০৭:৫৪ পি.এম
চট্টগ্রামে উপকূলে যথেষ্ট ইলিশ ধরা পড়ার পরও দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। এর ফলে ক্রেতাদের বাধ্য হয়ে ইলিশ না কিনেই বাজার থেকে ফিরতে হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, জেলেদের জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব বাজারে পড়ছে।
নগরীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ মাছের দাম প্রতিকেজি ৯০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। একই সময়ে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা এবং দেড় কেজির বেশি ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ মাছের দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
অথচ চট্টগ্রামের উপকূলে গত মাসে প্রায় ৩৫ লাখ ইলিশ ধরা পড়েছে, কিন্তু তাতেও বাজারে দাম কমেনি। ইলিশ ধরা পড়ার কোন প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে না। বাজারে এখনও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে এই ইলিশ। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূল ও নদী থেকে ১ হাজার ৫৭২ টন ইলিশ ধরা পড়েছে, যা সংখ্যাতেও ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৮টির মতো।
আরও পড়ুন: ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নবাসীর আমৃত্যু সেবক হয়ে কাজ করতে চান,চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নাসির মিয়া
প্রধানভাবে চট্টগ্রাম নগরের উপকূলে এবং সীতাকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেলে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে। মোট আহরণের প্রায় ৮০ শতাংশই সাগরের ইলিশ। গত মাসে সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি ইলিশ আহরণ করা হয়েছে, যা ১০৩ মেট্রিক টনেরও বেশি। জুলাইয়ে আহরিত মোট ইলিশের দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে।
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা মোড়ের ক্রেতা ইরশাদুল আলম বলেন, ক্রেতারা ইলিশের বিভিন্ন ফালি সাজিয়ে রাখছেন, কিন্তু দাম অত্যधिक। দাম দেখে না কিনেই চলে যাচ্ছি। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, 'এখন মাছ আহরণ করা হচ্ছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। সামনে আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ মাছ ধরা পড়বে, তখন দাম কিছুটা কমবে। তবে বর্তমানে জেলেদের জ্বালানি তেলসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই দামও বেশি।'
নগরীর রানি রাসমণি ঘাটের খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, সেখানকার প্রতি মণ ইলিশ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাম রাখা হচ্ছে। ঘাটে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬২০-৬৪০ টাকা। পরিবহন, আড়তদারি এবং অন্যান্য খরচের জন্য খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। জেলেদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, এই মুহূর্তে অমাবস্যার জো চলছে। এ সময় সাগর ও নদীতে মাছের চলাচল ও আহরণের সুযোগ বাড়ছে, তাই জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ পাচ্ছেন। তবে বর্তমানে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার আকার ছোট এবং ৫০০ গ্রামও হবে না। এমন ইলিশের দামও কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা ও জেলেরা বলছেন, ইলিশ আহরণ করতে খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলসহ নৌকা পরিচালনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মাছ ধরতে বেশি ব্যয় হচ্ছে আগে থেকে। তাই আহরিত ইলিশ বাজারে বিক্রি করতে সেই বাড়তি খরচ দামেও যুক্ত হচ্ছে। চলতি মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জেলেদের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন আলফাডাঙ্গা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মিলন মোল্লা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন