০৭:৩৯ পি.এম
দক্ষিণ চীন সাগরে সন্দেহভাজন ডিনামাইট দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চীনা জাহাজের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, চীনা নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার আকাশপথে তাদের ওপর নজরদারি চালায়। রবিবার ফিলিপাইনের নিয়ন্ত্রণাধীন থিতু দ্বীপের কাছে এই ঘটনা ঘটে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি) জানায়, থিতু দ্বীপের পশ্চিমে প্রায় তিন নটিক্যাল মাইল দূরে স্যান্ডি কেইস ২ ও ৩-এর কাছে ডিনামাইট বা বিস্ফোরক ব্যবহার করে মাছ ধরার সন্দেহে একটি বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে অংশ নেয় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের মেরিটাইম গ্রুপের সদস্যরা।
পিসিজির দাবি, অভিযানের সময় দুটি চায়না কোস্ট গার্ডের জাহাজ হর্ন বাজিয়ে ফিলিপিনো দলের সদস্যদের রেডিওতে চ্যালেঞ্জ করে। এরপর তারা ফিলিপিনো নৌযানগুলোর গতিবিধি অনুসরণ করে এবং সেগুলোর পথ আটকে দেয়।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়
একই সময়ে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ফিলিপিনো সদস্যদের ওপর চারবার চক্কর দেয়। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ভীতি প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেছে।
ফিলিপিনো দলের সদস্যরা অভিযানে সন্দেহভাজন মাছ ধরার নৌযানটিকে থামার নির্দেশ দেয় এবং একাধিকবার রেডিওতে যোগাযোগ করে। কিন্তু নৌযানটি নির্দেশ অমান্য করে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন সুবি রিফের দিকে চলে যায়। নিরাপত্তার কারণে ফিলিপিনো বাহিনী পরে ধাওয়া বন্ধ করে থিতু দ্বীপে ফিরে আসে।
পিসিজি বলেছে, থিতুর আঞ্চলিক জলসীমায় চায়না কোস্ট গার্ডের কোনো আইন প্রয়োগের এখতিয়ার নেই। তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে সন্দেহভাজন নৌযানটি পালিয়ে যেতে আরও সুবিধা পেয়েছে বলেও দাবি করেছে ফিলিপাইন।
এদিকে, ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার বিতর্কিত স্কারবরো শোলের কাছে একটি ফিলিপাইন টহল বিমানের খুব কাছে চীনের জে-১৬ যুদ্ধবিমান বারবার এসে গতিপথ পরিবর্তন করে। এতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৭ নিহত
ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী ঘটনাটিকে তাদের বৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজ ও বিমানের বিরুদ্ধে ‘অনিরাপদ ও জবরদস্তিমূলক আচরণের ধারাবাহিক প্রবণতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে একাধিক সামুদ্রিক উত্তেজনার মধ্যে সর্বশেষ এসব ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ফিলিপিনে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন