০২:৫০ পি.এম
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মডেল কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রবেশপত্র বিতরণের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যদিও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড প্রবেশপত্র বিতরণের জন্য কোনো ধরনের ফি নির্ধারণ করেনি।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্র ফি ছাড়া বোর্ড নির্ধারিত ফি মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা এবং বিজ্ঞান শাখার জন্য ২ হাজার ১৪০ টাকা।
আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
অভিযোগ উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফির বাইরে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ২৪২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার এবং অনেকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবারও আলাদাভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবেশপত্র বিতরণের সময়ও প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা করে দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানান পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ফরম পূরণের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছিলেন, আদায়কৃত টাকার মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু পরে পরীক্ষা চলাকালে প্রতিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবার আলাদাভাবে টাকা নেওয়া হয়। একই সাথে প্রবেশপত্র সংগ্রহের সময়ও ১ হাজার টাকা করে দিতে বাধ্য হওয়া যায়। এতে অনেক পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী শামিম বলেন, আমি মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। ফরম পূরণের সময় আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় আরও ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী জাহিদ বলেন, ফরম পূরণের সময় আমি ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় আরও ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, প্রতিবাদে বাবা-চাচার সংবাদ সম্মেলন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পরীক্ষার্থীর স্বজন জানান, আমার স্ত্রী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তার ফরম পূরণের সময় ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনের সময় ১ হাজার টাকা এবং প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় আরও ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অথচ আমরা জানি, প্রবেশপত্রের জন্য শিক্ষা বোর্ড কোনো ফি নির্ধারণ করেনি এবং ফরম পূরণের ফিরও নির্দিষ্ট হার রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে।
এই বিষয়ে দুলারহাট মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউছুফ আলীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পর তিনি কলেজে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে কলেজে গেলে তিনি রিপোর্টটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন মাসুদ বলেন, এ ধরনের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বরিশালে হাজী বিরিয়ানিতে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ও প্রতারণার অভিযোগ,খাবারের পরিমাণ ও মাংসের মান নিয়ে প্রশ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন