প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ টিকিয়ে রেখেছে বাঁশের চটা, মৃত্যুফাঁদে কালীগঞ্জের হাট ‘চাঁদনী’ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের প্রধান হাট চাঁদনীর নিত্যদিনের চিত্র হলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা ও কেনাকাটা। ১৯৮৮ সালে নির্মিত কাঁচাবাজারের ভবনটি এক যুগেরও বেশি সময় আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এর কার্যক্রম থেমে নেই।ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে প্রতিদিন শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা, নারী ও শিশুর পদচারণা লক্ষ্য করা যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়েই এখানে চলছে বেচাকেনা।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে গেছে রড।ভবনটি ধসে পড়া ঠেকাতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ছাদের নিচে বাঁশের চটা ও খুঁটি (প্যালা) দিয়ে কোনোমতে ঠেকনা দিয়েছেন। চাল, ডাল, মুদি দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের এই ব্যস্ত হাট চাঁদনীতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত ঘটে। ভবনের করুণ দশা না জেনেই অনেক ক্রেতা ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন।এর আগে ২০১০ সালে হাট চাঁদনীর ছাদের একটি অংশ ধসে অজয় কুমার নামে এক চাল ব্যবসায়ী নিহত হন।Q/ওই দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে ২০১৩ সালে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে এরপর দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় জীবিকার তাগিদে ব্যবসায়ীরা সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী অসিত কুমার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হই, কিন্তু রাতে জীবিত ফিরতে পারব কি না জানি না। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে ব্যবসা করছি।বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটা পর্যন্ত কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?’ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জানান, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশ্বাসও মিলেছে অনেক। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির বেড়াজালেই আটকে রয়েছে জনবহুল এই বাজারের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ।কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ইমদাদুল হক বলেন, ‘এটা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমি সরকার বা প্রশাসনের কাছে এটি পুনর্নির্মাণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’তিনি আরো বলেন, ‘একটি হকার্স মার্কেট বা এ জাতীয় কোনো মার্কেট দেওয়া গেলে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এলাকায় যাতে উন্নয়ন হয়, সে দিকটিও দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এই হাট চাঁদনীতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধস নামলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে সেখানে আধুনিক ও নিরাপদ বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। নতুন ভবন তৈরির পরিকল্পনা আছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন