১০:৪৩ এম
অনলাইনে মানসিক নির্যাতন ও আত্মক্ষতিতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে জার্মানিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় এই গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) হামবুর্গ শহর থেকে পুলিশ তাকে আটক করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হয়।
জার্মানির সরকারি আইনজীবীরা শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জানান, অভিযুক্ত তরুণের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, অনলাইনে কিশোরীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে এবং আত্মক্ষতিতে বাধ্য করার পর তার মৃত্যু ঘটে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তরুণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ওই কিশোরীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় অনলাইনে চরম সহিংসতাপ্রবণ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত বেড়েছে। আইনজীবীরা দাবি করেছেন, অভিযুক্তের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে অভিযুক্ত তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডিসকর্ডের মাধ্যমে কিশোরীর ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকা কিশোরীকে নিজের শরীরে আঘাত করতে এবং নিজের রক্ত দিয়ে দেয়ালে গোষ্ঠীটির নামের আদ্যক্ষর লিখতে চাপ দেন তিনি। এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তাকে পাঠাতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছুদিন পর, আইনজীবীরা জানান, কিশোরীটি নিজের শোবার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কিশোরীর মৃত্যুর ভিডিও পেতে চেয়েছিলেন, যা তার অনলাইন গোষ্ঠীর মধ্যে অবস্থান শক্ত করার জন্য ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, তাদের ইন্ডিয়ানাপোলিস কার্যালয় ও ফোর্ট ওয়েন পুলিশ বিভাগ যৌথভাবে তথ্য সংগ্রহ করে জার্মান কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করেছে। ফোর্ট ওয়েন পুলিশ বিভাগের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দলও কিশোরীর মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে।
এফবিআই-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল পূর্বে জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চরম সহিংসতাপ্রবণ গোষ্ঠীসংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। এসব মামলার অনেকগুলোর সঙ্গে ‘৭৬৪’ নামে পরিচিত অনলাইন গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটির সদস্যরা নির্দিষ্ট কোনো মতাদর্শ অনুসরণ না করলেও আত্মক্ষতি ও সহিংসতায় উৎসাহ দেয়। শিশুদের নির্যাতন এবং আত্মক্ষতির ভিডিও তৈরি করানোর মতো অপরাধেও গোষ্ঠীটির সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের লক্ষ্য করে নির্যাতন বা শোষণ চালানো ব্যক্তিরা বিশ্বের কোথাও লুকিয়ে থাকলেও তাদের বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন