মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের টার্গেট হচ্ছে মানুষকে জাগিয়ে তোলা। এখানে অনেক অব্যবহৃত সম্ভাবনা রয়েছে, যা একসময় নিজেরাই বেরিয়ে আসবে। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের বেরিয়ে আসার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।’
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা আমাদের চেয়ে ভালো জায়গায় অবস্থান করুক। তারা আমাদের চেয়ে যোগ্য হয়ে শুধু এই চেয়ারে নয়, এর চেয়ে আরো বড় চেয়ারে কীভাবে বসা যায়—সেভাবে নিজেদের তৈরি করুক।’
মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত 'জব ফেয়ার' (চাকরি মেলা) উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো অবস্থাতেই চাই না এই প্রজন্মের তরুণরা মাদকাসক্ত হোক, অবহেলিত হোক বা কর্মহীন হোক। আমার মনে হয়, তাদের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা আছে, তার স্ফুরণ তারা ঘটাতে পারবে, যদি আমরা তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারি। আজকের এই জব ফেয়ার যদি সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ কীভাবে করা যাবে সেই দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তবেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে। এই অঞ্চল একটি অবহেলিত অঞ্চল। কাজেই আমাদের এই অঞ্চলকে জাগিয়ে তুলতে এই জব ফেয়ার একটি ইতিবাচক ধাক্কা বা ঢেউ হিসেবে কাজ করবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান ও আগামী দিনের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণ-তরুণীদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।’
মফস্বল অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে চাকরির সন্ধানে দূর-দূরান্তে বা বড় শহরে যাওয়ার ভোগান্তি ও যাতায়াত খরচ কমাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৮০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে প্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় যুবসমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী করা এবং সমকালীন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তরুণদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দক্ষতা বৃদ্ধি (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই 'জব ফেয়ার' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরামপুর জব ফেয়ার কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা (পিপিএম) প্রমুখ।
মেলায় ব্যাংক, টেক্সটাইল, ওষুধ, আইটি ও এনজিওসহ দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৮০টি দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অনলাইনে বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেছেন।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মক্কা, সৌদি আরবের পবিত্র নগরীতে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও মুসল্লিরা ওমরাহ পালন করেছেন। গতকাল সোমবার, পবিত্র মসজিদুল হারামে বৃষ্টির সময় মুসল্লিদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টির মধ্যে মুসল্লিরা মসজিদুল হারামে ইবাদতে ব্যস্ত রয়েছেন। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববির বিষয়াবলি দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাধারণ কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা ছবিটি রয়টার্স প্রকাশ করেছে।
মক্কায় বৃষ্টির কারণে পবিত্র এই স্থানে এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও মুসল্লিদের ইবাদত অব্যাহত রাখার দৃশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) পূর্বে মক্কাসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। ১৯ অক্টোবর মক্কায় ভারী বৃষ্টির কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। সেই সময় প্রবল বাতাস, দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়া, শিলাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও বজ্রঝড়ের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল।
এর আগে ১৪ অক্টোবরেও মক্কা, জাজান ও আল-বাহা অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়।
বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা অনুসরণ করা জরুরি বলে সৌদি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।
পবিত্র মক্কায় বৃষ্টির মধ্যেও মুসল্লিদের ওমরাহ পালন ও ইবাদতের দৃশ্য আবারও বিশ্বের মুসলমানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে বৃষ্টির কারণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার ১২ নম্বর রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে রহমতপুর ইউনিয়নে এ উপলক্ষে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শাহ আলম সওদাগর। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রহমতপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহজাহান ও মো. রিয়াদ সওদাগর। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহাবউদ্দিন।
উঠান বৈঠকে এলাকার উন্নয়ন, জনসেবা, নাগরিক সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় মানুষের মতামত ও প্রত্যাশা জানার পাশাপাশি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে করণীয় বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
আয়োজনের ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, ১২ নম্বর রহমতপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে মো. নিজাম উদ্দিনের এ উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থিতার আগ্রহ প্রকাশ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার সমস্যা ও নাগরিক প্রত্যাশা তুলে ধরার এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মো. আজিম (৩০) নামের ওই যুবক নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষ্মীমোড়া গ্রামের ‘বড় পুকুর’ এলাকার ঝোপ থেকে আজিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবক আজিম আলী আজগর মিয়ার ছেলে।
এদিকে, আজিমের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। রফিকুল ইসলাম হাসেম মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আজিম ২৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার দিন ভোরে আটক রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। সোমবার রাতে রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনের রাস্তায় দুর্গন্ধ পেলে খোঁজাখুঁজি করে পুকুর পাড়ের ঝোপ থেকে আজিমের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে।
বিজয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চন্দ্র সরকার এ বিষয়ে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পূর্বে একদিনে সর্বাধিক ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই সময়ে ২,০৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগের দুই সিটি করপোরেশনসহ ৮৯৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, খুলনায় ২৫০ জন, ময়মনসিংহে ৯৭ জন, রাজশাহীতে ২২৯ জন, রংপুরে ১১২ জন এবং সিলেটে ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছেন ৬,৪১৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে। এ বছর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতাল থেকে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ