প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : সাইমন শক্তিশালী হারিকেনে পরিণত হয়ে মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানায়, হারিকেনটি চার মাত্রার শক্তি অর্জন করেছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে অথবা রোববার সকালে এটি মেক্সিকোর উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাইমন পশ্চিম-মধ্য মেক্সিকোর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আরও শক্তিশালী হতে পারে। এ সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার হতে পারে।
একটি সতর্কবার্তায় সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ‘হারিকেন সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।’
এদিকে, আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়টির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে চলতি মৌসুমে একের পর এক শক্তিশালী হারিকেন সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়াব্যবস্থার প্রভাবে বাতাসের বিভিন্ন স্তরের গতিবেগ ও দিকের পার্থক্য কমে আসছে। এর ফলে ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
সাইমনের কারণে মেক্সিকোর নৌবাহিনী পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন জনবসতি থেকে প্রায় ১০০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে।
২০২৩ সালের হারিকেন লিডিয়ার কথা স্মরণ করে ৬৩ বছর বয়সী এলেনা গুলমাস বলেন, ‘তিন বছর আগে আমরা সবকিছু হারিয়েছিলাম। এখন আমি মনে করি, সবার আগে জীবন বাঁচানোই জরুরি।’
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পুয়ের্তো ভায়ার্তায় শনিবার আকাশ মেঘলা থাকলেও সাগর তখনো তুলনামূলক শান্ত ছিল।
তবে আরও দক্ষিণে অবস্থিত আকাপুলকোতে সাইমনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ইতোমধ্যেই বন্যা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিশাল ঘোড়ার খুরের আকৃতির উপসাগরের তীরে অবস্থিত পুয়ের্তো ভায়ার্তায় বাসিন্দাদের মধ্যে হারিকেন নিয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
উপসাগরের বিশেষ ভৌগোলিক আকৃতির কারণে সেখানে হারিকেনের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।
দোকানমালিকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন এবং দরজা-জানালা বন্ধ করে সুরক্ষিত করেছেন। তবে চারপাশে বড় ধরনের বিপর্যয় আসন্ন—এমন আতঙ্কের চিত্র খুব একটা দেখা যায়নি।
সমুদ্রসৈকতের পাশের সড়কে অবস্থিত একটি আসবাবপত্রের দোকানের মালিক পাউলিনা পেরেজ বলেন, ‘মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে, পানি যদি অনেক উঁচুতে উঠে যায়—যেমনটা হারিকেন কেনার সময় হয়েছিল।’
২০০২ সালে আঘাত হানা হারিকেন কেনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।
পেরেজ তার দোকানে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন, তাতে লেখা, ‘সাইমন, তাড়াতাড়ি চলে যাও, শান্ত থাকো।’
অন্য একটি বোর্ডে কেউ স্প্রে রং দিয়ে লিখেছেন, ‘সাইমন বলছে: সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
জনপ্রিয় শিশুদের খেলা ‘সাইমন সেজ’-এর নামের সঙ্গে মিল রেখে কথাটি লেখা হয়েছে।
সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে অবস্থিত নিজের ছোট হোটেলটি রক্ষায় বালুর বস্তা ভরছিলেন ৭২ বছর বয়সী ময়েসেস ভিয়াসেনিয়র।
তিনি জানান, ঝড় নিয়ে তিনি ‘কিছুটা উদ্বিগ্ন’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন