০৯:৩৮ পি.এম
জেলায় গ্রাম আদালতের প্রতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ের মধ্যে বিচার পেতে অনেকেই গ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
বিগত দুটি বছরের মধ্যে জেলার ১২টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতে মোট দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইহাজার ৮০২ টি এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা দুইহাজার ৫৮৭ টি।
এসব মামলার মাধ্যমে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এককোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৩৫ টাকা।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল
গ্রাম আদালতগুলোয় মামলা ও বিচারপ্রার্থীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান বলে জানালেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আমিনুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে জেলায় গ্রাম আদালতে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ৮৮৯ টি এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ছিল ৭৭১ টি। আবেদনকারিদের মধ্যে ৬৮১ জন পুরুষ ও ২০৮ জন নারী ছিলেন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে জেলায় গ্রাম আদালতে মোট মামলার সংখ্যা ছিল একহাজার ৯১৩ টি এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা একহাজার ৮১৬ টি। মামলার আবেদকারিদের মধ্যে একহাজার ৫০৭ জন পুরুষ এবং একহাজার ৪০৬ জন নারী।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেছেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মানুষ অনেকটা স্বস্তি পেয়েছে।
জেলার ছাতক উপজেলার ১ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. সুফি আলম সুহেল জানালেন, গ্রাম আদালতে বিচারের আবেদন করতে খরচ বেশি হয় না।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা
বরং মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে রায় মেনে নিতে কঠিন ভূমিকা পালন করতে হয়। তিনি এই ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সচল রয়েছে এবং মাসে ৫ থেকে ৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয় বলে উল্লেখ করেন।
জেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফৌজদারি মামলার আবেদনের জন্য ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার আবেদনের জন্য ২০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্রাম আদালতে বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগের বিচার যেমন- চুরি, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ, পারিবারিক কলহসহ অন্যান্য অপরাধের বিচারের জন্য আবেদন করা যায়। এছাড়া পাওনা টাকা আদায়, সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা মূল্য আদায়, জোর করে দখল থেকে উদ্ধার করা, গবাদিপশুর কারণে ক্ষতি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় প্রভৃতি বিষয়ে দেওয়ানি মামলা করা যায়।
জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, ‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ শীর্ষক শ্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে গ্রাম আদালত মানুষের বিচার চাওয়ার পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা হয়ে উঠেছে। গ্রাম আদালতের ওপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুর সদরেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন