বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৩ পি.এম
তখনও তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়নি। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে বোর্ডে আসার পর দ্বিতীয় বোর্ড সভায় ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন এবং ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
পাঁচ মাসের ব্যবধানে আবারও বোর্ডকে পুরুষ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর আয়োজন না করার ক্ষতিপূরণ হিসেবে, বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সকল টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন ক্রিকেটাররা। এই পরিমাণ প্রতি ক্রিকেটারের জন্য ৩০ লাখ টাকা।
বিসিবির আয়োজনে বর্তমানে চারটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়—জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের সংস্করণ দুটি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট।
এছাড়া রয়েছে বিসিএল ওয়ানডে এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টি। এই চারটি টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড়রা প্রত্যেকের জন্য বাড়তি ৩০ লাখ টাকা ম্যাচ ফি দাবি করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই বাড়তি অর্থ এক মৌসুমের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতেও কার্যকর রাখার প্রস্তাব তাদের। সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির দুটি টুর্নামেন্টে ২৫ হাজার টাকা ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকা থেকে সেটি বৃদ্ধি করে এক লাখ টাকা করা হয়েছিল। এবার খেলোয়াড়দের দাবি, অঙ্কটি আরও বড় আকারে সমন্বয় করা হোক। একই সঙ্গে নতুন নামে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির আদলে বিসিএলের দুটি টুর্নামেন্টে পরবর্তী আসর থেকে দুটি করে দল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়সংখ্যাও বাড়বে।
তবে, সর্বাধিক সংখ্যক ক্রিকেটারকে কিভাবে আর্থিকভাবে উপকৃত করা যায়, সেটি বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছিলেন ক্রিকেটাররা।
দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে গত পরশু সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সেই বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কিভাবে ১৫০ থেকে ২০০ খেলোয়াড়কে উপকৃত করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যেমন—টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা, যাতে একজন খেলোয়াড় সারা বছর সচ্ছলভাবে চলতে পারেন। বোর্ড আমাদের সব বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। খুব শিগগির বিসিবির সভায় এই প্রস্তাব পাস হওয়ার কথা আছে।’
ক্রিকেটারদের এই দাবি কার্যকর করতে হলে বোর্ডকে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হবে। তবে বিসিবি পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। উল্টো টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের বক্তব্যে পরিষ্কার, এমন ভাবনা তাঁদের আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, ‘একটি সত্যি কথা বলি, ওরা যদি আমাদের কাছে দাবিদাওয়া নিয়ে না-ও আসত, তবু আমরা ওদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতাম। এটা আমাদের চিন্তায়ই ছিল। কারণ আমরা চাই, বছরে এসব টুর্নামেন্ট খেলেই যাতে ক্রিকেটাররা ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করতে পারে। আমাদের এই বোর্ড ক্রিকেটের অবকাঠামো আর ক্রিকেটারদের উন্নতিতেই সর্বোচ্চ শ্রম দিচ্ছে।’
বোর্ডের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার বিষয়টিও সিরাজউদ্দিন আলমগীর উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, আমরা তো ওদের কথা চিন্তা করেই তিনটি পুরনো টুর্নামেন্টকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি। সেই কাঠামো যদি বাস্তবায়ন হয়ে যায়, তাহলে এটা কোনো ব্যাপারই না। ধরুন, আমরা যদি তিনটি টুর্নামেন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করি, সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের পাঁচ কোটি দিতে তো সমস্যা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুসহ ১০ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রূপা এবং মোজাম্মেল বাবু অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্যদিকে, হাসানুল হক ইনু অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। একই মামলায় আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যার ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংঘটিত নিপীড়ন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনে প্রদর্শনীর জন্য ধার দেওয়া ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বেয়ু ট্যাপেস্ট্রি দেখে মুগ্ধ হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন। বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে অভিবাসী বহনকারী নৌকা ও ইউক্রেন যুদ্ধ।
প্রায় ৭০ মিটার (২৩০ ফুট) দীর্ঘ এবং ৫০ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চি) উঁচু একটি সূচিকর্ম করা কাপড় বেয়ু ট্যাপেস্ট্রি। এই ট্যাপেস্ট্রিতে ১০৬৬ সালে ইংল্যান্ডে নরম্যানদের বিজয়ের পূর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ট্যাপেস্ট্রির প্রদর্শনীর উদ্বোধনী পূর্বপ্রদর্শনী অনুষ্ঠানে দুই নেতা প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লসও উপস্থিত ছিলেন।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। উভয় পক্ষই এই অনুষ্ঠানকে দুই দেশের ইতিবাচক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি আশা করেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ‘হাজার বছরের পুরোনো এই সূচিকর্মের সুতার মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া দুই দেশের শতাব্দীজুড়ে অভিন্ন ইতিহাসের কাহিনি’ স্মরণ করবে।
প্রায় এক দশক ধরে ট্যাপেস্ট্রিটি যুক্তরাজ্যে ধার দেওয়ার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মাখোঁ। ব্রেক্সিটের বছরগুলোতে তৈরি হওয়া তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার পথে এই প্রদর্শনীকে আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একাদশ শতাব্দীর এই শিল্পকর্মে উইলিয়াম দ্য কনকারারের ইংল্যান্ড জয় প্রদর্শিত হয়েছে। জুলাই মাসে এটি লন্ডনে পৌঁছায়। প্রদর্শনীটির সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
বার্নহাম তার বক্তব্যে এটিকে ‘আশাবাদ ও প্রত্যাশায় পূর্ণ নতুন ভবিষ্যৎ’ গড়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বার্নহামের আমলে ডাউনিং স্ট্রিটে আমন্ত্রিত প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতা হতে যাচ্ছেন মাখোঁ। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জুলাইয়ে সেখানে সফর করেছেন।
মাখোঁর জন্য এ সফর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। তার মেয়াদ ২০২৭ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা।
-‘আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই’-
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
বুধবার বার্নহাম ফরাসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিবাসন নিয়ে আমরা ফরাসি সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। একসঙ্গে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে।’
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, নেতারা ‘মেগা ডিঙ্গি’ বা আরও বড় ও শক্তিশালী নৌকার ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করবেন।
এ ধরনের নৌকা নিয়ে অভিবাসীদের যাত্রা ঠেকাতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৪৫ জন ফরাসি কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত একটি ‘সার্জ টিম’ সৈকতে মোতায়েন করা হবে বলে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে।
সরকার সোমবার জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অভিবাসী বহনকারী ছোট নৌকার সংখ্যা ২০১৯ সালের পর সবচেয়ে কম ছিল। ফ্রান্সের সঙ্গে করা প্রয়োগমূলক চুক্তির সাফল্য হিসেবে সরকার এটিকে তুলে ধরেছে।
তবে বৈঠকের আগে ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বার্নহাম বলেন, ‘আমাদের আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। চোরাচালানকারী চক্রগুলো নিয়মিত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে দ্রুত এর জবাব দিতে হবে।’
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি লন্ডনের সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন বার্নহাম। তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরে কিয়েভ যান।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে মাখোঁ বার্নহামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইউক্রেনের জন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবী জোটের যৌথ উদ্যোগও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্ক্যালপের বিভিন্ন উপাদানসংক্রান্ত তথ্য যুক্তরাজ্যের সরবরাহের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ফ্রান্সে তৈরি স্ক্যালপ হলো যুক্তরাজ্যের স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্রের ফরাসি সংস্করণ।
মাখোঁ ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর জোটে তারা নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করেছেন।
বার্নহাম বুধবার ফরাসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্রিটেনে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ইউক্রেনের বিষয়ে আমাদের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
-পারস্পরিক সম্মান-
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয়—এমন ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠায় মাখোঁ এখনো আগ্রহী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পরও এ ক্ষেত্রে ব্রিটেনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মতো দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেন, প্যারিস ও লন্ডন ‘সব বিষয়ে সবসময় একমত হয় না’। তবে ‘আমরা পরস্পরকে সম্মান করি এবং সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক পুনর্গঠনের অগ্রগতিও রয়েছে।’
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী বার্নহাম।
তিনি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার পূর্বসূরি যা অর্জন করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’
বার্নহাম বলেন, ‘ব্রেক্সিটের ১০ বছর পর এখানকার মানুষ দিকনির্দেশনার অভাবে বিরক্ত। তারা বুঝতে পারছেন, আমাদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।’
তবে কিংস কলেজ লন্ডনের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ মেনন সতর্ক করে বলেছেন, বৈঠকে ‘সারবস্তুর চেয়ে কৌশল বেশি গুরুত্ব পাওয়ার’ ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আপনারা যত খুশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আবহ তৈরি করতে পারেন। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের অগ্রগতি প্রয়োজন। আর আমার ধারণা, সেখানে কোনো অগ্রগতি হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে সমাজ বিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়।
আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল ধরে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে কিছু সময় পর পর ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মত এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর, দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারো গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।
ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।
একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যা লঘু’। তাই, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশী ভাবি। রাষ্ট্র এবং সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’।
তিনি বলেন, আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।
বিস্তারিত আসছে.....
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় ৩০ জন আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ এই আসামিদের ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন।
সকালবেলা গ্রেপ্তার হওয়া ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এই আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি এবং লেখক শাহরিয়ার কবির অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রূপাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৫ মে আসামিদের সহযোগিতায় রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হেফাজতে ইসলামকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ