মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৬ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর এক বৃদ্ধ নিজে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রসিকনগর বাবুপুর গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দম্পতি হলেন—মনোয়ারা বেগম (৬০) এবং তাঁর স্বামী মফিজুল হক (৭৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই মফিজুল হক ও মনোয়ারা বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেলে তাঁদের মধ্যে চরম কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মফিজুল হক ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ঘরের সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে মফিজুল হক নিজেও আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। মফিজুল হকের ছেলের স্ত্রী শাপলা বেগম একটি সামাজিক দাওয়াত শেষে বাড়ি ফিরে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ফ্যানের হুকে মফিজুল হকের ঝুলন্ত লাশ এবং মেঝেতে মনোয়ারা বেগমের নিথর দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, জোড়া মৃত্যুর এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও জেলার একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী এবং ব্যবসায়ী তোজাম্মেল হোসেন খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, তোজাম্মেল হোসেন খান দীর্ঘকাল ধরে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে উত্তরাঞ্চল একজন শক্তিশালী নেতৃত্বকে হারিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি তোজাম্মেল হোসেন খানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ তোজাম্মেল হোসেন খান আজ (শুক্রবার) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ টিকিয়ে রেখেছে বাঁশের চটা, মৃত্যুফাঁদে কালীগঞ্জের হাট ‘চাঁদনী’ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের প্রধান হাট চাঁদনীর নিত্যদিনের চিত্র হলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা ও কেনাকাটা। ১৯৮৮ সালে নির্মিত কাঁচাবাজারের ভবনটি এক যুগেরও বেশি সময় আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এর কার্যক্রম থেমে নেই।ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে প্রতিদিন শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা, নারী ও শিশুর পদচারণা লক্ষ্য করা যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়েই এখানে চলছে বেচাকেনা।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে গেছে রড।ভবনটি ধসে পড়া ঠেকাতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ছাদের নিচে বাঁশের চটা ও খুঁটি (প্যালা) দিয়ে কোনোমতে ঠেকনা দিয়েছেন। চাল, ডাল, মুদি দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের এই ব্যস্ত হাট চাঁদনীতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত ঘটে। ভবনের করুণ দশা না জেনেই অনেক ক্রেতা ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন।এর আগে ২০১০ সালে হাট চাঁদনীর ছাদের একটি অংশ ধসে অজয় কুমার নামে এক চাল ব্যবসায়ী নিহত হন।Q/ওই দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে ২০১৩ সালে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে এরপর দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় জীবিকার তাগিদে ব্যবসায়ীরা সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী অসিত কুমার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হই, কিন্তু রাতে জীবিত ফিরতে পারব কি না জানি না। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে ব্যবসা করছি।বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটা পর্যন্ত কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?’ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জানান, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশ্বাসও মিলেছে অনেক। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির বেড়াজালেই আটকে রয়েছে জনবহুল এই বাজারের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ।কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ইমদাদুল হক বলেন, ‘এটা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমি সরকার বা প্রশাসনের কাছে এটি পুনর্নির্মাণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’তিনি আরো বলেন, ‘একটি হকার্স মার্কেট বা এ জাতীয় কোনো মার্কেট দেওয়া গেলে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এলাকায় যাতে উন্নয়ন হয়, সে দিকটিও দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এই হাট চাঁদনীতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধস নামলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে সেখানে আধুনিক ও নিরাপদ বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। নতুন ভবন তৈরির পরিকল্পনা আছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম আলিফ আহমেদ চন্দন (২৪)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। আলিফ আহমেদ চন্দন পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মরুরা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে মিনিস্টার বলদিয়া কম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার সন্ধানে প্রায় সাত বছর আগে আলিফ সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণে সহযোগিতা করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে এসে তিনি বিয়ে করেন এবং ছুটি শেষে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান।বৃহস্পতিবার, আলিফ কম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।আলিফের বাবা আব্দুল হাই বলেন, ‘অনেক আশা-ভরসা নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। সে পরিবারের হাল ধরবে—এমন আশা ছিল। শুক্রবার বিকেলে মোবাইল ফোনে তার মৃত্যুর খবর পাই।FDSAআমার সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাই।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছাড়া দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।" তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। ফাইল ছবি।
তিনি আরও জানান, গণতন্ত্র কার্যকর করতে হলে দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, উৎসব পালনের স্বাধীনতা ও নিজ নিজ আচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
শুক্রবার সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।নাহিদ ইসলাম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "সম্প্রীতি নিশ্চিত করা ব্যতীত আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব না।" তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র সকল সম্প্রদায়ের জন্য এবং সবার স্বাধীনতা, উৎসবের স্বাধীনতা ও আচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
ইতিহাসেরবই পড়ুন
তিনি দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, "যারা সংখ্যায় কম কিংবা ধর্ম ও জাতিগতভাবে কম, তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন হয়েছে।" নাহিদ অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় রাষ্ট্র বা সরকার অনেক সময় নীরব থেকেছে। তিনি বলেন, "আমরা অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখেছি, এ দেশে যারা সংখ্যায় কম, ধর্মের দিক থেকে কিংবা জাতির দিক থেকে কম, তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্র বা সরকার চুপ ছিল।"
তিনি আরও বলেন, "অভ্যুত্থানের পরে বারবার বলে এসেছি, দেশে বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।" তিনি জানান, "আমরা এখনো সেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।"
নাহিদ ইসলাম ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ