪৮ থেকে ৩৮১-এর মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাতাসে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

শীতকালে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শীতকালীন বায়ুদূষণ মোকাবেলায় দিল্লি-এনসিআর এলাকায় কঠোর নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। আজ ১ নভেম্বর থেকে শুরু করে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। কর্তৃপক্ষ আগামী মাসগুলোতে ধোঁয়াশা কমাতে এবং বাতাসের গুণগত মান উন্নত করতে এই কঠোর পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে।

বর্তমান আবহাওয়া দিল্লিতে অত্যন্ত শুষ্ক এবং শান্ত। শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে তাপমাত্রার বিপরীতমুখী অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ধোঁয়া, ধূলিকণা এবং গাড়ির ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসের ওপরের স্তরে মিশে যেতে না পেরে দিল্লির আকাশকে ঢেকে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির এই তীব্র দূষণের প্রায় ৪১ শতাংশ অতিরিক্ত যানবাহন নির্গমন থেকে আসে। এছাড়া, ধুলোবালি (২১.৫ শতাংশ), শিল্প-কারখানার ধোঁয়া (১৮.৬ শতাংশ) এবং আশেপাশের রাজ্যগুলোতে ফসলের অবশিষ্টাংশ বা খড় পোড়ানো পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দূষিত বাতাসের কারণে বাসিন্দাদের চোখ, বুক এবং গলায় জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অ্যাজমা রোগীদের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বায়ুমান রক্ষায় দিল্লির মুখমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরনো গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ করা, বাসা থেকে কাজ করা, নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত যেসব যানবাহন ভারত স্টেজ-৬ (বিএস-৬) নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে না, সেগুলোর জাতীয় রাজধানীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ এবং গাজিয়াবাদ থেকে আসা আনুমানিক ১০ লাখ পুরোনো পেট্রোল ও ডিজেল চালিত যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে বৈদ্যুতিক যানবাহন, সিএনজিচালিত যানবাহন এবং জরুরি পরিবহন যেমন অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের জন্য এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ধূলিকণা তৈরি করে এমন সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ এবং ঘরের বাইরের নির্মাণ কার্যক্রম ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে কিছু নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় জনমুখী অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে। ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণ মানদণ্ড মেনে ঘরের ভেতরের ফিনিশিং, প্লাম্বিং এবং ইলেকট্রনিক্সের কাজ এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোকে তাদের অর্ধেক কর্মী সশরীরে অফিসে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবাগুলোকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।

যানজটের চাপ কমাতে বিভিন্ন নাগরিক সংস্থার অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অফিসগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

অন্যদিকে, দিল্লি সরকারের অফিসগুলো সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এছাড়া, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে অনেক পাবলিক লটে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং সুবিধাগুলো এই ফি বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির পেট্রল পাম্পগুলোতে ‘নো পিইউসি (পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট), নো ফুয়েল’ নীতি কার্যকর হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য দিল্লির ৫০০টি পেট্রল পাম্পে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা গাড়ির নম্বর প্লেট ও তথ্য স্ক্যান করবে। যদি কোনো যানবাহনের পিইউসি সার্টিফিকেট বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ অবৈধ পাওয়া যায়; তবে পাম্প অপারেটর পেট্রল, ডিজেল বা সিএনজি দিতে অস্বীকৃতি জানাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম, অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা এবং একটি এআই-চালিত ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার নিয়োজিত থাকবে। নিয়ম অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ই-চালান ইস্যু করা হবে।

প্রতিবেশী শহর এবং দিল্লির মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের তাদের যানবাহনের নির্গমন মানদণ্ড পরীক্ষা করার এবং ভারী জরিমানা বা সীমান্ত চেকপয়েন্ট থেকে ফেরত পাঠানো এড়াতে আগে থেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও বাসিন্দাদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। নিয়মিত আপডেটের জন্য যাত্রীদের দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলগুলো চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : গির্জার বাইরের একটি স্থানে বসে সারধাদেবী থাদচানামূর্তি হাতে লেখা চার পৃষ্ঠার তালিকা থেকে একে একে নামগুলো উচ্চারণ করেন। তালিকায় শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া ১২৪ জন স্বামী, বাবা ও ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বাট্টিকালোয়া থেকে এএফপি জানায়, ষাটের কোঠায় থাকা এই তামিল নারী এরপর একটি প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে নেন। তিনি আরও তিনজনের সঙ্গে যোগ দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ব্যস্ত শহর বাট্টিকালোয়ার সড়কে ‘ন্যায়বিচারের দাবিতে পদযাত্রা’ শুরু করেন। নিখোঁজ স্বজনদের পরিণতি জানার জন্য তাদের এই ধারাবাহিক প্রতিবাদ রবিবার ছিল টানা ১ হাজার ৬০৪তম দিন।

১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের যুদ্ধ চলে। তামিলরা দেশটির প্রধানত হিন্দু ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হন, যাঁদের মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) হাতে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন, অপহৃত হন, নির্যাতনের শিকার হন অথবা নিহত হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ১৫ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও নিখোঁজদের অধিকাংশের পরিণতি এখনো অজানা।

অভিযোগ, আদালতে আবেদন, প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সরকারের বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি, কোনোটিই এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।

‘তাকে আর কখনো দেখিনি’

থাদচানামূর্তির জীবনের ঘটনা যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে উত্তর খুঁজতে পরিবারগুলোর দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। ১৯৯২ সালের জুলাইয়ে তার ৩৪ বছর বয়সী স্বামী নাল্লাথাম্বির গুলিবিদ্ধ মরদেহ তাদের কৃষিজমিতে পাওয়া যায়। তার মাথায় গুলি করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, একজন সেনাসদস্য তাকে হত্যা করেছেন। স্বামীকে হত্যার অভিযোগ নিয়ে স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে যান। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিল, “আপনি যদি বলেন আপনার স্বামীকে একজন সেনাসদস্য হত্যা করেছে, তাহলে তারা আর কখনো তাঁকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেবে না।”'

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি। স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করি এবং ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ পাই, যা বর্তমান বিনিময় হারে ১৫১ ডলার। এরপর তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়।’

২০০০ সালের জানুয়ারিতে তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে নাভানীথান নিখোঁজ হন। থাদচানামূর্তির বিশ্বাস, তামিল বিদ্রোহীরা নিজেদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তাঁকে অপহরণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘তাঁকে আমি আর কখনো দেখিনি। ২০১৬ সালে আমি কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিষয়ে তথ্য চেয়ে আবেদন করি। জবাবে তারা জানায়, তার পরিণতি অজানা। আমাকে শুধু নিখোঁজ হওয়ার একটি সনদ দেওয়া হয়েছিল, সত্যটা নয়।’

লক্ষ্মী সিলভার অভিজ্ঞতাও খুব বেশি ভিন্ন নয়। ১৯৯০ সালের জুলাইয়ে কলম্বো যাওয়ার পথে বাসে থাকা অবস্থায় তার স্বামী নিখোঁজ হন। একটি চেকপোস্টে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। লক্ষ্মী বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাকে বলেছিলেন, তারা “টাইগার” ছিল।’ তিনি তামিল বিদ্রোহীদের বোঝাতে এ শব্দ ব্যবহার করেন।

পুলিশ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে তাঁর করা আবেদনগুলোর কোনো জবাব মেলেনি। যাঁদের কাছে তিনি গিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে ঝামেলা না বাড়ানোর পরামর্শ দেন। ১৯৯৪ সালে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তার স্বামীর মৃত্যু সনদ দেন। সেখানে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল ‘অজ্ঞাত’। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ষাটের কোঠায় থাকা লক্ষ্মী সিলভা স্বীকার করেন, ‘আমি এখন আর মনে করি না যে তিনি ফিরে আসবেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন আমি শুধু সন্তানদের জন্য বেঁচে আছি।’ তবে অন্যরা এখনো নীরবতা মেনে নিতে রাজি নন।

৬১ বছর বয়সী রাজেশ্বরী চিত্রাভাদিভেল বলেন, ‘আমি সব সময় আশা ধরে রেখেছি।’ তার দেয়ালে কয়লা দিয়ে আঁকা গোঁফওয়ালা এক হাস্যোজ্জ্বল পুরুষের প্রতিকৃতি ঝুলছে। ছবিতে স্ত্রী ও মেয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেনাকাটা করতে গিয়ে মুখোশধারী ব্যক্তিদের হাতে অপহৃত হওয়ার পর থেকে রাজেশ্বরীর স্বামী নিখোঁজ।

১৯৯৮ সালে কর্তৃপক্ষ তাকে একটি মৃত্যু সনদ দেয়। এর দুই বছর পর রেড ক্রস তাকে শনাক্ত করার জন্য এক ব্যক্তির মরদেহ দেয়। সংস্থাটি জানায়, সেটি তার স্বামীর মরদেহ হতে পারে। রাজেশ্বরী বলেন, ‘মরদেহটি চেনার উপায় ছিল না। তাই আমি এখনো বিশ্বাস করি।’

এ ধরনের ঘটনার বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের দাবিতেই নারীরা প্রতিদিন প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এ আন্দোলনের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ‘মাদার্স অব দ্য প্লাজা দে মায়ো’ আন্দোলনের মিল রয়েছে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত দেশটির সামরিক স্বৈরশাসনের সময় নিখোঁজ হওয়া সন্তানদের পরিণতি জানতে ওই নারীরাও বছরের পর বছর বিক্ষোভ করেছিলেন।

‘এক গভীর নীরবতা’

নিয়মিত পদযাত্রায় অংশ নেওয়া আন্দোলনকর্মী সারালা ইমানুয়েল বলেন, ‘আমরা গোপনে আশা করেছিলাম, হাজার হাজার মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। কিন্তু স্পষ্টতই তা ঘটেনি।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু কিছুই বদলায়নি, এখনো এক গভীর নীরবতা বিরাজ করছে।’

২০০৯ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে শ্রীলঙ্কার নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘ ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধকালীন অপরাধ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ২০২৪ সালে অনুরা কুমারা দিসানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।

দেশটির প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট তার নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, নিখোঁজ হওয়া এবং হামলার’ তদন্ত এবং একটি স্বাধীন জাতীয় কৌঁসুলি দপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দুই বছর পর গত সেপ্টেম্বরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে সরকার ‘দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর জরুরি প্রয়োজন’ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে।

প্রস্তাবিত স্বাধীন কৌঁসুলি দপ্তর সম্পর্কে এএফপির প্রশ্নের জবাব দেয়নি শ্রীলঙ্কার আইন মন্ত্রণালয়। তামিল বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রাসামানিক্কাম আর. শানাকিয়ান বলেন, ‘দুয়েকটি আলোচিত মামলায় কিছু তদন্ত হচ্ছে বলে মনে হয়। কিন্তু জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো অগ্রগতিই নেই।’

তিনি বলেন, ‘পরপর আসা সরকারগুলো কোনো পদক্ষেপ নিতে ভয় পায়।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশটির অধিকাংশ মানুষ সিংহলি বৌদ্ধ এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, ‘তারা জানে, এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই ফিরে আসবে।’

‘জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন’

২০১৮ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিণতি নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়ে সরকার নিখোঁজ ব্যক্তিবিষয়ক দপ্তর (ওএমপি) প্রতিষ্ঠা করে। দপ্তরটির হিসাবে, তাদের কাছে বর্তমানে ২২ হাজার নিখোঁজের মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের হিসাবে এ সংখ্যা এক লাখ পর্যন্ত হতে পারে। গত তিন বছরে দপ্তরটি মাত্র ২৪ জনের সন্ধান পেয়েছে।

দপ্তরটির সদস্য মিরাক রহিম স্বীকার করেন, ‘যেসব পরিবার দুই, কখনো কখনো তিন দশক ধরে অপেক্ষা করছে, তাদের জন্য এটা স্পষ্ট যে কাজ যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক নথি হারিয়ে গেছে এবং মানুষ নিজেদের স্মৃতি থেকে ঘটনাগুলো পুনর্গঠন করেছে।’

ক্লান্ত হলেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাদচানামূর্তি পদযাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা টাকা চাই না, শুধু সত্য ও ন্যায়বিচার চাই। আমাদের দুর্ভোগের ভার পরবর্তী প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দিতে আমি রাজি নই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবচরে জামায়াত নেতার বসতঘর ভাঙচুর, ক্ষুব্ধ কয়েকশ নারী-পুরুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


শিবচরে জামায়াত নেতার বসতঘর ভাঙচুর, ক্ষুব্ধ কয়েকশ নারী-পুরুষ

 

মাদারীপুরের শিবচরে তাইজুল ইসলাম নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্র হয়ে তার বসতঘরটি ভাঙচুর করেন।

তাইজুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা। সম্প্রতি তাকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার এমন কর্মকাণ্ডে গ্রামের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার সকালে কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্র হয়ে তাইজুল ইসলামের বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন। তবে এ ঘটনায় বাড়িটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিবচর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারী তার স্ত্রী বলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন তাইজুল ইসলাম।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বসতঘর ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


মধুপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ

দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে মধুপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মধুপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা সুমি এবং সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবকদের দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে যুব ঋণের চেক বিতরণ, প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে সনদপত্র প্রদান এবং নতুন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা কাজে লাগিয়ে তরুণ-যুবকরা নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%