প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বজুড়ে গণ্ডারদের সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২২ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব গণ্ডার দিবস’ পালিত হয়। ২০১০ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) সাউথ আফ্রিকার উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা, চিড়িয়াখানা এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনটি উদযাপন করে থাকেন।
গণ্ডারের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং তাদের টিকে থাকার চরম ঝুঁকির বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। মূলত ভৌগোলিক কারণ এবং মানুষের অবিবেচক কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ, এই প্রাণীটি বর্তমানে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
গণ্ডারদের জন্য প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের শিং চোরাশিকার এবং অবৈধ বিক্রি। লোকজ চিকিৎসায় ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এই শিং ব্যবহারের একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। এছাড়াও, ‘জাম্বিয়া’ নামক বিশেষ আনুষ্ঠানিক ছোরার হাতল তৈরির মতো আলংকারিক কাজে এই শিং ব্যবহৃত হয়। উচ্চ চাহিদার কারণে চোরাশিকারিরা এই প্রাণীর ওপর নজর রাখে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১০টি আফ্রিকান গণ্ডার শিকারিদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফ্রিকায় প্রায়-বিপন্ন ক্যাটাগরির সাদা গণ্ডার মাত্র ১৬৮০৩টি জীবিত রয়েছে। অন্যদিকে, চরমভাবে বিপন্ন কালো গণ্ডারের সংখ্যা ৬৪৮৭টির মতো। একটি উপপ্রজাতি ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে; বাকিদের বাঁচিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক স্তরে চোরাশিকার বন্ধ করা এবং অভয়ারণ্য তৈরির মতো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ায় কঠোর আইন প্রয়োগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে একশৃঙ্গ ও কালো গণ্ডারের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জাভা ও সুমাত্রার মতো বিরল প্রজাতিগুলো প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন