১১:২৯ এম
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অফিস চলাকালীন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, অফিসের কক্ষ তালাবদ্ধ রাখা এবং অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের প্রতিটি কক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে। তবে কক্ষগুলোর জানালা খোলা ছিল। এ সময় অফিসের বাইরে পাঁচ থেকে ছয়জন সেবাগ্রহীতা অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের কেউ প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে ভূমি সেবা নিতে এসেছেন, আবার কেউ দোকান বন্ধ রেখে এসেছেন বলে জানান।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী সেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হয়নি, তদন্ত চলছে
নবগ্রাম ইউনিয়নের চলবল গ্রামের বাসিন্দা নির্মল মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, মিউটেশনের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সৈয়দ মিন্টুকে তিনি পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে টাকা দেওয়ার পরও তাঁর মিউটেশনের কাগজে ভুল হয়েছে। এ বিষয়ে সংশোধনের জন্য অফিসে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাউকে পাননি বলে জানান তিনি।
নির্মল মল্লিক বলেন, ‘আমি সৈয়দ মিন্টুর কাছে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু আমার মিউটেশনেও ভুল হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। অফিসে তালা দেওয়া, কাউকে পাচ্ছি না।’
অফিসের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে অফিস সহায়ক সৈয়দ মিন্টুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য বাড়িতে গিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মোটরসাইকেলে করে অফিসে এসে পৌঁছান।
অফিস বন্ধ রেখে বাইরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ মিন্টু অসুস্থতা, নামাজ ও পারিবারিক সমস্যার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি একটু অসুস্থ থাকার কারণে দেরি হয়েছে। নামাজে গিয়েছিলাম।’
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদুলের বিরুদ্ধে আবারও শ্ললতা হানিসহ নানা অভিযোগ
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিস বন্ধ রেখে অফিস সহায়কের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই অফিস বন্ধ রেখে তিনি বাড়িতে চলে যান বলে দাবি তাঁদের।
এদিকে, অফিস চলাকালীন ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. রাজ্জাককেও কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অফিসের কম্পিউটারে সমস্যা হওয়ায় সেটি মেরামতের জন্য তিনি মাদারীপুর শহরে গেছেন।
অফিসে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার মানুষের ভূমি সেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই ইউনিয়ন ভূমি অফিস। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ছাত্রলীগ নেতা নাঈম গ্রেপ্তার
ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, অফিস তালাবদ্ধ রাখা কিংবা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন