১১:২৮ এম
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে ডিবি পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন কৌশল অবলম্বন করে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অনৈতিক দেহ ব্যবসা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে দিন ও সন্ধ্যার পর অভিযানের ভয়ে এবার গভীর রাতকে বেছে নিয়েছে অসাধু হোটেল মালিক চক্র। বিশেষ করে হোটেল পপুলার ও হোটেল নসিব কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়াভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিন ও সন্ধ্যায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও অভিযানের কারণে কৌশল বদলেছে হোটেল মালিকেরা। পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের সরাসরি বুদ্ধিতেই রাত ১১টার পর শুরু হয় তাদের আসল কার্যক্রম। সম্প্রতি একটি হত্যা মামলা থেকে জামিনে মুক্ত পাওয়া হোটেল পপুলার ও নসিবের মালিক ফয়সাল জেল থেকে বের হয়েই এই অবৈধ ব্যবসার হাল ধরেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একটি হত্যা মামলার আসামি জামিনে বেরিয়ে কীভাবে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে পুনরায় এই অনৈতিক ব্যবসা করার সাহস পায়?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামিনে বের হওয়ার পর ফয়সাল পোর্ট রোডের অন্যান্য অসাধু হোটেল মালিকদের সাথে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার সাথে গোপন সমঝোতা ও পরামর্শের মাধ্যমেই তারা রাতে অবাধে ব্যবসা পরিচালনার গ্রিন সিগন্যাল পান। ফয়সালের দাবি অনুযায়ী, প্রশাসনের নির্ধারিত কিছু ব্যক্তির 'ছত্রছায়ায়' এবং বিশেষ আলোচনার পরেই রাত ১১টার পর নির্বিঘ্নে এই ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নাসিরনগরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে যুবককে ছুরিকাঘাত, ছিনতাইয়ের অভিযোগ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল মালিক ফয়সাল নিজের কর্মকাণ্ডকে ব্যাখ্যা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের ব্যবসাটাকে খারাপ চোখে দেখলে হবে না। এই ব্যবসা আছে বলেই সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ কম হচ্ছে। যাদের আসক্তি রয়েছে, তারা টাকার বিনিময়ে এখানে এসেই চাহিদা মেটায়।"
এর আগে নগরীর বিউটি রোডের হোটেল নসিবে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক 'জিনসিন' সিরাপ খেয়ে এক যুবক অসুস্থ হয়ে অটোরিকশার মধ্যেই মারা যান। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার আসিফ সাঈদের নির্দেশে পোর্ট রোডের হোটেলগুলোতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি হয়ে যাওয়ার পরেই অভিযানে চরম ভাটা পড়ে।
অভিযান শিথিল হওয়ার সুযোগে পোর্ট রোডে খদ্দের আকর্ষণের জন্য প্রকাশ্যে দালাল নিয়োগ করা হয়েছে। দিন-রাত সাধারণ পথচারীদের এসব দালালদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ফলে পোর্ট রোডের প্রধান সড়ক দিয়ে পরিবার বা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক হাঁটাচলা করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
একজন হত্যা মামলার আসামির নেতৃত্বে এভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় গভীর রাতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে পোর্ট রোডের এই অনৈতিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
আরও পড়ুন: রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০ পদ শূন্য, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন