প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান পারল না। ইংল্যান্ড, যারা ছিল চালকের আসনে, আবারও পেসের তাণ্ডবে পাকিস্তানের ব্যাটিংকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তারা ১৯৪ রানের বিশাল জয় পেয়েছে। এর মাধ্যমে এক ম্যাচ হাতে রেখে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটিও নিজেদের করে নিল ইংলিশরা।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে। ড্যান লরেন্স ফিফটি হাঁকিয়ে টিকে ছিলেন। তবে ফিফটির পর তিনি আর বেশি দূর এগোতে পারেননি। ৭০ বল মোকাবিলা করে ৫৪ রান করে বিদায় নেন লরেন্স। এরপর ওলি রবিনসন ১৫ বলে ৮ রান করে আউট হন। শেষ দিকে জশ টাং কিছুটা চেষ্টা চালালেও ১৫ বলে ১২ রানের বেশি করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৮ রান তুলে থেমে যায়, যা পাকিস্তানের সামনে ৩৮৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়।
পাকিস্তানের হয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ আব্বাস। খুররাম শাহজাদ এবং মোহাম্মদ আলী ২টি করে উইকেট নেন। পাকিস্তানকে বিশাল রান তাড়া করে জেতার জন্য এভারেস্ট ডিঙানোর মতো অসাধ্য সাধন করতে হত। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। তবে চেষ্টা চালিয়ে গেছে। শান মাসুদ এবং আজান আওয়াইসের ওপেনিং জুটি দলের ৭ রানের মাথায় থেমে যায়। আজান ১৪ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন। তিনে নামা আব্দুল্লাহ শফিক রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে যান। টিকে থাকা ওপেনার শান মাসুদ লড়াইয়ের চেষ্টা চালালেও অন্য প্রান্তে কেউ সেভাবে টিকতে পারেননি।
অধিনায়ক বাবর আজম চার নম্বরে ব্যাট করতে এসে ৮ বলে ৬ রান করে ফিরে যান। ১৭ রানের মধ্যে পাকিস্তান হারায় ৩ উইকেট। এরপর সাউদ শাকিলকে সাথে নিয়ে এগিয়েছেন শান মাসুদ। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন দুজন। শান-শাকিলের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান উঠেছে। দুজনের ব্যাটে চড়ে পাকিস্তান কিছুটা লড়াইয়ের রসদ পেয়েছে।
শানের ইনিংস দীর্ঘ হয়নি। ৭২ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান শান মাসুদ। মোহাম্মদ রিজওয়ানও দ্রুত ফিরেছেন। তিনি ৯ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। অন্যদিকে, সাউদ শাকিল এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন। পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে কেবল শাকিলই কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে ইংলিশদের পেস সামলাতে পেরেছেন। উইকেটের চারপাশে দারুণ শটে রান তুলেছেন। নিজেও ফিফটি ছুঁয়েছেন। আলি উসমান অনেক বল খেলেছেন, ৪৪ বল থেকে ১৬ রান করে বিদায় নেন। শাকিল ফিফটির পর সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন। তবে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। ১২২ বলে ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জশ টাংয়ের বলে আউট হন শাকিল।
এরপর পাকিস্তান আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। খুররাম শাহজাদ ১৩ বলে ৯ রান করেছেন। মোহাম্মদ আলি ৫ বলে ৮ রান করেন। মোহাম্মদ আব্বাস ১৬ বলে ১৩ রান করে টিকে ছিলেন। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস ১৯৪ রানে থেমেছে। ঠিক ১৯৪ রানেই ইংল্যান্ড জয় পায়। ইংল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন ওলি রবিনসন। জফরা আর্চার ২ উইকেট নেন। জশ টাং ৩ উইকেট নিয়েছেন। এই দারুণ জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ড এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল, এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন