মোঃ তোফাজ্জল হোসেন পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৩ পি.এম
নওগাঁর পোরশায় বড় আকারের মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পোরশা থানা পুলিশ। এ সময় ৩ হাজার ৮৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির অর্থ বলে দাবি করা নগদ ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় আরও এক সহযোগী পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পোরশা থানা পুলিশ উপজেলার ১ নম্বর নিতপুর ইউনিয়নের কালাইবাড়ী গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে।পুলিশ জানায়, পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে কালাইবাড়ী গ্রামের মোঃ তহুরুল ইসলামের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোঃ শাকিল (২০), পিতা—মোঃ মজিবুর রহমান এবং মোছাঃ বেবী খাতুন (৩৩), স্বামী—মোঃ তহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুজনের বাড়িই কালাইবাড়ী গ্রামে।অভিযানকালে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তহুরুল ইসলামের বসতবাড়ির শয়নকক্ষের খাটের নিচে মাটির গর্তে লুকানো অবস্থায় ৩৮৭ পাতা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। প্রতি পাতায় ১০টি করে মোট ৩ হাজার ৮৭০ পিস ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৬১ হাজার টাকা।এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাদক বিক্রিলব্ধ বলে দাবি করা নগদ ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়েছে।পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় মাদক চক্রের আরও একজন সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদক সিন্ডিকেটের ওই চক্রটি ভারত থেকে মাদক এনে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করত বলে জানা গেছে।পুলিশ সুপার আরও জানান, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে নওগাঁ জেলা পুলিশ কাজ করছে। মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজন ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের নির্দেশে শেওড়াপাড়া মেট্রো রেল থেকে মিরপুর ১০ মেট্রো রেল পিলারে সকল প্রকার পোস্টার ও লিফলেট অপসারণের নির্দেশনা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আজ রবিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে ছাত্রদল ও যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা এই কার্যক্রমটি সম্পন্ন করেন।
স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা সকাল ১০ টা থেকে মিরপুর-১০ মেট্রো লের পিলারের পোস্টার ও লিফলেট অপসারণের কাজ শুরু করেন এবং বিকেল নাগাদ শেওড়াপাড়া মেট্রো রেল এলাকায় এসে অপসারণ কার্যক্রম শেষ করেন।
এ সময় মেট্রো লের প্রতিটি পিলার ও আশপাশের এলাকা থেকে সকল ধরনের লিফলেট ও পোস্টার অপসারণ করা হয়।
গতকাল শেওড়াপাড়া মেট্রো রেল এলাকায় সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম উদ্বোধনকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মেট্রো রেলের নিচে পিলারের লিফলেট ও পোস্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণা কলেজটিকে মুখরিত করে তুলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে।
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শাখাভিত্তিক নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং তাদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের শখ, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথাও শোনা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এইচ. এম. হাসান জাকির নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ. পি. জে. আবদুল কালামের উক্তি "মানুষ যেটা ঘুমিয়ে দেখে, সেটা স্বপ্ন নয়; মানুষ যেটা জেগে দেখে, সেটাই স্বপ্ন"। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নে নিয়মিত পড়াশোনা করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সময় ভাগ করে কীভাবে পড়াশোনা করতে হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শও দেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের একে একে তাদের শখ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা শোনেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ অ্যাডভোকেট, কেউ পাইলট, কেউ নার্স, কেউ সমাজসেবক, আবার কেউ ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্নের কথা জানান। এক শিক্ষার্থী বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি অ্যাডভোকেট হতে চান এবং তার শখ বই পড়া। অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তার শখ ভ্রমণ করা।
ইংরেজি বিভাগের লেকচারার মো. ইমদাদুল হক নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করার এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা পারভিন নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামসুন্নাহার নবীন শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোনা ও সিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কলেজের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান ও মানসম্মত পাঠদান করবেন বলে জানান। নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো ফলাফল করার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
এরপর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "তোমরা এই কলেজে ভর্তি হয়ে আমাদের ধন্য করেছ। এখন ভালো ফলাফল করে তোমরাই নিজেদের ধন্য করবে।"
তিনি বলেন, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর এ কলেজের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। একসময় বোর্ড, বুয়েট, মেডিকেল ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে উল্লেখ করে তিনি সেই সুনাম পুনরুদ্ধারে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কলেজের নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেন।
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "তোমরা আজ থেকে এই কলেজের শিক্ষার্থী। উচ্চমাধ্যমিকের সময়টা খুবই সামান্য। চোখের পলকে সময় চলে যাবে।" তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা ও সুস্থ থাকার পরামর্শ দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, "বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।"
অন্য এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, "আমার পরিবার হয়তো আমাকে এত দূর পড়তে দিতে চাইত না। কিন্তু এখানে পড়ার ইচ্ছা ছিল, তাই ভর্তি হয়েছি।"
নবীন শিক্ষার্থী ফারহানা আখি বলেন, "আজকের দিনটা খুবই ভালো কেটেছে। নতুন অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাদের কথাগুলো ভালো লেগেছে। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাগুলো শুনে একটু ভয়ও লাগছে—এখানে মানিয়ে নিতে পারব তো? অনেক আশা নিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছি। খুব আনন্দ লাগছে।"
একজন অভিভাবক বলেন, "মেয়ের স্বপ্ন ছিল এই কলেজে পড়া। আলহামদুলিল্লাহ, তাকে এখানে ভর্তি করাতে পেরেছি। আশা করছি, সে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল করবে এবং ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।"
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। নবীনদের প্রাণচাঞ্চল্যে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন অনিয়মের কারণে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। জরিমানার মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক বিক্রির দায়।
আজ রোববার দুপুরে, আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।
জানা যায়, রোববার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত হাটবোয়ালিয়া বাজার এলাকায় অভিযানের সময় মো. বাবুল বিশ্বাসের বিশ্বাস বীজ ভান্ডারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া, মিষ্টি জাতীয় সামগ্রীর উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ না দেওয়ার কারণে মো. জিয়া উদ্দিনের জিয়া ফল ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে আট হাজার টাকা এবং মো. সাহিবুল ইসলামের সিরাজ মিষ্টান্ন ভান্ডারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনটি দোকানের বিরুদ্ধে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানের সময় বাজারে মূল্য তালিকা হালনাগাদ করা এবং নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এ সময় জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রিয়াজ মাহমুদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৬ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। রোগীর চাপ মোকাবেলার জন্য ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা ৫টি থেকে ২৫টি করা হলেও, তাতেও সংকুলান হচ্ছে না। কিছু রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ৬ জন, জুনে ৪ জন, জুলাইয়ে ১৫ জন এবং আগস্টে ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরের ২৬ দিনে ভর্তি হওয়া ১০৪ জন রোগীসহ চলতি বছরে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যা ২০৪ জনে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মাত্র পাঁচটি শয্যা নির্ধারিত ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় আরও ২০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ২৫টি শয্যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় এসব শয্যায় জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্যান্য রোগীসহ প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শাকিলা আফরোজ বলেন, "বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। পাশের উপজেলা থেকেও অনেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে তাঁদের কষ্ট হচ্ছে।"
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ ময়না জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তিনি বলেন, "মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন। পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, "চলতি মৌসুমের শুরু থেকে মশক নিধনে তেমন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিভিন্ন ড্রেন, নালা ও মশার প্রজননস্থল অপরিষ্কার থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।"
রমেশ মন্ডল নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, "শুধু ওষুধ ছিটালে হবে না। ড্রেন-নালা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো দরকার।"
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, মশক নিধনে কার্যক্রম চলছে। পৌরসভার সচিব লালু সরদার বলেন, "স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পৌরসভার অর্থায়নে গত ৩০ আগস্ট থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। নিয়মিত ড্রেনও পরিষ্কার করা হচ্ছে।"
পাইকগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, "ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদেরও সচেতন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ