০৩:০৭ পি.এম
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আদেশ আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনিাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। এই প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন আসামিপক্ষে ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
এই মামলায় কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো উপাদান নেই, বলেও দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তদন্ত যথাযথ হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর হয়ে আইনি লড়াই করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম। তিনি ২৮ জুন নিজের ক্লায়েন্টের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন। এর আগে ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীরা, যাদের মধ্যে ছিলেন মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম। তার আগে ২২ জুন ট্রাইব্যুনাল প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করে প্রসিকিউশন।
সবমিলিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামির পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রদানের জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
এ মামলায় গ্রেফতার পাঁচ আসামির মধ্যে আছেন- চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু। তবে ফজলে করিম ছাড়া আজ বাকি চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
হাছান মাহমুদ ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
গত ৭ এপ্রিল তিন অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়। এছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা তিন নম্বর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস শ্রমিক কার্তিক নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন