শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:২৬ পি.এম
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কারাগারের মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীদের আটকানো, তাদের সংশোধন করা এবং শাস্তি প্রদান করা। কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু গ্যাংয়ের জন্য কারাবাসের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক সময় কারাগার তাদের জন্য শত্রুদের হাত থেকে বাঁচার নিরাপদ আশ্রয়, নতুন সদস্য নিয়োগের উপযুক্ত স্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কমান্ড সেন্টার হয়ে ওঠে।
বলিউডের কাল্ট গ্যাংস্টার সিনেমা 'সত্যা'-তে পুলিশ কমিশনার এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথোপকথন রয়েছে। হতাশ পুলিশ কমিশনার মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “আসলে যা হয়, আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি, কিন্তু তারা খালাস পেয়ে যায়। ধরা পড়লেও তারা জেলের ভেতরে বসে গ্যাং চালায়, আর পালিয়ে গেলে দেশের বাইরে বসে চালায় এবং আমরা কিছুই করতে পারি না।” এই সংলাপটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চরম হতাশা ও অসহায়ত্বকে ফুটিয়ে তোলে, যা তারা জেলের আড়ালে বসে অপরাধের নেটওয়ার্ক সচল রাখা গ্যাংস্টারদের মোকাবেলা করতে গিয়ে অনুভব করে।
সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত ভূমিকা একটি বড় উদাহরণ যে—কোনো গ্যাংস্টারকে কারাগারের পেছনে বন্দি করলেই বাইরের দুনিয়ায় তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা আটকানো যায় না। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ভাই আনমোল দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও, গত তিন বছরে মুম্বাইয়ের বড় বড় শুটআউটের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের সবরমতী সেন্ট্রাল জেলে বন্দি এবং তার ভাই আনমোল বন্দি রয়েছেন দিল্লির তিহার জেলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে এই দুই ভাইকে হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
তবে কারাগারের দেয়ালের পেছন থেকে হামলার ছক কষার এই অভিযোগে বিষ্ণোই ভাইয়েরাই প্রথম গ্যাংস্টার নন। মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাং লিডারদের জেল থেকে নিজেদের সাম্রাজ্য পরিচালনার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
নব্বইয়ের দশক এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুর বছরগুলোতে, দাউদ ইব্রাহিম, ছোট রাজন এবং আবু সালেম যখন বিদেশ থেকে মুম্বাইতে হামলার নির্দেশ দিতেন; তখন অরুণ গাউলি এবং অশ্বিন নায়েকের মতো গ্যাংস্টাররা ভারতীয় কারাগারগুলোতে বসেই নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতেন।
মুম্বাই, পুনে, থানে এবং নাসিকের মতো জেলগুলো থেকে তারা শুটার নিয়োগ করতেন, চাঁদাবাজির নির্দেশ দিতেন এবং খুনের হুকুম দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নায়েকের বিরুদ্ধে জেলের ভেতরে বসেই তার স্ত্রী নীতা নায়েককে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কারণ তিনি সন্দেহ করেছিলেন যে তার স্ত্রীর সাথে এক পুলিশ কর্মকর্তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে পুলিশ আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় নায়েক সেই মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান।
একইভাবে অরুণ গাউলির বিরুদ্ধেও শিবসেনা প্রধান বাল ঠাকরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জয়ন্ত যাদবকে জেলের ভেতরে বসেই হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছিল। যাদব নাকি গাউলিকে এক জেল থেকে অন্য জেলে স্থানান্তরের পেছনে ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই স্থানান্তরে ক্ষুব্ধ হয়ে গাউলি তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারাগারের ভেতর থেকে গ্যাং পরিচালনার এই সুযোগ পাওয়ার পেছনে ঐতিহ্যগতভাবে দুর্নীতি একটি বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রায় প্রতিটি বড় গ্যাংয়েরই কারাগার ব্যবস্থার ভেতরে একটি নেটওয়ার্ক থাকে, যার সদস্যরা দুর্নীতিবাজ জেল কর্মকর্তা ও রক্ষীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। কথিত আছে যে, কারাবন্দি গ্যাং সদস্যদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং গ্যাং লিডারদের সাথে বাইরের সহযোগীদের যোগাযোগ সহজ করতে ঘুস এবং উপহার দেওয়া হতো।
গ্যাং লিডাররা তাদের আইনজীবী এবং আইনগতভাবে দেখা করার অনুমতি পাওয়া অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে বাইরের সদস্যদের কাছে বার্তা পাঠাতেন। এ ছাড়া যেসব কয়েদি জামিন পেতেন, খালাস পেতেন, সাজা শেষ করতেন কিংবা যাদের আদালতের শুনানির জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো, তারাও অন্য গ্যাং সদস্যদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর বাহক হিসেবে কাজ করতেন।
চোরাচালানের মাধ্যমে ভেতরে নেওয়া মোবাইল ফোন এই যোগাযোগকে আরও সহজ করে তুলেছে, যা মাফিয়া ডনদের সাথে গ্যাং সদস্য, চাঁদাবাজির টার্গেট এবং এমনকি গণমাধ্যমের সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে দেয়।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে, কড়া হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও লরেন্স বিষ্ণোই একটি হিন্দি নিউজ চ্যানেলকে দুটি সাক্ষাৎকার দেন। তিনি প্রথম সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন পাঞ্জাব পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় এবং দ্বিতীয়টি দিয়েছিলেন জয়পুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি থাকাকালীন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে তাকে সবরমতী জেল থেকে একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।
একই বছর, হাশিম বাবা নামের এক কয়েদি পুলিশকে জানান যে বিষ্ণোইয়ের কাছে মোবাইল ফোনের সুবিধা রয়েছে এবং তিনি বাইরের দুনিয়ার সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন। মহারাষ্ট্রে সততার জন্য পরিচিত জেল কর্মকর্তা স্বাতী সাথে বেশ কয়েকটি কারাগারে অভিযান চালিয়ে কয়েদিদের কাছ থেকে অসংখ্য মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছিলেন।
দুর্নীতির বাইরেও, নির্দিষ্ট কিছু কয়েদি কীভাবে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বিশেষ সুবিধা পান, তার পেছনে আরেকটি বিতর্কিত দিক রয়েছে—তা হলো রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে তাদের কথিত যোগসূত্র। এমন কিছু অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু গ্যাংস্টারকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী বা শত্রু এজেন্টদের লক্ষ্যবস্তু করা যায়। এর বিনিময়ে তারা জেলের ভেতরে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের সমঝোতা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং ফৌজদারি আইনের প্রয়োগের মধ্যকার পার্থক্যকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
টাইগার শ্রফ শ্যুটিং মামলার ক্ষেত্রে মুম্বাই পুলিশ তিহার জেল থেকে আনমোল বিষ্ণোইয়ের হেফাজত নেওয়ার চেষ্টা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে সবরমতী জেল থেকে তাঁর ভাই লরেন্সের হেফাজত নেওয়ার পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। মুম্বাই পুলিশ অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখলেও সেই প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে যে, আফগান তালেবানের একাধিক নিরাপত্তা চৌকি ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযানগুলি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান ও পারাচিনার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত হয়।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর আঙ্গুর আড্ডা এলাকায় আফগান বাহিনীর উসকানিমূলক ও বিনা প্ররোচনায় গুলিবর্ষণের জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। সূত্রগুলো দাবি করেছে যে, পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের ফলে আফগান তালেবান সদস্যরা তাদের অবস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ সময় তালেবান বাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এর আগে, গত বুধবার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আঙ্গুর আড্ডা এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে আফগান বাহিনীর হামলা ঘটে। এই হামলায় একই পরিবারের একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ঘটনার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে তালেবানের একাধিক চেকপোস্ট ধ্বংস করে।
নিম্ন দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, আফগান তালেবান বাহিনী বিনা উসকানিতে আঙ্গুর আড্ডা বাজার ও এর আশপাশের আবাসিক এলাকায় গুলি চালায়। এ সময় একটি মর্টার শেল ওই এলাকায় আঘাত হানলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং পাঁচজন আহত হন। হামলায় বেশ কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডেপুটি কমিশনার আরও বলেন, সীমান্তে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনারা হামলার কঠোর জবাব দিচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্রের মতে, তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্তের ওপারে আফগান তালেবানের একাধিক চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে।
আঙ্গুর আড্ডা সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শেষের দিকে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনী আফগান তালেবানের অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ পরিচালনা করে। ইসলামাবাদ বারবার কাবুলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাতে না পারে।
সূত্র : জিও নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি জয়ের স্বাদ পেল। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ‘বি’ গ্রুপে টানা দুই হারের পর আজ তারা ইউল্যাবের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে। হতাশা ভুলে আজকের ম্যাচে তারা সফল হয়েছে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ১-০ গোলের ব্যবধানে ইউল্যাবকে পরাজিত করেছে। জয়সূচক গোলটি করেছেন ইমতিয়াজ মারুফ।
এবিজি স্পোর্টস সিটির বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে ইউল্যাবের একটি সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তাদের এক খেলোয়াড়ের নেওয়া ভলি বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বিপরীতে, ১০ মিনিটে ব্র্যাকের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে মারুফ বক্সের মধ্যে থেকে শটটি সঠিকভাবে নিতে পারেননি।
প্রথমার্ধের ৫০ মিনিটে দুই দলই আরো কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু খেলোয়াড়রা সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়।
বিরতির পর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্যে খেলাটি চলতে থাকে, তবে কোন দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। অবশেষে ৪০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইউল্যাবের রক্ষণভাগ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে মারুফ বক্সের মধ্যে বল পান সতীর্থের আলতো টোকায়। চলতি বলেই ডান পায়ের জোরালো বাঁকানো শটে তিনি গোল করেন। তার সেই গোলের মাধ্যমে ব্র্যাক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তিনজনের আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার, গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই শোক প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ অক্টোবর বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে বৃষ্টির সময় আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জন কিশোর ও তরুণের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর কাছে নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। একই সঙ্গে বজ্রপাতে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও শৃঙ্খলিত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যুবসমাজ ও পল্লবী থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই, পল্লবী ও রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে উঠুক। শুধু ক্লাব গঠন করলেই হবে না, সারা বছর নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। এ জন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সার্বিক সহযোগিতা সরকারিভাবে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’
তরুণদের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, যুবসমাজ চাইলে সমাজের সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি শৃঙ্খলিত সমাজ গড়ে তুলতে পারে। তরুণরা খেলাধুলায় মনোযোগী হলে মাদকসহ সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে এ সামাজিক পরিবর্তনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
পল্লবী ও রূপনগরে পাঁচটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত এসব মাঠের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া রূপনগরের একটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই জায়গায় ৩২টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া থাকায় বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্লটের বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্য জায়গায় প্লটের ব্যবস্থা করে দিলে তাঁরা মাঠের জন্য জায়গাটি ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তবে মাঠটি খেলার উপযোগী করতে সেখানে কৃত্রিম ঘাস, চারপাশে সীমানাপ্রাচীর ও আলোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, এলাকার মানুষের পানির সংকট সমাধানে কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। আরও কয়েকটি স্থানে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি এলাকার সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানেও তিনি কাজ করছেন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অন্যায় করে, চাঁদাবাজি ও দখলের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সে যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ আমার নাম কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন। তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপপ্রচারের পথে না গিয়ে সত্যকে ধারণ করতে হবে। একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আমিনুল হক আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ইতিমধ্যে পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অসহায় ও সুবিধাপ্রাপ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা চান তিনি।
অনুষ্ঠানে নগর বিএনপি নেতা গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ, মাহবুব আলম মন্টু, কর্মসূচির আয়োজক পল্লবী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ হাসান সোহেলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেলে মিরপুর সেকশন-১১-এর ব্লক-বি আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদুল হুদা কমপ্লেক্স ও ডুইপ প্লটে তিনটি গভীর নলকূপ এবং তালাব ক্যাম্পে মৃত ব্যক্তিদের গোসলের জন্য নির্মিত গোসলখানা উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ