ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গাপূজা


আজ বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গাপূজা

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। এবারের দুর্গাপূজা প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। এর আগে সকালে বিভিন্ন মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে আসেন এবং নৌকায় চড়ে চলে যান।

গতকাল মঙ্গলবার মহানবমী পালন করা হয়েছে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঢাকের বাদ্য, মন্ত্রপাঠ এবং ভক্তদের প্রার্থনার মাধ্যমে। রাজধানী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির—সর্বত্র দেবীর পূজা, অঞ্জলি ও নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দের মাঝে বিদায়ের সুরও ভক্তদের মনে দেখা গেছে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। মন্দির প্রাঙ্গণ মন্ত্রপাঠ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে মুখর হয়ে ওঠে। সকাল সোয়া ১০টায় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পরে ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে অঞ্জলি দেন। পুরোনো মন্দিরে হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: টানা ৫ দিনের ছুটি শেষে খুলছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত

পূজা শেষে অনেক ভক্ত মন্দিরের মেলায় ঘুরে বেড়ান। বিভিন্ন দোকানে ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা বিক্রি হচ্ছিল। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের প্রার্থনায় ছিল অশুভ শক্তির বিনাশ, মানুষের মঙ্গল এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা।

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমীর বিশেষ আয়োজন ছিল। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা উপবাস রেখে পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নবমীর মহাপূজা চলতে থাকে। দুপুর ১২টার মধ্যে মহাহোম বা যজ্ঞ সম্পন্ন হয়। ভোগ নিবেদন শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় দেবীর আরতির পাশাপাশি ধুনুচি নাচের আয়োজন করা হয়। ঢাক ও কাঁসার তালে ধুনুচি নাচে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা অংশ নেন।

মন্দিরের আয়োজকরা জানান, বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

আজ বিদায়ের পালা

আরও পড়ুন: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে শোকবার্তা

গতকাল মহানবমী ছিল দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন ভক্তরা। সন্ধ্যায় অনেক মণ্ডপে আরতি অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোথাও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। সকালে বিভিন্ন মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা হবে। এরপর প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রতিমা নির্ধারিত আয়োজন অনুযায়ী নদীঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিমাগুলো পানিতে বিসর্জনের মাধ্যমে কয়েকদিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা শেষ হবে।

এবার সপ্তমীর তিথি দুই দিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা হয়েছে। গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতার পর এখন বিজয়া দশমীর অপেক্ষা। শেষ সময়ে ভক্তদের আনন্দের সঙ্গে বিচ্ছেদের অনুভূতি মিশে গেছে। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে তাদের প্রার্থনা—মানুষের জীবনে শান্তি আসুক, অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, এবং সমাজে বজায় থাকুক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য।

পূজা ও যজ্ঞের তাৎপর্য তুলে ধরে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’

আরও পড়ুন: শিল্পবন্দরের চাপে সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বিপর্যস্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় ৭২ বোতল ভারতীয় মদসহ যুবক আব্দুল খালেক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


নেত্রকোনায় ৭২ বোতল ভারতীয় মদসহ যুবক আব্দুল খালেক আটক

নেত্রকোনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পরিচালিত অভিযানে মো. আব্দুল খালেক (২৩) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে, যার কাছে ৭২ বোতল ভারতীয় বিলাতি মদ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর পিডিবি পাওয়ার গ্রিডের সাকুয়া-সনুরা সড়কে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। আটককৃত আব্দুল খালেক কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ফারুক হোসেনের পুত্র।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বোতল ভারতীয় বিলাতি মদ এবং মদ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ১টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনার পর, আটক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি কঠিন, চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি কঠিন, চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে রুবিও জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা বন্ধ করতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।"

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এসব বিষয়ে সমঝোতা না হলে সংঘাত নিরসনে অগ্রগতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু, পাচারকারীর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু, পাচারকারীর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ২০২২ সালে অভিবাসী পাচারের ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু ঘটানোর জন্য এক গুয়াতেমালার নাগরিককে ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই রায় ঘোষণা করা হয়। ৩৯ বছর বয়সী রিগোবার্তো রোমান মিরান্ডা-ওরোজকোকে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পাচারের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। মিরান্ডা-ওরোজকো স্বীকার করেছেন যে, এই ঘটনায় নিহত দুজন এবং গুরুতর আহত একজনের যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।

২০২২ সালের জুন মাসে, মেক্সিকো সীমান্তের শহর লারেডো থেকে টেক্সাসের সান আন্তোনিও যাওয়ার পথে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের আবদ্ধ পেছনের অংশে অভিবাসীদের নেওয়া হচ্ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই যাত্রায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ট্রাকটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। ফলে ভেতরে থাকা মানুষজন ঠান্ডা বাতাস থেকে বঞ্চিত হন।

পরে সান আন্তোনিওর একটি নির্জন সড়কের পাশে পরিত্যক্ত ট্রাকটি পাওয়া যায়। ট্রাকটির ভেতর থেকে ৪৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন মারা যান। মোট ৫৩ জন প্রাণ হারান।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ট্রাকের ভেতরে আটকে পড়া অভিবাসীরা গরম থেকে বাঁচতে নিজেদের পোশাক খুলে ফেলেছিলেন। ট্রাকের দেয়ালে বাইরে বের হওয়ার জন্য আঁচড় কাটার চিহ্নও পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী জাস্টিন সিমন্স বলেন, "জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তাদের ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল।" নিহতদের মধ্যে ২১ জন গুয়াতেমালার নাগরিক ছিলেন।

মিরান্ডা-ওরোজকোকে ২০২৪ সালে গুয়াতেমালায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের বছর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি অভিবাসী পাচারের ষড়যন্ত্র, পাচারের ঘটনায় মৃত্যুর জন্য সহায়তা এবং গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সহায়তা করার অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক অরল্যান্ডো গার্সিয়া তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায় ভয়াবহ ওই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালায় প্রায় ২০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে পাচারকারী চক্রের নেতা হিসেবে পরিচিত ফেলিপে ওরদুনা-তোরেসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার প্রধান সহযোগী আরমান্দো গনজালেস-ওর্তেগার ৮৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। ট্রাকটির চালকসহ আরও কয়েকজনের সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টায় গত কয়েক দশকে হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। ২০১৭ সালে সান আন্তোনিওর একটি বিপণিবিতানের পাশে রাখা ট্রাকে আটকে পড়ে ১০ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে। ২০০৩ সালেও সান আন্তোনিওর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নববী শিক্ষার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পৃথিবী গড়ার গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


নববী শিক্ষার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পৃথিবী গড়ার গুরুত্ব

মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন এই পৃথিবীকে সভ্য ও সুশৃঙ্খল করার জন্য। তাঁদের মাধ্যমে মানবজাতিকে পার্থিব ও পরকালীন জীবনের সব বিষয় শেখানো হয়েছে। এই শিক্ষার ফলে মানুষের পৃথিবীর জীবন সহজ হয়েছে এবং সৃষ্টিজগতের অন্য সবকিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। আল্লামা রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) বলেন, ‘মানবজাতির প্রতি নবীদের প্রেরণ একটি অপরিহার্য বিষয়। মানুষ কখনোই তাদের শিক্ষা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না।’ (তাফসিরুর রাগিব : ৪/২৩২)

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) লেখেন, ‘রিসালাত মানুষের জন্য আবশ্যক ও প্রয়োজনীয় বিষয়। নবী-রাসুলদের প্রতি মানুষের প্রয়োজন অন্য সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। রিসালাত (নববী শিক্ষা) পৃথিবীর আত্মা, আলো ও প্রাণতুল্য। আত্মা, আলো ও প্রাণ ছাড়া পৃথিবীর কী-ই বা মূল্য আছে? রিসালাতের সূর্য ছাড়া পৃথিবী অন্ধকার ও অভিশপ্ত। মানুষের অন্তরে যখন রিসালাতের সূর্য উদিত হয় না, তা থেকে প্রাণশক্তি সঞ্চার করে না, তা-ও অন্ধকারে আচ্ছন্ন এবং মৃত। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমি পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার আলো দিয়েছি, সেই ব্যক্তি কি ওই ব্যক্তির মতো যে অন্ধকারে আছে এবং সেই স্থান থেকে বের হওয়ার নয়?’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১২২)

এটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। যে জাহালাতের অন্ধকারে মৃত ছিল আল্লাহ তাকে রিসালাতের প্রাণশক্তি ও ঈমানের আলো দ্বারা জীবিত করেছেন। তিনি তাকে এমন আলো দান করেছেন, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে বিচরণ করে। অন্যদিকে অবিশ্বাসীর অন্তর মৃত ও অন্ধকারে আচ্ছন্ন। আল্লাহ কোরআনে নববী শিক্ষাকে আত্মা ও প্রাণ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন।

আত্মা হারিয়ে গেলে জীবন হারিয়ে যায়। তিনি বলেছেন, ‘এভাবে আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি রুহ তথা আমার নির্দেশ; তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী! পক্ষান্তরে আমি তাকে করেছি আলো, যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করি; তুমি তো প্রদর্শন করো কেবল সরল পথ।’ (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ৫২)

এখানে আল্লাহ দুটি মৌলিক বিষয় উল্লেখ করেছেন : রুহ (আত্মা) ও নুর (জ্যোতি)। রুহ হলো জীবন ও নুর হলো জীবনের আলো। (মাজমুউল ফাতাওয়া : ১৯/৯৩)

কুফর ও শিরকে আচ্ছন্ন অবিশ্বাসীরা প্রাণহীন। যদিও তাদের ভেতর জীবাত্মা বিদ্যমান, কিন্তু তাদের ভেতর উচ্চ মর্যাদাশীল আধ্যাত্মিক জীবন অনুপস্থিত, যা মূলত ঈমান থেকে সৃষ্ট। এর মাধ্যমেই বান্দা ইহকাল ও পরকালে সাফল্য অর্জন করে। আল্লাহ নবী-রাসুলদের নিজের ও বান্দাদের মধ্যে মাধ্যম বানিয়েছেন। যেন তাঁরা মানুষকে উপকারী ও ক্ষতিকর বিষয়গুলো জানাতে পারেন, তাঁদের পার্থিব জীবন ও পরকালীন জীবনের যাত্রা ত্রুটিমুক্ত হয়। তাঁরা সবাই মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান জানিয়েছেন, তাদের এমন পথ দেখিয়েছেন, যা অনুসরণ করে তারা আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে। তাঁরা এটাও বলেছেন, আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পর বান্দার পুরস্কার ও পরিণতি কী হবে। সুতরাং রিসালাতের প্রতি মানুষের প্রয়োজন চিকিৎসকের কাছে রোগীর প্রয়োজন থেকেও অনেক বড়। কেননা চিকিৎসা না পাওয়ার পরিণতি হলো দেহের মৃত্যু আর রিসালাতহীনতার পরিণতি অন্তরের মৃত্যু। অন্তরের মৃত্যু হলে যে দুর্ভাগ্য আপতিত হয় তা থেকে কোনো নিষ্কৃতি নেই।

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওজি (রহ.) লেখেন, মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো রাসুলকে চেনা এবং তাঁর আনীত শিক্ষাগুলো জানা, তিনি যে সংবাদ দিয়েছেন তা সত্যায়ন করা, তাঁর আদেশ মান্য করা। রাসুলের আনুগত্য করা ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্যের কোনো পথ নেই। তাঁদের শিক্ষা ছাড়া ভালো ও মন্দের বিস্তারিত পরিচয় নির্ণয় করাও সম্ভব নয়। তাঁদের পথে চলা ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়। উত্তম কথা, কাজ ও চরিত্রের দিশা শুধু তাঁদের কাছেই পাওয়া যায়। তাঁদের কথা, কাজ ও চরিত্র অন্যদের কথা, কাজ ও চরিত্রের মাপকাঠি। তাঁদের আনুগত্যের মাধ্যমেই বান্দা বিভ্রান্তির পথ থেকে হেদায়েতের পথে চালিত হয়। তাঁদের প্রয়োজনীয়তা দেহের জন্য প্রাণের, চোখের জন্য জ্যোতির, আত্মার জন্য প্রাণের প্রয়োজনীয়তা থেকেও বেশি। (জাদুল মাআদ : ১/৪০)

মুহাম্মদ রশিদ রেজা বলেন, ‘বর্তমান যুগে মানবজাতিকে রক্ষার একমাত্র পথ মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রেরিত ওহির ওপর দৃঢ় থাকা, যা মানবজাতিকে একত্রকারী, যা আত্মাকে পবিত্রকারী, যে মানব প্রকৃতিকে পূর্ণতা দানকারী। আর এটাই দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য।’ (আল ওয়াহইয়ুল মুহাম্মাদি, পৃষ্ঠা-৩৬)

আল্লাহ সবাইকে নববী শিক্ষার অনুসারী করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%