১২:৩১ এম
খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট পর অগ্নিকাণ্ডটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ভবনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এছাড়া, ক্রেন ব্যবহার করে রোগী ও তাদের স্বজনদের নামিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। খবর পেলেই খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কার্যক্রম শুরু করে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বানর, সংখ্যা কমছে
প্রাথমিকভাবে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরও ৬টি ইউনিট সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ভবনের নিচতলার জেনারেটর রুম থেকে ধোয়া দেখা যায় বলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন ঠিক কোন জায়গা থেকে বা কী কারণে লেগেছে তা এখনও জানা যায়নি।
জেনারেটরের পাশাপাশি সেখানে ওই হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনও রয়েছে। সেখান থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।
এদিকে, আগুনের চেয়ে ধোঁয়া বেশি লক্ষ্য করা গেছে ঘটনাস্থলে গিয়ে। এজন্য হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগী ও স্বজনদেরকে জানালার গ্লাস ভেঙে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এই সময় ফায়ার সার্ভিসের মই ব্যবহার করে সিঁড়ি সংলগ্ন জানালা থেকেও রোগী ও স্বজনদের নামাতে দেখা যায়। জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের একটি ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত কাভার করতে সক্ষম। তবে হাসপাতালটি ১৬ তলা বিশিষ্ট হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বেশ আতঙ্ক দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
আগুনের ঘটনার পরপরই বেশকিছু রোগীকে নামিয়ে শান্তিধাম মোড়স্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, যদিও আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ধোঁয়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাত হয়ে যাওয়ার কারণে আশপাশের কোনো অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং রোগীদের সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয়রাও কাজ করেছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে হয়েছে। এই মুহূর্তে জুলাই এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে মোবাইলের সাহায্যে তিনি খোঁজখবর রাখছেন। কতজন রোগী ছিল, কতজনকে বের করে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কিছুই জানেন না তিনি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ সরদার জানান, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন লেগেছিল। ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা এবং জনগণের প্রচেষ্টায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণ তথা আগুন নেভানো সম্ভব হয়। হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে আগুনের উৎপত্তি ঘটে। কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণের জন্য পরে জানানো হবে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে 'ম্যাংগো পিল টি'
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র মিডিয়া সেল জানায়, খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আগুনের পর উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করেছে বিজিবি।
আগুনের খবর শুনেই রাতের বেলায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন