১১:২১ পি.এম
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, যিনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া কিংবা যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরির জন্য মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’ (American Affordable Community Healthcare Initiative)-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকায় (৯ নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।
বুধবার নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রচারকে সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
৯ নম্বর ওয়ার্ডের মতিঝিল এলাকায় পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘আঙিনা পরিষ্কার, শহর পরিষ্কার’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আজ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সমগ্র নগরের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি ইন্সপেক্টরদের মুখ্য কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা।
‘আছি বাংলাদেশ’র উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রোগব্যাধি প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নগরবাসীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নাগরিকরা যদি সচেতন হন, তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
আরও পড়ুন: ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা কম: নিলোফার মনি
মতিঝিল ৯ নং ওয়ার্ড একটি আদর্শ ওয়ার্ডে পরিণত হলে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান প্রশাসক।
কর্মসূচির মূল কার্যক্রম হবে ১০টি জোনে বিভক্ত করা। মতিঝিল এলাকা ১০টি ভাগে বিভক্ত করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এই সিটি ইন্সপেক্টররা সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ দেবেন। তারা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার হবে। নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলাসহ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না তা তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে প্রচার করা হবে।
আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’র প্রতিনিধিরা, সিটি ইন্সপেক্টররা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন