০৭:১৩ এম
প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়ে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কামাল হোসেনের দেশের সংবিধান প্রণয়নে অবদান থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি।
শনিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দলের প্রতিষ্ঠাতা কামাল হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রেহমান সোবহান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই কামাল হোসেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইনজীবী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, সামনে এক লাইনে লিখতে হবে
তিনি মন্তব্য করেন, ‘মাঝে মাঝে কথা হয়েছে, কামালকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া উচিত ছিল কি না। বিগত সরকার সংবিধানের যে ড্রাফটসম্যান ছিলেন, অর্থাৎ যিনি হাতে লিখে সংবিধানের খসড়া তৈরি করেছিলেন, তাঁকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছে। কিন্তু সংবিধানের মেইন অথর (প্রধান রচয়িতা) যিনি ছিলেন, তাঁকে কোনো পরিচয় দেওয়া হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত এভাবেই দেশের ইতিহাস চলে।’
গণতন্ত্রের পাশাপাশি ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা কামাল হোসেনের রাজনৈতিক বিশ্বাসের অংশ বলেও মন্তব্য করেন রেহমান সোবহান।
অনুষ্ঠানে গণফোরামের এমিরেটাস সভাপতি কামাল হোসেনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানানো হয়।
কামাল হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ বলা হলেও বিগত সময়ে জনগণই ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত ও উপেক্ষিত হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধের পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু
গণফোরাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই দলটির লক্ষ্য। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।’
৮৮ বছর বয়সী কামাল হোসেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী, আইনি পরামর্শক ও আর্বিট্রেটর। পেট্রোলিয়াম নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কয়েকটি দেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সৌদিতে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের প্রতিহতের দাবি
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন কামাল হোসেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে ১৯৯২ সালে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানেন ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর। ২০২৪ সালে দলের নতুন কমিটিতে তাঁকে এমিরেটাস সভাপতি করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: কবিরহাটে সাংবাদিক শাহাদাত হোসেনের মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন