ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর


ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাকবদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। তিনি फ্যাসিবাদের যে কোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী

মন্ত্রী আজ বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।’

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

আরও পড়ুন: সদরপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সভা

তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।’

আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার

সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।’

জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।’

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী

মন্ত্রী ‘৭১ ও ‘২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


৬ দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ছয়জন প্রতিনিধি সচিবালয়ে ছয় দফা দাবি নিয়ে প্রবেশ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে গিয়ে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা করেন।

বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরবর্তীতে তাদের কর্মকর্তারাও সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেন। শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি হলো–

১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।

৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।

৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে।

৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত বা মানসিক চাপে না পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসায়ীর কান কামড়ানোর অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


ব্যবসায়ীর কান কামড়ানোর অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নরসিংদীতে এক বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কানে কামড় দিয়ে আহত করার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে জেলার পলাশ থানায় মামলাটি দায়ের করেন মেসার্স সজিব ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারের মালিক মো. সজিব মিয়া।

মামলার বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, দেশের স্বনামধন্য টিকে গ্রুপের নির্মাণাধীন সাইটে বালু সরবরাহের দায়িত্ব পান পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে পৌঁছন। এ সময় অভিযুক্ত ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া নির্দেশ দেন, যাতে একদল সন্ত্রাসী সাখাওয়াত হোসেনকে তুলে নিয়ে যায় ওই বিএনপি নেতার বাড়িতে।

সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়া নিজেই ব্যবসায়ীর কানে কামড় দেন, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

মারধর ও কানে কামড় দেয়ার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনকে অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকিও দেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ইতিমধ্যেই কানে কামড় দেয়ার এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাণনাশের হুমকি ও সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় ভুক্তভোগী পক্ষ আইনের আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিষয়ে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন বলেছেন, 'ব্যবসায়ীকে আহত করার ঘটনায় পলাশ থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান করে আরও ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এখনো কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি, তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে কড়া হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। সব গুরুত্বপূর্ণ সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এই তথ্য বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প এই হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সবকিছু লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে থামতে না বলব, ততক্ষণ এই আক্রমণ চলবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সম্পর্কে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে তিনি শেষের জন্য রেখে দিয়েছেন। তবে, পরিস্থিতি না বদলালে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও হামলা চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ রাতেও মার্কিন বাহিনী কঠোর হামলা চালাবে। আগামী রাতেও এই হামলা অব্যাহত থাকবে। পরের রাতেও আকাশ থেকে বোমা ফেলা হবে। তারপর, আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারণ তখন ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এরপর সেতুগুলো লক্ষ্য করে ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করা হবে। ট্রাম্প বলছেন, তারা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ অচল করে দেবেন এবং সব সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন। যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে চূড়ান্ত পরিণতি হবে এটাই।

ট্রাম্পের দাবি, নতুন একটি চুক্তি ছাড়া ইরানের সামনে কোনো পথ খোলা নেই। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সাক্ষাৎকার দেওয়ার এক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা আসলে চুক্তি করতে চায়। তাদের জন্য চুক্তি করা এখন সবচেয়ে ভালো বিকল্প। নইলে তাদের দেশে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায় বলেও ট্রাম্প জানান। তিনি বলেন, আগে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে একটি ফি আরোপ করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইছে। তাই তিনি ফি আরোপের ধারণাটি আপাতত বাতিল করেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই লোকগুলোর সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন করা। আর সেই শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা। মার্কিন বাহিনী সেটাই করে দেখিয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই দিন আগে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানিরা সেই চুক্তি ভেঙে দিয়েছে, যা চরম হতাশাজনক।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা একেবারে দুর্বল করে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে অঞ্চলটিতে তাদের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে শত শত সামরিক উড়োজাহাজও। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই বিপুল সামরিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি অনন্য নেতৃত্বের স্থানে পৌঁছাচ্ছে।

তিনি জানান, বিশ্বের প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এর সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বুধবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে ‘বাংলাদেশে অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কমাতে চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ রোডম্যাপ’ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সভার পর এ তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বত্র, শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি মানুষের জন্য চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, প্রাইভেট সেক্টর এবং দেশি-বিদেশি সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই একটি ‘ন্যাশনাল স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হবে, এবং আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ‘স্পেক্স ২০৩০’ ইনিশিয়েটিভ।

চক্ষু সেবার তিনটি অতি জরুরি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে ড. মুহিত জানান, বর্তমানে দেশে ১০ লক্ষাধিক মানুষ ছানিজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করেছে। তাদের কাছে দ্রুত অস্ত্রোপচার সেবা পৌঁছাতে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে কাজ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় বিষয়, গ্রামে-গঞ্জে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী চশমার অভাবে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে এবং মধ্যবয়সী কর্মক্ষম মানুষের উৎপাদনশীলতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাচ্ছে। আমরা সব বয়সের মানুষের জন্য বিনামূল্যে ও সহজে চশমা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি আরও জানান, দেশে অসংক্রামক ব্যাধি হিসেবে দ্রুত ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়াবেটিসের কারণে মানুষ যাতে দৃষ্টিশক্তি হারাতে না পারে, সে জন্য জেলা পর্যায় পর্যন্ত দ্রুত ‘ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং’ সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, হেলথ ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের এই পরিবর্তন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসাধারণ নজির স্থাপন করবে।

সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম ক্বাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ড. ওয়াতিন আলম, আর্ক ফাউন্ডেশনের পরিচালক রোমানা হক, রিসার্চ এসোসিয়েট বদরুদ্দীন সাইফিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এবং আইএনজিও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%