মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০০ পি.এম
বিশ্বজুড়ে গণ্ডারদের সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২২ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব গণ্ডার দিবস’ পালিত হয়। ২০১০ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) সাউথ আফ্রিকার উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা, চিড়িয়াখানা এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনটি উদযাপন করে থাকেন।
গণ্ডারের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং তাদের টিকে থাকার চরম ঝুঁকির বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। মূলত ভৌগোলিক কারণ এবং মানুষের অবিবেচক কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ, এই প্রাণীটি বর্তমানে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
গণ্ডারদের জন্য প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের শিং চোরাশিকার এবং অবৈধ বিক্রি। লোকজ চিকিৎসায় ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এই শিং ব্যবহারের একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। এছাড়াও, ‘জাম্বিয়া’ নামক বিশেষ আনুষ্ঠানিক ছোরার হাতল তৈরির মতো আলংকারিক কাজে এই শিং ব্যবহৃত হয়। উচ্চ চাহিদার কারণে চোরাশিকারিরা এই প্রাণীর ওপর নজর রাখে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১০টি আফ্রিকান গণ্ডার শিকারিদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফ্রিকায় প্রায়-বিপন্ন ক্যাটাগরির সাদা গণ্ডার মাত্র ১৬৮০৩টি জীবিত রয়েছে। অন্যদিকে, চরমভাবে বিপন্ন কালো গণ্ডারের সংখ্যা ৬৪৮৭টির মতো। একটি উপপ্রজাতি ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে; বাকিদের বাঁচিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক স্তরে চোরাশিকার বন্ধ করা এবং অভয়ারণ্য তৈরির মতো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ায় কঠোর আইন প্রয়োগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে একশৃঙ্গ ও কালো গণ্ডারের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জাভা ও সুমাত্রার মতো বিরল প্রজাতিগুলো প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টের স্বত্ব বেসকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ক্ষমা চাওয়ার পরেও ফিফার সভাপতির জন্য সেই সমালোচনা থেকে মুক্তি মেলেনি। বিতর্কিত প্রস্তাবের মধ্যে এবার নতুন একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন তিনি।
ফিফা কিভাবে প্রধান সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করে, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন বাহ্যিক পর্যালোচনার প্রস্তাব করেছেন ইনফান্তিনো। সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি স্বীকার করেছেন যে, বিনিয়োগ পরিকল্পনা (যা বাতিল করা হয়েছে) যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, তা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।
ফিফা কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ইনফান্তিনো উল্লেখ করেছেন, ‘প্রথমত, আমি কাউন্সিলকে জিজ্ঞাসা করব যে তারা প্রধান কৌশলগত উদ্যোগগুলোর ক্ষেত্রে ফিফার বর্তমান পরিচালনা কাঠামোর একটি স্বাধীন বাহ্যিক পর্যালোচনা করাতে চায় কি না এবং সম্ভাব্য উন্নতির সুপারিশ করতে চায় কি না।’
ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কনফেডারেশন, সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবও ইনফান্তিনো দেবেন।
এই পর্যালোচনায় প্রধান উদ্যোগগুলোতে কার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে তা পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে সভাপতি, ব্যুরো, কাউন্সিল এবং কংগ্রেসের নিজ নিজ ভূমিকা এবং কিভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাবাড়ানো যায়, তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক অধিকারের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার কারণে ইনফান্তিনো তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। বিরোধিতা ও বয়কটের হুমকির কারণে গত জুলাই মাসে সেই পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং কনকাকাফ ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানায়।
সেই প্রস্তাব নিয়ে ইনফান্তিনো জানান, বাতিল হওয়া পরিকল্পনাটিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল ফিফার নিয়ন্ত্রিত একটি বাণিজ্যিক কম্পানির সংখ্যালঘু শেয়ার বিক্রি করে ফুটবল উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা যায় কি না। তবে এতে খেলাধুলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ফিফার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার কোনো বিষয় ছিল না বলে তিনি জানান।
প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রকাশ্যে আসায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘স্বীকার করি যে, পুরো প্রেক্ষাপট না জানার কারণে এটি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। এমন একটি ধারণা হয়েছিল যেন সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কেবল একটি প্রস্তাব ছিল, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এটি সব সময়ই কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এটি এখন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে আর কার্যকরও হবে না।’
ইনফান্তিনো আরও নিশ্চিত করেন যে, কোনো প্রস্তাব বা পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মতামত যাই হোক না কেন, তা ফিফার পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফিফার উন্নয়ন ও সংহতিমূলক কর্মসূচিগুলো নিয়ম অনুযায়ীই চলতে থাকবে। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রস্তাব বা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে কোনো অ্যাসোসিয়েশনের অবস্থানের ওপর ফিফার আচরণ নির্ভর করবে না। আমি ফিফাকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা একসাথে যা অর্জন করতে পারি, সে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে নতুন সীমান্ত সহযোগিতা চুক্তি ভারতের উদ্বেগ ও আপত্তির মুখে এসেছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি করে আসছে। দিল্লির বক্তব্য হলো, ওই এলাকায় পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত স্বীকৃত নয়।
পাকিস্তান ও চীন গত সপ্তাহে একটি প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারের জন্য যৌথ কমিশন গঠনের বিষয়ে চুক্তি করেছে। পাকিস্তান এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে ভারত এই চুক্তিটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। দিল্লির দাবি, তথাকথিত যৌথ কমিশনেরও কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
শাকসগাম উপত্যকা ঘিরে বিরোধ
নতুন চুক্তির আওতায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে শাকসগাম উপত্যকা রয়েছে। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান এই ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের অঞ্চলটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত অবশ্য সেই চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ এবং পাকিস্তান এটি দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতীয় ভূখণ্ড ‘অবৈধভাবে ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে’ দখলে রাখা হয়েছে এবং পাকিস্তানের ওই ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার নেই।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে ভারতের প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলে ইসলামাবাদ মনে করে।
দিল্লির শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জেকবের মতে, সাম্প্রতিক উদ্যোগটি ভারত-পাকিস্তান ও ভারত-চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধেরই আরেকটি প্রকাশ। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৬৩ সালের চুক্তিতে যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা থাকলেও এত বছর পর কেন এটি কার্যকর করা হলো।
জেকবের মতে, এর পেছনে চীনের বৃহত্তর সীমান্ত নির্ধারণের উদ্যোগের পাশাপাশি পাকিস্তানের অন্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময়ে এই এলাকায় যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগ্রহ কাজ করতে পারে।
ভারত-চীন সম্পর্কের স্পর্শকাতর সময়ে এই সীমান্ত সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে, যখন কয়েক বছরের সামরিক উত্তেজনার পর ভারত ও চীন হিমালয় সীমান্তে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্কিত লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালে লাদাখে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। এরপর দুই দেশ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের পাশের এলাকায় চীন ও পাকিস্তানের সীমান্ত সহযোগিতা বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
জাবিন টি জেকব বলেন, এ ঘটনায় ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাঁর মতে, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তির একটি ধারাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ওই চুক্তির ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে কাশ্মীর বিরোধ নিষ্পত্তির পর সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষের সঙ্গে চুক্তি পুনরায় আলোচনার কথা বলা হয়েছিল।
অবকাঠামো ও কৌশলগত স্বার্থ
পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে বিস্তৃত অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) এবং কারাকোরাম মহাসড়ক।
যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমি ও হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি মনে করেন, নতুন যৌথ সীমান্ত কমিশন বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক উদ্যোগ উভয়ই।
তাঁর মতে, সীমান্ত সহযোগিতা জোরদার করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য কমিশনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভারতের প্রতি চীনের একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।
হাক্কানি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে চীন কখনো ভারতের অবস্থান মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও বেইজিং পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানও চীনের সঙ্গে ১৯৬৩ সালের চুক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি আগ্রহী হয়েছে।
চীনের কৌশলগত বার্তা?
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সহযোগিতা আরও গভীর করার মধ্যে কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক উভয় ধরনের স্বার্থ রয়েছে।
হুসেইন হাক্কানি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং একই সঙ্গে ভারতকে চীন ও পাকিস্তান—দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের কৌশলগত বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
চুক্তি কার্যকরের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি। তাঁর মতে, চীন সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনেক আগে পরিকল্পনা করে। ফলে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকরের সিদ্ধান্তও আগে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এর ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন চীন আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে।
অন্যদিকে অধ্যাপক জাবিন টি জেকব মনে করেন, আন্তর্জাতিক তথ্যপরিসরে চীনের তুলনামূলক প্রভাব ভারতের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাঁর মতে, চীনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তৃত উপস্থিতির কারণে বেইজিং আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের বয়ান ও মানচিত্র তুলে ধরার সুযোগ বেশি পায়।
তাৎক্ষণিক সামরিক প্রভাব কতটা?
তবে এই চুক্তিকে সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন জাবিন টি জেকব। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে এলএসি বরাবর এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।
অর্থাৎ, গত সপ্তাহের ঘোষণার তাৎপর্য তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তের পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার মধ্যে নাও থাকতে পারে। বরং ভারত যে ব্যবস্থাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে, সেগুলোকে পাকিস্তান ও চীন ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে—এটাই দিল্লির উদ্বেগের বড় কারণ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এ বিষয়ে তাদের অবস্থানকে ‘স্পষ্ট ও ধারাবাহিক’ বলে জানিয়েছে। দিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং এতে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
হুসেইন হাক্কানির মতে, বিষয়টি শুধু সীমান্তের আইনি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর ভূকৌশলগত বাস্তবতাও জড়িত। তাঁর ভাষায়, ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধের মূল জায়গাটি অনেকাংশে ভূকৌশলগত। ফলে সীমান্ত নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্জনেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পাকিস্তান ও চীনের এই সীমান্ত সহযোগিতা তাই তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পরিবর্তনের চেয়ে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্যোগ হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিবিসি বাংলা
পাকিস্তানের করাচির গওয়াদার বন্দর, যা চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডোর হিসাবে তৈরি হয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউক্রেনকে শান্তির পথে নিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট প্রভাব ও চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। তবে সাবেক মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন মন্তব্য করেছেন যে, ওয়াশিংটনের কাছে সেই প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই।
মঙ্গলবার রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শান্তির দিকে এগিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করার সক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, কিয়েভকে শান্তির পথে আনতে প্রয়োজনীয় প্রভাব ওয়াশিংটনের হাতে রয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রভাব ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়নি।
ল্যারি জনসন আরও বলেন, মূল বিষয় হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইউক্রেনকে শান্তির দিকে এগিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে পারে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউক্রেন হয়তো কোনো ধরনের ছাড় দিতে চাইবে না। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহব্যবস্থা এবং গোলাবারুদের ওপর দেশটির নির্ভরতার বাস্তবতায়, শেষ পর্যন্ত তাদের সামনে খুব বেশি বিকল্প থাকবে না।
ল্যারি জনসন এর আগে সিআইএ এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মন্তব্য করেন। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা)-এর (টিও) লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং এর জন্য জারি করা প্রজ্ঞাপন স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার হাইকোর্টের আপিল বিভাগ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হিসেবে প্রজ্ঞাপনটিকে স্থগিত করার আদেশ প্রদান করে।
আরো পড়ুন
মোবাইল না দেওয়ায় বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় কিশোর।
সূত্রে জানা গেছে, বালাইনাশক আমদানিকারক কোম্পানির প্ররোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বামা এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনকে (বিসিপিএ) একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৯ সেপ্টেম্বর বামার ট্রেড অর্গানাইজেশন (টিও) লাইসেন্স বাতিল করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বামার পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। রিটের শুনানি শেষে আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটিকে আইনবহির্ভূত হিসেবে গণ্য করে তা স্থগিত করার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বামার সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান ও সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরো পড়ুন
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে সাইকেল ও গণপরিবহনকে অগ্রাধিকারের দাবি।
আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সালেকুজ্জামান বলেন, হাইকোর্ট বামার (টিও) লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ এবং বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হবে না, সেই বিষয়ে রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাতিলের প্রজ্ঞাপনটিকে স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে বামার লিগ্যাল অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর আইনগত বাধা নেই।
তিনি আরও জানান, আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংগঠনটি তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড বৈধভাবে পরিচালনার অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ এবং সংগঠনের সাংবিধানিক ও পেশাদারি অস্তিত্ব পুনরুদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ