মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
মাদারীপুরের রাজৈর ও সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ও রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা এসব অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি এলাকায় উজ্জল হাওলাদারের টিনের তৈরি কাচারিঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আসাদ মাতুব্বর (২৩), নবীন শেখ (২০) ও আলমগীর শেখ (২৮) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পরে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মাদারীপুর সদর উপজেলার গৈদী এলাকায় সার্বিক ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে আফজাল জামান (২৭), মেহরাব হোসেন চয়ন (২২), শামীম মোল্লা (২৮) ও ফারদিন আহমেদ শুভ (২৮) নামে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫০ পিস ইয়াবা।
মাদারীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জয়নাল আবদীন নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু তদন্ত, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জয়নাল আবদীন।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবদীন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার আপন ছোট ভাই আলাউদ্দিন।
তার দাবি, আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করার পর ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে তার বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জয়নাল আবদীন জানান, ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব মিরসরাই থানার এসআই ইব্রাহিমের কাছে আসে।
তদন্তের বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি দুই সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে মিরসরাই থানায় যান।
পরে থানা থেকে বের হওয়ার সময় আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন তার সঙ্গে থাকা সাক্ষীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে তার সাক্ষীদের অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন জয়নাল আবদীন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি ও তার সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে মীরসরাই থানার এসআই ইব্রাহিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদেরকে জানান আলাউদ্দিন গালাগাল করার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। অপহরণ বা ধস্তাধস্তির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এছাড়া আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান।
এদিকে জয়নাল আবদীন দাবি করেন,তার ৭ লক্ষ টাকার পাহাড়ি গাছ কেটে নেওয়ায় আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মামলা করেন, যার মামলা নং সিআর ৪৫৭/২৫ দায়ের করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে।
পরবর্তীতে আদালত আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এখনো পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন জয়নাল।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবদীন বলেন, “আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না, আমি আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ন্যায়বিচার চাই।
আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।
তিনি আরও বলেন, তার মামলার সাক্ষীদের যারা ভয়ভীতি দেখিয়েছে বা অপহরণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জয়নাল আবদীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"আল্লাহ, এত কষ্ট করে ধান ফলালাম, এখন সব পানির নিচে!"—এমন আহাজারি শোনা যাচ্ছে কালিয়ারকোটা হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালিয়ারকোটা হাওরের দৃশ্য এখন কৃষকদের দুঃখের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগে যে হাওরের মাঠ সোনালি পাকা ধানে ভরে উঠেছিল, সেই মাঠের একটি বড় অংশ এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকের চোখের সামনে যখন পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে, তখন তাদের কান্না থামার নাম নেই।
বছরের শুরুতে কৃষকরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বোরো ধান চাষ শুরু করেন। জমি প্রস্তুত করা, বীজ ও সার সংগ্রহ, চারা রোপণ, সেচ, কীটনাশক প্রয়োগ—এই সবকিছুর জন্য কৃষকদের দীর্ঘ সময় ও প্রচুর শ্রম দিতে হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত পরিশ্রম করেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা।
যখন ধান ধীরে ধীরে পেকে সোনালি রং ধারণ করে, তখন কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। মনে থাকে—আর কিছুদিন পর ধান কেটে ঘরে তুলবেন। সেই ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবেন, সংসারের খরচ চালাবেন, সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাবেন।
কিন্তু প্রকৃতির পানির কাছে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।
পাকা ধান পানির নিচে 'হাওরের দিকে তাকালে এখন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পাশে আজমুল হোসেন নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হাসনাত হাবিব রিফাত নামে এক সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল সোমবার রাতে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
হত্যা মামলাটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাসনাত হাবীব রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তিনি কৃষি ব্যাংকে চাকরি পান। আজমুলদের মেসে থেকেই তিনি ব্যাংকে যাতায়াত করতেন। রিফাতের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুণেরগাতী গ্রামে।
আরো পড়ুন
বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ মামলায় আ. লীগের ১০ নেতাকর্মী কারাগারে।
নগরীর হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আজমুলকে মারধরের সময় রিফাত উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে চুরির অপবাদ দিয়ে আজমুলকে পেটানো হয়। একপর্যায়ে আজমুল চারতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন, নাকি মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে তা তদন্ত করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় ২৫ জনের বিরুদ্ধে নগরীর হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে গণ্ডারদের সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২২ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব গণ্ডার দিবস’ পালিত হয়। ২০১০ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) সাউথ আফ্রিকার উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা, চিড়িয়াখানা এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনটি উদযাপন করে থাকেন।
গণ্ডারের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং তাদের টিকে থাকার চরম ঝুঁকির বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। মূলত ভৌগোলিক কারণ এবং মানুষের অবিবেচক কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ, এই প্রাণীটি বর্তমানে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
গণ্ডারদের জন্য প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের শিং চোরাশিকার এবং অবৈধ বিক্রি। লোকজ চিকিৎসায় ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এই শিং ব্যবহারের একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। এছাড়াও, ‘জাম্বিয়া’ নামক বিশেষ আনুষ্ঠানিক ছোরার হাতল তৈরির মতো আলংকারিক কাজে এই শিং ব্যবহৃত হয়। উচ্চ চাহিদার কারণে চোরাশিকারিরা এই প্রাণীর ওপর নজর রাখে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১০টি আফ্রিকান গণ্ডার শিকারিদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফ্রিকায় প্রায়-বিপন্ন ক্যাটাগরির সাদা গণ্ডার মাত্র ১৬৮০৩টি জীবিত রয়েছে। অন্যদিকে, চরমভাবে বিপন্ন কালো গণ্ডারের সংখ্যা ৬৪৮৭টির মতো। একটি উপপ্রজাতি ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে; বাকিদের বাঁচিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক স্তরে চোরাশিকার বন্ধ করা এবং অভয়ারণ্য তৈরির মতো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ায় কঠোর আইন প্রয়োগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে একশৃঙ্গ ও কালো গণ্ডারের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জাভা ও সুমাত্রার মতো বিরল প্রজাতিগুলো প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ