শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৪ এম
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাশিপুর ধোপাদাহ গ্রাম থেকে রেললাইন ও পল্লী বিদ্যুতের চোরাইকৃত তামার তার উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত তারের মূল্য দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানানো হয়। এছাড়া, উদ্ধার করা হয়েছে চারটি ধারালো রামদা এবং তারকাটার যন্ত্রপাতি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধোপাদাহ পূর্বপাড়ার বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী জনি বেগম (৩৫) এবং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) শহিদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুদা রিহাদকে (২০) আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, পদ্মাসেতু রেল প্রকল্প ও পল্লী বিদ্যুতের মূল্যবান ১১ কেভি এবং ৩৩ কেভি তামার তার দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চোরচক্র চুরি করে আসছিল। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে থানায় ও জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোর থেকে পল্লী বিদ্যুতের লোকবলসহ জেলা ডিবি পুলিশ অভিযানে নামে। ওইদিন বিকেলে অভিযানটি শেষ হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে লোহাগড়া থানার কাশিপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর কামারপাড়া রেলক্রসিং সংলগ্ন উত্তম সাহার আবাদি জমিতে বিদ্যুতের খুঁটির গোড়ায় বিভিন্ন ধরনের তার চুরির আলামত পাওয়া যায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধোপাদাহ গ্রামের বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করে পদ্মা রেলওয়ে প্রকল্পের ১১ কেভি এবং ৩৩ কেভি আন্ডারপাসিং কেবলের (তার) মূল্যবান ৯০ কেজি তামার তার, সাদা অ্যালুমিনিয়ামের ২৫ কেজি তার, তামার তারের কালো কাভারের পোড়া-আপোড়া অংশ, তার কাটার বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, একটি শাবল, চোরাই মালামাল দুমড়ে-মুচড়ে ফেলার লোহার যন্ত্র (দুরমুজ) এবং প্রায় ৮৫ কেজি পুরাতন লোহার রডের টুকরা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, বিদ্যুতের তার সংযোগ দেওয়ার জন্য ১৩ কেজি ওজনের একটি লোহার পাত উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে চোরাইকৃত অন্যান্য তামার তার উদ্ধারের লক্ষ্যে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) শহিদুল ইসলামের ছেলে ধোপাদাহ মধ্যপাড়ার নাজমুল হুদা রিহাদের বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় রিহাদের হেফাজতে থাকা বড় আকারের চারটি ধারালো রামদা খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। #
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে মারধর করে ১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হিমেল সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর হিমেল সরকারকে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামলা করলে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গতকাল শুক্রবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্গাপুর পৌরসভার সোমেশ্বরী নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আমির হোসেন (৪০) উপজেলার মোক্তারপাড়া এলাকায় থাকেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরের সাদামাটি পাহাড় এলাকায় কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে ব্যবসার টাকা সঙ্গে নিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বাড়ি ফিরছিলেন আমির হোসেন। পৌরসভার পান মহালের রাস্তার পশ্চিম পাশে সোমেশ্বরী নদীর ঢালে ব্লকের মাথায় পৌঁছালে দুই যুবক তাঁর পথরোধ করেন। তাঁরা হলেন ফুলপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে হিমেল সরকার (৩১) ও গুজিরকোনা গ্রামের সবুজ মড়লের ছেলে মাসুম মিয়া (২৫)।
এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুজন আমির হোসেনের পূর্বপরিচিত। তাঁরা মাঝেমধ্যে তাঁর দোকানে যাতায়াত করতেন। এ কারণে তাঁর যাতায়াতের সময় সম্পর্কেও তাঁরা জানতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আমির হোসেন অভিযোগ করেন, পথরোধ করে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে থাকা টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়ে দিতে বলেন। এতে তিনি রাজি না হলে হিমেল সরকার দুই থেকে তিন ফুট লম্বা একটি স্টিলের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে ভয়ে তিনি লুঙ্গির কোচায় রাখা ১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ টাকা বের করলে অভিযুক্তরা তা নিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে আহত আমির হোসেন দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। ওই রাতেই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। শুক্রবার তাঁর করা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নথিভুক্ত করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হিমেল সরকারকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈতিক স্খলনের মতো গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাঁর বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের চার যুগ্ম আহ্বায়ক—মীর্জা সালমান আরসাদ নজরুল, রাকিব হাসান, মো. রতন ও সুমন মণ্ডল।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফরিদপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে মামলাটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি শেখ ফয়েজ আহমেদ।
সভায় বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাহান, অর্থ সম্পাদক খন্দকার কামাল হোসেন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মনির হোসেন পিন্টু, দপ্তর সম্পাদক মো. অহিদুজ্জামান মোল্যা, সদস্য মুহম্মদ মাসুদুর রহমান লিমনসহ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্থানীয় পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে শেখ ফয়েজ আহমেদকে সামাজিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ মহলের ইন্ধন ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ সময় মামলার বাদীর বিরুদ্ধে একাধিক চেক প্রতারণা মামলায় আদালতের সাজা থাকার বিষয়টিও সভায় উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটির তদন্ত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী হতে হবে। মামলাটির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো প্রভাবশালী মহল যাতে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভা থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে আইনানুগভাবে বিষয়টির সুরাহা করার দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের মাটি বরাবরই বাউল, মরমি ও লোকসংগীতের উর্বর ভূমি। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে যে তরুণ শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার নিজের স্বতন্ত্র গায়কী ও মরমি গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তিনি পাগল হাসান। তাঁর প্রকৃত নাম মো. মতিউর রহমান হাসান।
জন্ম ও শৈশব
পাগল হাসান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৫ সালের ১ জুন, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শিমুলতলা গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন কৃষক দিলোয়ার হোসেন, যিনি দিলশাদ নামেও পরিচিত ছিলেন। মা আমিনা বেগম। তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন হাসান।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। এরপর মা আমিনা বেগমকে সন্তানদের নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেই বড় হতে হয় হাসানকে। শৈশবের সেই অভাব, কষ্ট, বঞ্চনা ও জীবনসংগ্রাম পরবর্তী সময়ে তাঁর গান ও দর্শনের অন্যতম প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে।
নিজের জীবন সম্পর্কে পাগল হাসান বলতেন, তাঁর জীবন যেন ভাঙন দিয়েই শুরু হয়েছিল। তাঁর গানেও বারবার ফিরে এসেছে মানুষের দুঃখ, বিচ্ছেদ, মায়া, মৃত্যু ও আধ্যাত্মিকতার কথা।
সংগীতের পথে যাত্রা
ছোটবেলা থেকেই গানের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে নগরীর চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখা পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, অভিযানে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় একজন, নিয়মিত মামলায় তিনজন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানে মোট ১৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশ।
বিএমপি জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং অপরাধ দমনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিএমপি।
তথ্যসূত্র: বিএমপি মিডিয়া সেল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ