প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তখনও তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়নি। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে বোর্ডে আসার পর দ্বিতীয় বোর্ড সভায় ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন এবং ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
পাঁচ মাসের ব্যবধানে আবারও বোর্ডকে পুরুষ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর আয়োজন না করার ক্ষতিপূরণ হিসেবে, বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সকল টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন ক্রিকেটাররা। এই পরিমাণ প্রতি ক্রিকেটারের জন্য ৩০ লাখ টাকা।
বিসিবির আয়োজনে বর্তমানে চারটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়—জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের সংস্করণ দুটি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট।
এছাড়া রয়েছে বিসিএল ওয়ানডে এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টি। এই চারটি টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড়রা প্রত্যেকের জন্য বাড়তি ৩০ লাখ টাকা ম্যাচ ফি দাবি করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই বাড়তি অর্থ এক মৌসুমের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতেও কার্যকর রাখার প্রস্তাব তাদের। সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির দুটি টুর্নামেন্টে ২৫ হাজার টাকা ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকা থেকে সেটি বৃদ্ধি করে এক লাখ টাকা করা হয়েছিল। এবার খেলোয়াড়দের দাবি, অঙ্কটি আরও বড় আকারে সমন্বয় করা হোক। একই সঙ্গে নতুন নামে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির আদলে বিসিএলের দুটি টুর্নামেন্টে পরবর্তী আসর থেকে দুটি করে দল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়সংখ্যাও বাড়বে।
তবে, সর্বাধিক সংখ্যক ক্রিকেটারকে কিভাবে আর্থিকভাবে উপকৃত করা যায়, সেটি বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছিলেন ক্রিকেটাররা।
দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে গত পরশু সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সেই বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কিভাবে ১৫০ থেকে ২০০ খেলোয়াড়কে উপকৃত করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যেমন—টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা, যাতে একজন খেলোয়াড় সারা বছর সচ্ছলভাবে চলতে পারেন। বোর্ড আমাদের সব বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। খুব শিগগির বিসিবির সভায় এই প্রস্তাব পাস হওয়ার কথা আছে।’
ক্রিকেটারদের এই দাবি কার্যকর করতে হলে বোর্ডকে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হবে। তবে বিসিবি পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। উল্টো টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের বক্তব্যে পরিষ্কার, এমন ভাবনা তাঁদের আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, ‘একটি সত্যি কথা বলি, ওরা যদি আমাদের কাছে দাবিদাওয়া নিয়ে না-ও আসত, তবু আমরা ওদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতাম। এটা আমাদের চিন্তায়ই ছিল। কারণ আমরা চাই, বছরে এসব টুর্নামেন্ট খেলেই যাতে ক্রিকেটাররা ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করতে পারে। আমাদের এই বোর্ড ক্রিকেটের অবকাঠামো আর ক্রিকেটারদের উন্নতিতেই সর্বোচ্চ শ্রম দিচ্ছে।’
বোর্ডের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার বিষয়টিও সিরাজউদ্দিন আলমগীর উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, আমরা তো ওদের কথা চিন্তা করেই তিনটি পুরনো টুর্নামেন্টকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি। সেই কাঠামো যদি বাস্তবায়ন হয়ে যায়, তাহলে এটা কোনো ব্যাপারই না। ধরুন, আমরা যদি তিনটি টুর্নামেন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করি, সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের পাঁচ কোটি দিতে তো সমস্যা নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন