১২:২৩ পি.এম
ইসরাইলকে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি। তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি তাঁরা প্রত্যাহার না করে, তাহলে তাঁদের ২০০০ সালের মতো অপমানজনক অবস্থায় পালাতে হবে।
আজ সোমবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর এক পোস্টে তিনি জানান, ইসরাইল যদি ‘আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব’ অব্যাহত রাখে, তখন তাদেরকে ‘অপমান ও পরাজয়ের’ মধ্যে দিয়ে বিতাড়িত করা হবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ‘তোমরা যদি নিজের পায়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে না সরে যাও, তাহলে ২০০০ সালের মহাকাব্য আবারও পুনরাবৃত্তি হবে। সেই সময়ে তোমরা এই ভূমি থেকে লজ্জাজনকভাবে পালিয়ে গিয়েছিলে। সিদ্ধান্ত এখন তোমাদের হাতে।’
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে নতুন কুঁড়ির ভার্চুয়াল উদ্বোধনে অংশ নিলেন নূরুল ইসলাম এমপি
লেবাননে প্রতি বছর ২৫ মে ‘মুক্তি দিবস’ পালন করা হয়। ২২ বছরের দখলদারিত্বের পর ২০০০ সালের এই দিনে ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
লেবানন সীমান্তে সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তোড়জোড়ের মাঝেও বৈরুত-তেল আবিব পরিস্থিতি আবার রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতির খসড়া চুক্তিকে উপেক্ষা করে ইসরাইলের বিমান হামলা লেবাননে অব্যাহত রয়েছে।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে, দখলকৃত লেবাননের মাটি ছাড়তে সাফ মানা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পাল্টা হুশিয়ারিতে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমও জানিয়েছেন, ইসরাইল সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ থামবে না।
কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনীতির টেবিলে শান্তির সুবাতাস থাকা সত্ত্বেও, লেবাননের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি বিপরীত। সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চললেও সাময়িক স্বস্তির আশা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
কিন্তু সব সমঝোতা ভেস্তে দিয়ে দক্ষিণ লেবানন, নাবাতিয়াহ এবং বেকা উপত্যকায় ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স, আইডিএফ কাছে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নারী ও শিশু সহ নতুন করে আরও বেশ কয়েকজন লেবানিজ প্রাণ হারিয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইলি আগ্রাসনে দেশে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা চার হাজার একশ ছাড়িয়েছে, যেখানে আহতের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলেও, নতুন করে বিমান হামলাগুলোর কারণে তাঁদের আবারও আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে।
এভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভেতরে আরেকবার আগুনে ঘি ঢেলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর চাপ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু পরিষ্কার জানিয়েছেন, উত্তর ইসরাইলের নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা ‘সিকিউরিটি জোন’ থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ প্রধান শেখ নাঈম কাসেম এক ভিডিও বার্তায় সংঘাতকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, লেবাননের মাটিতে ইসরাইলি সেনা উপস্থিতির কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং চুক্তি লঙ্ঘন করলে হিজবুল্লাহ তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন