বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসি.-এর ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, যিনি ব্যাংকের শতভাগ শেয়ারহোল্ডার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, সভায় উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো. মোফাজ্জেল সভায় উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। সভায় ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা, যাদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুন্সি আব্দুল আহাদ, যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, মো. মতিউর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, অভিজ্ঞ ব্যাংকার এস.এম. ইকবাল হোছাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রুপ রতন পাইন, মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব মো. হাসান ইমাম, এবং ব্যাংকের অডিট ফার্ম কাজী জহির খান এন্ড কোং-এর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক সভায় বলেন, "বেসিক ব্যাংক এখন ক্রমশ ভালো করছে। লোকসান কমে আসার ধারায় রয়েছে। অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে লোকসানের পরিমান আরো কমিয়ে আনতে হবে। আমানতও বাড়ছে, তার মানে ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সরকারি ব্যাংক সরকার দায়িত্ব নিবে আমানতের এটা বলার কারণে অনেক কনফিডেন্স ফিরে এসেছে। এর ফলে ঋণ-আমানত অনুপাত কমে এসেছে। এখন ঋণ দেয়ারও সক্ষমতা বেড়েছে। সতর্কতার সাথে এখন নতুন ঋণ বিতরণ করতে হবে। বেসিক ব্যাংক নিয়ে আমরা পুরোপুরি আশাবাদী, ব্যাংকটি ভালো হবে।"
তিনি বলেন, "আমি বেসিক ব্যাংকের বোর্ড মেম্বারদের যতদূর জানি অনেক দক্ষ। বেসিক ব্যাংকের মানবসম্পদের মানও ভালো। আমি যখন বিভিন্ন সময় জিএম এবং ডিএমডি’দের পদোন্নতির ভাইভা বোর্ডে থাকি তখন আমরা বুঝতে পারি। আমাদের বিশ্বাস এখানে যারা কাজ করে তারা ব্যাংকটাকে টেনে তুলতে পারবে।" তিনি ব্যাংকটির অবস্থার উন্নতি সাধনে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এছাড়া নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, "খেলাপি ঋণ আদায় আমাদের মূল ফোকাস।" তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের আলোকে খেলাপি ঋণ আদায় প্রক্রিয়া জোরদার করা এবং আইনি প্রক্রিয়া গতিশীল করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অন্যান্য সকল নির্দেশনা যথাযথ পরিপালন ও কর্মক্ষেত্রে সুশাসন বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ ব্যাংকের নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রুপ রতন পাইন বলেন, "বেসিক ব্যাংকের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি ঘুরে দাড়াবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে। এক মামলায় শুধুমাত্র মজিবুর রহমানকে আসামি করা হবে, অন্য মামলায় তার স্ত্রী তাসরীন মুজিবকেও আসামি করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানের ফলে মজিবুর রহমানের নামে ২ কোটি ৭১ লাখ ৬ হাজার ২৫২ টাকার মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং তার স্ত্রীর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৯ হাজার ১৯৩ টাকার মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, মজিবুর রহমান সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অনুসন্ধানের ফলে এসব তথ্য প্রকাশ পায়।
দুদক আরও জানায়, এসব সম্পত্তির মালিকানা অসাধু উপায়ে অর্জন করে তিনি তা দখলে রেখেছেন। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্য মামলায় মজিবুর রহমানের স্ত্রী তাসরীন মুজিবকেও আসামি করা হবে। অনুসন্ধানে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৯ হাজার ১৯৩ টাকার মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বামীর সহায়তায় অসাধু উপায়ে এসব সম্পদের মালিকানা অর্জন করে তাসরীন মুজিব তা ভোগদখলে রেখেছেন।
এই ঘটনায় মজিবুর রহমান ও তাসরীন মুজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারী সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নাগেশ্বরীর নিখোঁজ কন্যাশিশু আলো খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে স্থানীয়রা ব্রহ্মপুত্র নদে একটি কন্যাশিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে বিষয়টি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত শিশু মোছাঃ আলো খাতুন নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামের মো. আলম মিয়া ও মোছাঃ শারমিন আক্তারের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলো খাতুন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরদিন সকালে চিলমারী সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
শিশুটির মৃত্যুর কারণ ও নদীতে মরদেহ ভেসে আসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান পবিত্র মক্কা মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ড্রোন হামলার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেছেন।
আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, "পবিত্র মক্কা ও মদীনা শরীফ বিশ্বের শতকোটি মুসলিমের ঈমানি কেন্দ্রবিন্দু, হৃদয়ের স্পন্দন ও আস্থার সর্বোচ্চ প্রতীক।" তারা বলেন, "মক্কা মুকাররমা ও বায়তুল্লাহর পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর নিকট জীবনের চেয়েও মূল্যবান দায়িত্ব।" নেতৃদ্বয় আরও জানান, "পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের সীমানাকে সামরিক সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু বানানোর যেকোনো দুঃসাহস ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপ এবং এটি সহ্যসীমার চূড়ান্ত লঙ্ঘন।"
নেতৃদ্বয় জোর দিয়ে বলেন, "রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি কিংবা সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে ক্বাবাশরীফ ও পবিত্র মক্কা নগরীকে টেনে আনা এক জঘন্য অপরাধ, যা বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে তীব্র আঘাত হেনেছে।" তারা সতর্ক করেন, "এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।" পবিত্র ভূমির মর্যাদা রক্ষায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মুসলিম বিশ্বকে অবিলম্বে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তারা ওআইসি (OIC) ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ইয়েমেনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসানে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি পবিত্র ভূমির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।"
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় সৌদি আরবের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পবিত্র ভূমি রক্ষায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারি পঞ্চায়েতপাড়া গ্রামের শতবর্ষী সাজিরন বেওয়ার মানবেতর জীবনযাপনের খবর নজরে আসার পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাজিরন বেওয়াকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম, ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিউল আলম শফি, মহিলা সদস্য নওরোজ জাহানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, বয়সের ভারে সাজিরন বেওয়া বর্তমানে নিজে চলাফেরা ও ভিক্ষা করতে অক্ষম। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়ে ভিক্ষা করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে মা-মেয়ের সংসার চলছিল।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাজিরন বেওয়া। এ সময় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
স্থানীয়রা জানান, অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ