১২:২৯ পি.এম
একজন বলিউড অভিনেতা এবং অন্যজন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। নামের মিল থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানের আটক হওয়ার খবর এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস- এই দুটি ঘটনা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা আমির খানের ভাগ্নে হলেন অভিনেতা ইমরান খান। তিনি ‘জানে তু... ইয়া জানে না’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’ ও ‘দিল্লি বেলি’ সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন ক্রিকেটার হিসেবে এবং পরে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ‘ককরোচ পার্টি’ আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইমরান খানের। এ কর্মসূচিটি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
অভিনেতা ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন- সম্প্রতি এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি পুলিশের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির স্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য কোনো অনুমতি ছিল না। বোম্বে হাইকোর্টের অনুমতি অনুযায়ী, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান ছিল আজাদ ময়দান।
অন্যদিকে, আয়োজকদের দাবি, তাঁরা কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে ই-মেইল করেছিলেন, কিন্তু কোনো জবাব পাননি। তবে আদালতের নির্দেশনা, অনুমতির শর্ত এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া না গেলে এ বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া কঠিন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ককরোচ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির কয়েকজন সদস্যকে দিল্লি বিমানবন্দরে এদিন আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ
বলিউডে পরিচিত মুখ ইমরান খান
২০০৮ সালে ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি পান ইমরান খান। তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয় করে তিনি রোমান্টিক নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
পরবর্তী সময়ে ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’, ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ ও ‘এক ম্যায় অউর এক্কু তু’ সিনেমায় অভিনয় করেন। বিশেষ করে ‘দিল্লি বেলি’তে তাঁর অভিনয় প্রচলিত রোমান্টিক নায়কের পরিচিতির বাইরে ভিন্নধর্মী উপস্থিতি তৈরি করেছিল।
একসময় বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা গেলেও পরে তিনি অভিনয়ে বিরতি নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘটনা ভিন্ন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে। সেই সাফল্য তাঁকে দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
১৯৯৬ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধীরে ধীরে সমর্থন বাড়ান তিনি। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
তবে ক্ষমতায় থাকার সময়েই তাঁর সরকারের সঙ্গে বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েন বৃদ্ধি পায়। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান তিনি।
এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোশাখানা মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, সাজা ও জামিন নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত
যদিও ইমরান খান ও তাঁর দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। অন্যদিকে, মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে আইনি কাঠামোর মধ্যে। অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আদালতের রায়-এগুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
তাঁর কারাবাসকে কেন্দ্র করে পিটিআইয়ের সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন। ইমরান খানের মুক্তির দাবি পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন