১২:৪১ পি.এম
যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী, ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’র প্রবীণ রাজনীতিক অ্যান উইডিকম্বকে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করার পর শুক্রবার ২৬ বছর বয়সী একজন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ৭৮ বছর বয়সি উইডিকম্বের বাড়ি দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের গ্রামীণ একটি এলাকায় অবস্থিত। ওই বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের ‘নিউটন অ্যাবট’ শহর থেকে পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ম্যাট লংম্যান বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ইউডিকম্বের বাড়ি থেকে ফোন পাওয়ার পর কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং তিনি মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। বর্তমানে ওই বাড়িতে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে নতুন কুঁড়ির ভার্চুয়াল উদ্বোধনে অংশ নিলেন নূরুল ইসলাম এমপি
এদিকে, উইডিকম্বের দীর্ঘদিনের জনসেবার কথা স্মরণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক্স পোস্টে উল্লেখ করেছেন, “উইডিকম্ব ছিলেন একজন সাহসী ব্রেক্সিটপন্থি ও চমৎকার বক্তা, যিনি কনজারভেটিভদের সহজে মুগ্ধ করতে পারতেন।”
উইডিকম্ব তার কট্টর সামাজিক রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ মেয়াদে জন মেজরের কনজারভেটিভ সরকারের অধীনে তিনি জুনিয়র মন্ত্রী ছিলেন। এরপর তিনি নাইজেল ফারাজের পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’-এ অভিবাসন ও বিচার বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) ছিলেন।
উইডিকম্ব গর্ভপাত ও সমকামীদের সমানাধিকারের বিরুদ্ধে ছিলেন। পলায়ন ঠেকাতে কারাবন্দি গর্ভবতী নারীদের প্রসবের সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিতর্কিত নীতিকেও তিনি সমর্থন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ও নিজেকে কুমারী বলে পরিচয়দানকারী এই ক্যাথলিক রাজনীতিক সব সময় পারিবারিক মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। রাজনীতি ছাড়াও, ২০১০ সালে জনপ্রিয় টিভি শো ‘স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিং’-এ অংশ নিয়ে তিনি সাড়া ফেলেছিলেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
সিএনএন লিখেছে, এই হত্যাকাণ্ড যুক্তরাজ্যে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত এক দশকে দেশটিতে দুজন এমপি হত্যার শিকার হয়েছেন। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট প্রচারণার সময় লেবার পার্টির জো কক্সকে এক উগ্রপন্থি হত্যা করে। এরপর ২০২১ সালে কনজারভেটিভ পার্টির ডেভিড অ্যামেসকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে আইএস মতাদর্শী একজন ব্যক্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন