ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক পোস্টার প্রদর্শন


বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক পোস্টার প্রদর্শন

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর গলাচিপায় সচেতনতামূলক পোস্টার প্রদর্শন কর্মসূচি আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মঙ্গলবার বিকেলে গলাচিপা উপজেলা পরিষদের কাছে সড়কে বসুন্ধরা শুভসংঘের গলাচিপা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বেইজবিল্ড ডিজিটাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মো. তরিকুল ইসলাম মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়ক ও দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর গলাচিপা প্রতিনিধি সাইমুন রহমান এলিট।

আরও পড়ুন: নরসিংদী বেলাবোতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেইজবিল্ড ডিজিটাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেদোয়ান করিম তালাল, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কাওসার নাইম রেজা শুভ্র, দৈনিক যায়যায়দিনের গলাচিপা উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াদ হোসেন, একাত্তর টিভির দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি ইশান মাহমুদ শাহিন, দৈনিক গণদাবীর গলাচিপা প্রতিনিধি মো. সুমন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রবীর নন্দী, তরুণ দেবনাথ, মো. আফ্রিদীসহ শুভসংঘের সদস্য ও স্থানীয়রা।

কর্মসূচিতে সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নাগরিকদের দায়িত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি পথচারী, চালক ও শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত স্থানে রাস্তা পারাপার এবং নিরাপদে চলাচলের বিষয়ে সচেতন করা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইমুন রহমান এলিট বলেন, “সড়কে একমুহূর্তের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত কেড়ে নিতে পারে একটি পুরো জীবন। তাই ট্রাফিক আইন মানুন—কারণ আইন মানা মানেই জীবন বাঁচানো।”

তিনি আরও বলেন, “গতি নিয়ন্ত্রণ করুন, হেলমেট পরুন, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলুন এবং ওভারটেকিংয়ের সময় সতর্ক থাকুন। সচেতন চালকই পারেন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে। দ্রুত নয়, নিরাপদে পৌঁছানোই হোক আমাদের লক্ষ্য। আমাদের অসচেতনতার মূল্য যেন অন্য কাউকে জীবন দিয়ে দিতে না হয়।”

আরও পড়ুন: ভৈরবে কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে পরকীয়ার নাটক সাজানোর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কারাগারে

বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, চালকের অসতর্কতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং অনিরাপদ সড়কব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের অসাবধানতাও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরো বলেন, “দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা বজায় রাখা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, নিয়মিত যানবাহন পরীক্ষা করা এবং পথচারীদের নিরাপদ স্থানে রাস্তা পারাপারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সবার সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”

বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মো. তরিকুল ইসলাম মুন্না বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য আজকের এই পোস্টার প্রদর্শন কর্মসূচি। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন বার্তাসংবলিত পোস্টার প্রদর্শনের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক হামিম মল্লিক নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


এবার বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বাড়ানোর জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস এবং মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সহকারী সচিব জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের জন্য যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।

এছাড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে বাস বা মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অথবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

তবে, নতুন নির্ধারিত এই ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস বা মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নতুন ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই ভাড়ার হার মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজকীয় অশান্তি উসকে দিলেন ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


রাজকীয় অশান্তি উসকে দিলেন ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই

প্রিন্সেস ডায়ানার প্রয়াত ভাই চার্লস স্পেন্সার ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজা ও রানিদের নিয়ে বই লেখার ক্ষেত্রে পরিচিত। তাঁর পূর্ববর্তী দুটি বেস্টসেলার বই হলো ‘Killers of the King’ এবং ‘To Catch a King’। এই বইগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মূলত ১৭ শতকের ইতিহাস। তবে কিছু পাঠক মনে করতে পারেন, তাঁর নতুন বইটিও সেই ধারার আরেকটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

স্পেন্সারের নতুন বই ‘Swan Song: Diana, My Sister’ মঙ্গলবার প্রকাশিত হচ্ছে। বইটিতে তিনি নিজের বোন ডায়ানার জীবন এবং তৎকালীন প্রিন্স চার্লস—বর্তমান রাজা চার্লসের সঙ্গে তাঁর অসুখী দাম্পত্য জীবন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। বইটির আগাম প্রকাশিত কিছু অংশে তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৭ সালে ডায়ানার মৃত্যুর পর রাজা চার্লসকে ‘উচ্ছ্বসিত’ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। এই দাবি রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়কে পুনরায় আলোচনায় এনেছে।

৬২ বছর বয়সী স্পেন্সার বলেছেন, ‘ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে’ নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বইটি রচনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনা বাকিংহাম প্যালেস অস্বাভাবিকভাবে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভ্রাতৃশোকের বেদনা যুক্তিবোধকে আচ্ছন্ন করতে পারে, বিচারবোধকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্মৃতিকে রঙিন করে তুলতে পারে।’ রাজপ্রাসাদের এই মন্তব্য বইটির প্রচারণাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ধর্মপুত্র

চার্লস স্পেন্সার ব্রিটেনের একটি অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যার সঙ্গে রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন তাঁর ধর্মমাতা। ১৯৮১ সালে যখন তাঁর ২০ বছর বয়সী বোন ডায়ানা তৎকালীন প্রিন্স চার্লসকে রূপকথার মতো এক বিয়েতে বিয়ে করেন, তখন স্পেন্সারের বয়স ছিল ১৭। সিএনএনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা ওই বিয়ের চেয়ে ‘পরীক্ষা আর স্কুলে খেলাধুলা’ নিয়েই তিনি বেশি ব্যস্ত ছিলেন।

তবে বিশ্ববাসীর নজর ছিল ওই তরুণ দম্পতির দিকে। তাঁদের দুই ছেলে—১৯৮২ সালে উইলিয়াম এবং এর দুই বছর পর হ্যারি। কিন্তু আড়ালে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছিল তাঁদের সম্পর্ক। বইটি প্রকাশের আগে ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পেন্সার বলেন, ‘তখন আমি আসলে পুরোপুরি বুঝতে পারিনি, তাঁর জন্য পরিস্থিতি কতটা কঠিন ছিল। এটি আমার একটি অনুশোচনা। আমি যদি তাঁকে আরও বেশি সাহায্য করতে পারতাম।’

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ডায়ানার অসুখী দাম্পত্য জীবন বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হতে থাকে। ডায়ানা ও চার্লস-দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে তথ্য দিতে শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এর এক বছর পর ৩৬ বছর বয়সে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন ডায়ানা। দুর্ঘটনার সময় ফটোগ্রাফাররা তাঁর গাড়ির পিছু নিচ্ছিলেন।

ডায়ানার শেষকৃত্যে দেওয়া আবেগঘন বক্তৃতায় স্পেন্সার তাঁর বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিলেন, তাঁর ‘বিশেষ ধরনের জাদু’ তাঁকে মানুষের মন থেকে ‘কখনোই মুছে যেতে দেবে না’। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ২০০ কোটি মানুষ টেলিভিশনে সেই শেষকৃত্য দেখেছিল। লন্ডনের রাস্তায় লাউডস্পিকারে তাঁর বক্তব্য শুনেছিলেন হাজারো মানুষ। স্পেন্সারের বক্তব্য ব্যাপক প্রশংসা পেলেও ডায়ানার ‘ভালোত্ব’ কীভাবে রাজপরিবারের জন্য ‘হুমকি’ হয়ে উঠেছিল এবং তাঁর দুই ছেলেকে তাঁর ‘রক্তের পরিবার’কে রক্ষা করতে হবে-এমন মন্তব্যগুলো রাজপরিবারের জন্য অস্বস্তিকর ছিল।

‘অসাধারণভাবে উসকানিমূলক’

ডায়ানার মৃত্যুর পর দুই পরিবারের মধ্যে যে সামান্য সৌহার্দ্য অবশিষ্ট ছিল, স্পেন্সারের নতুন বইয়ের রাজা চার্লসকে নিয়ে করা অভিযোগের পর সেটিও সম্ভবত নষ্ট হয়েছে। তাঁর নতুন অভিযোগ রাজপরিবারের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময়গুলোর একটি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করেছে।

স্পেন্সার তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লস বলেছিলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই তাঁকে ভুলে যাব।’ এ ছাড়া ডায়ানার শেষকৃত্যে তাঁর কফিনের পেছনে তৎকালীন ১৫ বছর বয়সী উইলিয়াম ও ১২ বছর বয়সী হ্যারিকে হাঁটানো উচিত নয়-এমন পরামর্শ দেওয়ায় চার্লস তাঁর ওপর চিৎকার করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্পেন্সার।

বর্তমানে স্পেন্সারের সাত সন্তান রয়েছে। তিনটি আলাদা বিয়ের পর চলতি বছরের শুরুতে তিনি চতুর্থবার বিয়ে করেন। বাকিংহাম প্যালেস তাঁর স্মৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় তিনি পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

‘ডেইলি মেইল’কে স্পেন্সার বলেন, ‘এটি ছিল অসাধারণভাবে উসকানিমূলক এবং নিচু মানের আঘাত। কারণ মূলত এর মাধ্যমে বলা হচ্ছিল যে আমি মিথ্যা বলেছি, অথচ রাজা নিজে আমার বক্তব্য অস্বীকার করার সুযোগ পাচ্ছেন না।’

ইতিহাসের বই লিখে আলথর্পের সংরক্ষণ

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস পড়েন স্পেন্সার। এরপর এক দশক মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজে কাজ করেন। সেখানে জীবনযাপন ও ভ্রমণবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন তিনি।

১৯৯২ সালে তাঁর বাবা মারা গেলে ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে পরিবারের ৩০ কক্ষের ঐতিহাসিক বাড়িটির মালিকানা পান স্পেন্সার। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ইতিহাসের বই লেখা শুরু করেন তিনি। তাঁর কয়েকটি বই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে এবং অনেকগুলোই বেস্টসেলার হয়েছে।

বই প্রকাশনা থেকে পাওয়া অর্থ আলথর্প এস্টেটের সংস্কারকাজে ব্যয় করেছেন তিনি। পাঁচ শতাব্দী ধরে স্পেন্সার পরিবারের মালিকানাধীন এই ঐতিহাসিক সম্পত্তিতেই সমাহিত আছেন প্রিন্সেস ডায়ানা।

২০২৪ সালে স্পেন্সার প্রকাশ করেন তাঁর স্মৃতিকথা ‘A Very Private School’। বইটিতে শৈশবে বোর্ডিং স্কুলে তাঁর যৌন নির্যাতন, অবহেলা ও বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।

সেই বইয়ে স্পেন্সার লিখেছেন, ‘আমার প্রথম ও দ্বিতীয় বিয়ের ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে থেরাপির শুরুতেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আট বছর বয়সে আমাকে বোর্ডিং স্কুলে পাঠানোর অর্থ ছিল ঘনিষ্ঠতা বা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক সম্পর্কে আমার প্রায় কোনো ধারণাই তৈরি হয়নি।’

রয়টার্স অবলম্বনে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কায়রোর আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


কায়রোর আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশিরা

মিশরের ঐতিহ্যবাহী আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির আবহে। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজন বৈচিত্র্যময় এক আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে, যিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেন। তার উপস্থিতি বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সঞ্চার করে।

নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুজাতিক ও বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাস সংস্কৃতিকে উদযাপন করতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টগণ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। এতে বাংলাদেশ, ভারত, সৌদি আরব, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ সুদান ও সুদানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় দেশের লাল-সবুজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজ দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও ছাত্রসংগঠন বছরজুড়ে তাদের উদ্ভাবন, গবেষণা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র প্রদর্শন করে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।

আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও উৎসাহ তাদের শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের এ নবীন বরণ অনুষ্ঠান নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক বিনিময়, সম্প্রীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে আসে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের শিশু জুলিয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে খালাস দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১০ পি.এম


চট্টগ্রামের শিশু জুলিয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে খালাস দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

হাইকোর্ট চট্টগ্রামের শিশু জুলিয়া হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। এই রায়ে ২১ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল আসামিকে না ধরে পুলিশ আমীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আমীর হোসেনকে খালাস দিয়ে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় প্রদান করেন।

২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ শিশু জুলিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

আরো পড়ুন

৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে সোলার স্থাপনে বরাদ্দ ৩৭০ কোটি টাকা

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশু জুলিয়া আক্তার। আমীর হোসেন ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই সময় আমীর হোসেন জুলিয়াকে অপহরণ করে বাড়ির পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করে খালে ফেলে দেন। পরে পুলিশ খালপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

জুলিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আমীর হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট পুলিশি তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী বছর ৮ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%