ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জাতীয় দলে ফেরছেন সালাউদ্দিন, এইচপির ভবিষ্যৎ কী হবে?


জাতীয় দলে ফেরছেন সালাউদ্দিন, এইচপির ভবিষ্যৎ কী হবে?

পাকিস্তান সিরিজ শেষের পর বিসিবির হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। তিনি দায়িত্ব বুঝেও নিয়েছিলেন ওই সিরিজ শেষে। তবে জাতীয় দলের প্রয়োজনেই তাকে আবারও ফিরতে হচ্ছে।

আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কোচিং নিয়ে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব থেকে পারিবারিক জটিলতার কথা জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন শন টেইট। এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ এবং ফিল্ডিং কোচ জেমস প্যামেন্টও থাকবেন না।

পেস বোলিং কোচ হিসেবে আপদকালীন সময়ের জন্য দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন এইচপির কোচ তালহা জুবায়ের। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে তেমন কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই তালহার। এছাড়া ব্যাটিং কোচ আশরাফুলেরও জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার বছর পেরোয়নি। একমাত্র অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে আছেন ফিল সিমন্সই।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য

অভিজ্ঞ কোচের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় আপাতত জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে ফেরানো হয়েছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ তো বটেই, ঘাটতি পূরণ না হলে জিম্বাবুয়ে সিরিজেও দলের সঙ্গে দেখা যেতে পারে তাকে। তালহা জুবায়েরের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই। পেস বোলিং কোচ না পাওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের সঙ্গে থাকবেন তিনি।

এই দুজনের অনুপস্থিতিতে এইচপির হেড কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবির আরেক কোচ সোহেল ইসলাম। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ করে এইচপির লাল বলের সিরিজে সালাউদ্দিনও শিষ্যদের সঙ্গে থাকবেন।

আগামীকাল (৬ জুন) জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বগুড়ায় যাবে এইচপি দল। আজ ঢাকা ছাড়ার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশটির কবিরাজদের রয়েছে বিভিন্ন প্রচেষ্টা। দেশটির অনেক মানুষের মধ্যে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে সন্দেহ থাকলেও ভেষজ উপাদান ও প্রথাগত বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে কবিরাজরা রোগীদের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর প্রচার করেছে।

ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া শহরের কবিরাজ মরিয়ম কাবিকা তার নিজস্ব বাগানে ভেষজ উপাদান খুঁজছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি ইউক্যালিপটাস, অ্যাভোকাডো, আম ও পেঁপের পাতা খুঁজছি।’

তিনি আরও জানান, ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে মরিয়ম কাবিকার মতো লোকজ কবিরাজরা বিভিন্ন ভেষজ উপাদান যেমন ইউক্যালিপটাস, অ্যাভোকাডো, আম ও পেঁপে পাতা ব্যবহার করছেন।

বিশাল আয়তনের দেশে অবস্থিত ইতুরি খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও, বহু কষ্টের মধ্যে রয়েছে। কয়েক দশকের সংঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ায় এ অঞ্চলে সরকারি সেবার উপস্থিতি খুবই সীমিত।

গত ১৫ মে যখন ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়, তখন এটি মধ্য আফ্রিকার দেশটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, এবং তাদের মধ্যে ৬১ জন মারা গেছেন।

ইবোলা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন এলাকায় পৌঁছান, তখন তাদের সম্মুখীন হতে হয় স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাসের। অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণের আস্থাভাজন লোকজ চিকিৎসকেরা রোগটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছেন। ইবোলা ভাইরাস এই রোগের জন্য ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ও আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায়।

বর্তমান যেটি প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী তা হল বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা, যার জন্য কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। কিন্তু কাবিকা ও তার স্বামী দাউদা শিমাঙ্গা দাবি করেছেন, তারা এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।

শিমাঙ্গা জানান, তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রটি একটি খড়ের ছাউনি দেওয়া কুঁড়েঘর। সেখানে রয়েছে তাবিজ, অশুভ আত্মাদের তাড়ানোর সুগন্ধি ও ভেষজ ওষুধ। তারা বলছেন, এটি তাদের ‘পূর্বপুরুষদের গবেষণাগার।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তৈরি ভেষজে যদি রোগী সুস্থ না হন, তাহলে আমরা তাকে এই গবেষণাগারে আনি। এরপর আমরা আত্মাদের ডাকি এবং পূর্বপুরুষদের সাহায্য চাই।’

শিমাঙ্গার দাবি, সেদ্ধ করা বিভিন্ন গাছের বাষ্প দিনে তিনবার, টানা তিন দিন গ্রহণ করলে ইবোলা থেকে মুক্তি সম্ভব। তিনি বলেন, এখনও কোনো রোগী এই চিকিৎসা গ্রহণ করেননি हालाँकि পূর্বের প্রাদুর্ভাবগুলোর সময় ‘রক্তক্ষরণ ও জ্বরে আক্রান্ত অনেক মানুষকে আমরা সুস্থ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, এ রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে এখনও সনাতন চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে আমরা অবদান রাখতে প্রস্তুত।

ডিআর কঙ্গোতে এ ধরনের চিকিৎসকদের ‘ট্র্যাডি-প্র্যাকটিশনার’ হিসাবে পরিচিত করা হয়। পেশাটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়, তবে এটি নিয়ন্ত্রিত এবং তাত্ত্বিকভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

পূর্ব কঙ্গোর বহু এলাকায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে অথবা একেবারেই নেই। এখানে এই রোগটিকে প্রায়ই শত্রু, প্রতিবেশী, সহকর্মী অথবা আত্মীয়ের বিষ প্রয়োগের ফল বলে মনে করা হয়। ফলে লোকজন সাহায্যের জন্য লোকজ চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে থাকে।

বুনিয়ার চিকিৎসক উইলি বেইজা বলেন, ‘অনেক ইবোলা রোগী মনে করেন তারা বিষপ্রয়োগের শিকার। তাই তারা ট্যাডি-প্র্যাকটিশনারদের কাছে যান, যারা মাত্রা বা তদারকি ছাড়াই ঐতিহ্যবাহী ওষুধ প্রদান করে।’

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা বিলম্বিত হয়। রোগীদের প্রায় সময় সংকটাপন্ন অবস্থায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

গত সপ্তাহের শেষে বুনিয়া সফর করে ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিশ্বাসের পরিমাণ অনেক বেশি। তিনি বলেন, কিছু সম্প্রদায়ের নেতা তাকে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন ইবোলা বলে কিছু নেই।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় অস্থির এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি অনীহাপূর্ণ এই দুর্গম অঞ্চলে কবিরাজরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

ডব্লিউএইচও’র মতে, ইবোলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলবার জন্য স্থানীয় জনগণের এবং তাদের আচার-অনুষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

সংস্থাটি জানায়, গত বছরের এক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় পূর্বপুরুষভিত্তিক সামাজিক রীতিনীতি স্থানীয় জনগণকে প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত করতে সাহায্য করেছিল। যেমন, লোকজ কবিরাজরা সন্দেহভাজন রোগীদের আলাদা রাখার জন্য বিশেষ বিচ্ছিন্নকরণ আচার চালু করেছিলেন। একই সঙ্গে মৃতদেহ ধোয়া ও মৃত প্রাণী সংগ্রহ নিষিদ্ধ করেছিলেন।

তবে বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা কার্যক্রম এখনও ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

ডব্লিউএইচও জানায়, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা লোকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫ শতাংশকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

আফ্রিকায় ডব্লিউএইচও’র জরুরি বিভাগের প্রধান মেরি রোজেলিন বেলিজেয়ার বলেন, ‘আমরা ট্র্যাডি-প্র্যাকটিশনারদের রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাতে অনুরোধ করছি। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণের কাজও চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নুরুল আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নুরুল আমিন

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির মালবীয় নগরে একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক যুবক নিহত হওয়ার খবর এসেছে। বুধবার সকালবেলা হাউজ রানি এলাকার পাঁচতলা বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হোটেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নূরুল আমিন সোহাগ (৪০) হচ্ছেন উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। সোহাগ মৃত্যুর খবরটি পেয়ে তার নিজ গ্রামের সাঙ্গীশ্বরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর স্বজন, প্রতিবেশী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবার সদস্যরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে সোহাগের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্বজন হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী। তিনি জানান, সোহাগ ছোট বোন ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য নয়া দিল্লি গিয়েছিলেন।

বুধবার সকালে মালবীয় নগরের ওই আবাসিক হোটেলে সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যার ফলে সোহাগ গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনায় সোহাগের ছোট বোন এবং ভগ্নিপতি হিসেবেও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তারা দুজনই ম্যাক্স হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, নিহতের স্বজনদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া, পরিবারটির পাশে থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল হয়ে তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল হয়ে তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ জনের

সাহারা মরুভূমির তীব্র দাবদাহ এবং পানির অভাবে অন্তত ৪৯ জন যাত্রী তৃষ্ণায় বুক ফেটে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে আফ্রিকার দেশ নাইজারের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায়, যখন তাদের গাড়ি বিকল হয়ে যায়। যাত্রীরা আসামাকা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে মরুভূমির বুকে আটকা ছিলেন।

নাইজারের আগাদেজ প্রদেশের গভর্নরের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নিহতরা মালির একটি ধর্মীয় উৎসব শেষ করে ট্রাকে বাড়ি ফিরছিলেন। মরুভূমির অত্যন্ত প্রতিকূল ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে। যাত্রীদের সংকটময় অবস্থার কারণে তারা সঙ্কটে পড়েন, যেহেতু ওই অঞ্চলে তীব্র তাপমাত্রা এবং পানির কোনো উৎস ছিল না। গাড়িটি বিকল হওয়ার পর অভিযাত্রী, চালক এবং তার সহকারী মিলিত হয়ে কয়েকদিন ধরে মেরামতের চেষ্টা করেন। যদিও তাদের কষ্ট ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ গিয়েছে। এরপর, তাদের সঙ্গে থাকা পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর একে একে সবাই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হন।

এই বিপর্যয়ের মধ্যে অলৌকিকভাবে দুজন যাত্রী বেঁচে আসেন। তারা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার হাঁটলেন এবং আসামাকা সীমান্তে পৌঁছলেন। এরপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচল ট্রাকটির নিচে এবং আশপাশ থেকে অনেক নিথর দেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মরুভূমির ওই এলাকায় স্বজনহীন এই ভুক্তভোগীদের গণকবর দেওয়া হয়।

গভর্নর জানিয়েছেন, ট্রাকটি মালির তেলহান্দেক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু পরে তা পূর্বনির্ধারিত রুট থেকে অনেকটা বিচ্যুত হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের দাফন শেষে ফেরার পথে উদ্ধারকারী দলটি আরও একটি বড় বিপর্যয় রোধ করেছে। তারা মরুভূমির অন্য একটি অংশে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে তিন দিন ধরে আটকে থাকা একটি ট্রাকের সন্ধান পেয়েছে। ওই ট্রাকে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়া যাত্রীদের দ্রুত পানি বিতরণ করা হয় এবং তাদের গাড়িটি মেরামত করে নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, আফ্রিকার এই মরুভূমি অঞ্চল ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশী এবং সীমান্ত বাণিজ্যে নিয়োজিত তরুণদের জন্য একটি প্রধান যাতায়াত পথ। গভর্নর মন্তব্য করেছেন যে, এই ট্র্যাজেডি এমন তরুণদের বিপজ্জনক বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে, যারা উন্নত জীবনের আশা নিয়ে দুর্গম পথে যাত্রা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের বিশাল অজগর, দ্বীপজুড়ে সৃষ্টি চাঞ্চল্যের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের বিশাল অজগর, দ্বীপজুড়ে সৃষ্টি চাঞ্চল্যের

সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি বিশালাকার অজগর সাপ জালে আটকা পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৬টার দিকে দ্বীপের ছেঁড়াদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায়, হোটেল সিনবাদের নিকটবর্তী একটি মরিচক্ষেতের সুরক্ষার জন্য স্থাপন করা জালে অজগরটি আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি বার্মিজ অজগর (Burmese Python) হতে পারে। বিশাল আকৃতির এই সাপটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায় এলাকার সকল স্থানে। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

অজগরটি কীভাবে লোকালয়ে চলে এসেছে, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শেফায়েতুল্লাহ বিন ইব্রাহিম জানান, শুক্রবার সকালে প্রায় ৬টার দিকে একজন নারী মরিচক্ষেতে যাওয়ার সময় অজগরটিকে জালের মধ্যে আটকে থাকতে দেখেন। ভয় পেয়ে তিনি তাঁর বাবা মুসা আলীকে খবর দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন গিয়ে দেখতে পান, বিশাল আকৃতির অজগরটির শরীর জালের মধ্যে আটকে রয়েছে।

ঘটনাস্থলটি সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপের পাশের এলাকা, হোটেল সিনবাদের নিকটস্থ অংশে অবস্থিত।

শেফায়েতুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল অজগরটি হয়তো কিছু খেয়েছে, তবে পরে দেখা যায় জালে আটকে যাওয়ার কারণে সেটি ফুলে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। সাপটি কোনো প্রাণী শিকার করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার একটি ভিডিও স্থানীয় একজন শিক্ষক তাকে পাঠালে তিনি সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তিনি জানান, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে অজগরটিকে একটি গাছের সঙ্গে কয়েকটি রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি পালিয়ে যেতে না পারে। সাপটি স্থানীয় বাসিন্দা মুসা আলীর বাড়ির আঙিনায় রাখা হয়েছে।

দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, 'সেন্টমার্টিন দ্বীপে আবারও একটি বিশালাকৃতির অজগরের দেখা মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বার্মিজ অজগর (বার্মা পাইথন) হতে পারে।' দক্ষিণ পাড়ার সিনবাদ রিসোর্ট সংলগ্ন একটি বাড়ির সীমানাপ্রাচীরে লাগানো জালে সাপটি আটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে অজগরটিকে ধরে বেঁধে রাখেন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

বনবিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা বশির আহমেদ খান বলেন, সরকারি কাজে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেন্টমার্টিন ছিলেন। সেই সুবাদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অজগরকে আটকে রেখেছে খবর পায়। বনবিভাগের লোকজন সেন্টমার্টিন গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেছে। সেটি সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ আনা হবে, এরপর টেকনাফ বনে অবমুক্ত করা হবে। এখনও বলা যাচ্ছে না অজগরটি সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোথায় থেকে এসে, কোন প্রজাতির এবং কত ফুট লম্বা। তবে জানা গেছে, অজগরটি বিশাল আকৃতির।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, দ্বীপে একটি বিশালাকার অজগর বেঁধে রেখেছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি রশি দিয়ে বাঁধা অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এরপর বনবিভাগকে খবর দেয়া হয়, তারা এসে অজগরটি সংরক্ষণ করেছে। আর অজগরটি বনে অবমুক্ত করতে সেন্টমার্টিন থেকে বিকেল ৩টায় টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বনবিভাগের কর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%