ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগে বাউফলে মানববন্ধন


কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগে বাউফলে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দর, যা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার এবং ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টায় কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এতে অংশ নেন।

বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, সালাম খান, যিনি ব্যারিস্টার সালাম নামেও পরিচিত, তার কারণে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে, যা বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হাসান মুনসুর, বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল খালেক সরদার, যুবদল নেতা রাজন মনসুর এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়

বক্তারা জানান, সম্প্রতি বন্দরের বড় পুকুরের পশ্চিম পাড় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পূবালী ব্যাংক কালাইয়া শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়। কিন্তু ব্যারিস্টার সালাম খান পুকুরের পাড় নিজের জায়গা দাবি করে কাজটি বন্ধ করে দেন।

বক্তাদের অভিযোগ, সালাম খান বিগত সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে ১৫০ শতাংশ জমি দাবি করেছেন। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, "বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস খতিয়ানের প্রায় ১৫০ শতাংশ জমি কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়?" তারা সরকারের জায়গা উদ্ধার করে বন্দরের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

কালাইয়া মার্চেন্ট পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, "কালাইয়া বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা জড়িত।" তিনি আরও বলেন, "বন্দরের জমি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।" একই সঙ্গে তিনি বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে সালাম খান বলেন, "এই জায়গা সংশ্লিষ্ট দপ্তর আমাকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। নিম্ন আদালতের রায় আমার পক্ষে রয়েছে। সরকার আপিল করলে উচ্চ আদালত ওই জায়গার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। জায়গার সপক্ষে আমার সকল প্রমাণাদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া আছে। আমার বিরুদ্ধে যা রটানো হচ্ছে তা স্রেফ অপপ্রচার।"

আরও পড়ুন: বরিশালে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামির বাড়িতে আগুন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, "সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি সম্পন্ন হোক তা আমি নিজেও চেয়েছি। কিন্তু নির্ধারিত জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা

রোববার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে যথাক্রমে ১০ শতাংশ ও পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এই শাস্তি আরোপের দায়িত্ব পালন করেন আইসিসি এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো। পাকিস্তান নির্ধারিত সময়ে দুই ওভার পিছিয়ে ছিল, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা এক ওভার পিছিয়ে ছিল।

আইসিসির খেলোয়াড় ও খেলোয়াড়দের সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম ওভার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়।

পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস উভয়ই অভিযোগ স্বীকার করে প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

মাঠের দুই আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব ও ওয়েইন নাইটস, তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ এবং চতুর্থ আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি এই অভিযোগের বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন।

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুর্কি পার্লামেন্টে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি উপস্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


তুর্কি পার্লামেন্টে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি উপস্থাপন

তুর্কি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ (মেক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স) চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য দেশের পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আল অ্যারাবিয়ার একজন প্রতিনিধি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যদি পার্লামেন্টে এটি পাস হয়, তবে সউদী আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।

‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নামে পরিচিত এই ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সউদী আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে একটি শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।

এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সউদী আরবকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে: স্পিকার মেজর হাফিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে: স্পিকার মেজর হাফিজ

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের সময় অন্যায় করলে এমপিত্ব চলে যায়। অন্যায়কারীদের প্রতি কোনো ছাড় দেয়া হয় না। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে, বড় বড় মাস্তানরা ভারতে পালিয়েছে। "আল্লাহ ছাড় দেন ছেড়ে দেন না।" তাদের দুর্নীতির বিচার দুদুকের মাধ্যমে হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনে শেখ হাসিনা ও তার সন্ত্রাসী এমপিরা দেশে এত লুটপাট করেছে যা পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি। তারা (আওয়ামী লীগ) চুরি ও লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাচার করে নিয়ে গেছে। সেই টাকা দিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রাসাদ নির্মাণ করেছে। এই লুটপাটের নজির আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিশ্বের ইতিহাসে এত বড় চোরের দল মানুষ কখনো দেখেনি। দেশের সম্পদ ও টাকা লুটপাট করে তারা বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা এখন চেষ্টা করছে কিভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে লালমোহন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তানজানিয়ায় ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকে ছয়টি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। "আমাকে অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে নির্বাচিত হননি। এই সম্মান আমার একার নয়, এটি সবার সম্মান।" এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা বিশ্বে উজ্জ্বল হয়েছে।

মেজর হাফিজ আরো বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না। বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র আট মাস। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের একজন নারী সংসদ সদস্যকে দখলবাজির অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ায় একজন প্রতিমন্ত্রীকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। "এটা শুধুমাত্র এদেশে বিএনপি সরকারই করেছে। অন্য কোনো সরকারের এমন নজির দেশে নেই।" অন্যায় করলে মন্ত্রিত্ব এমপিত্ব চলে যায়। বিএনপি কাউকে ছাড় দেয় না।

তিনি বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) চুরি ও লুটপাট করে সম্পদ নিয়ে গেছে। টাকা দিয়ে আইন-আদালত কিনে ফেলেছিল। বিএনপি জিয়াউর রহমান দল সরকারে থাকলে দেশে ন্যায় বিচার কায়েম থাকে। বিএনপি সরকার ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চায় বলেও জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। অতীতে এত আনন্দ উৎসবের মাঝে কখনো পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপিত হয়নি। হিন্দু সম্প্রদায় যাকে নির্ভিগ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিগত সরকারের সময়ে অন্ধকার যুগের কথা চিন্তা করতে বলেন। তাদের মত কাজ করবেন না। "আল্লাহ আছেন তিনি সব দেখেন।" পরকালের চিন্তা করে চলবেন। মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। সৎ লোকের শাসন কায়েম করতে চাই। বিএনপি জিয়াউর রহমানের দল। সততার দল।

লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পাঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফান বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, লালমোহন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, পৌরসভা বিএনপির নেতা জাকির ইমরান, যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদার, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নজরুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ লালমোহন উপজেলার ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগদ লেনদেনে ব্যয় ডিজিটালের চেয়ে ২৮ গুণ বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


নগদ লেনদেনে ব্যয় ডিজিটালের চেয়ে ২৮ গুণ বেশি

নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নগদ লেনদেনের ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ২৮ গুণ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘দ্য কস্ট অব ক্যাশ স্টাডি ইন বাংলাদেশ : আ কম্পারেটিভ অ্যানালাইসিস অব ক্যাশ অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা ওই বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার বার্ষিক ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাথাপিছু হিসেবে বছরে নগদ লেনদেনের ব্যয় ৯ হাজার ৯৩৮ টাকা। বিপরীতে, ডিজিটাল লেনদেনে এ ব্যয় মাত্র ৩৪৮ টাকা। এই বিশাল ব্যবধান নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের সম্ভাবনাকে স্পষ্ট করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ব্যয় জড়িত। ব্যাংক নোট ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে নোট ছাপানো, পরিবহন ও বাজারে এর প্রচলন বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নানা ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ব্যাংক নোট পুরনো, ক্ষতিগ্রস্ত ও ছেঁড়া হয়ে যায়। সেগুলোর পরিবর্তে নতুন নোট ছাপাতে হয়, ফলে অর্থনীতিতে এ-সংক্রান্ত ব্যয় বারবার তৈরি হয়।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে এসব ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকায় দুর্নীতি, চুরি ও অর্থের অপব্যবহার কমাতেও তা সহায়তা করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেনের কারণে ব্যাংকগুলোকে বছরে প্রায় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ভোক্তাদের এ-সংক্রান্ত বার্ষিক ব্যয় ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নগদ ব্যবস্থাপনা ব্যয় বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার এসব ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা ছাপানো ও বিতরণ, অর্থ পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথ পরিচালনা এবং টাকা তোলা, বহন ও ব্যবহারে মানুষের ব্যয় করা সময়ের মূল্য।

গবেষণায় ছায়া অর্থনীতির কারণে সরকারের রাজস্ব হারানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছায়া অর্থনীতির কারণে বছরে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং নগদ লেনদেনের মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

রাজস্ব হারানোর এ ব্যয় হিসাবের বাইরে রাখলেও নগদ লেনদেনের ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নগদ লেনদেনের তুলনায় ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় অনেক কম হলেও এ ব্যবস্থার আর্থিক ও পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বছরে আনুমানিক ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে, এ ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা।

ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া বেশি মাশুল, লেনদেনের অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং ইন্টারনেট সংযোগের অনির্ভরযোগ্যতা।

এ ছাড়া প্রতারণা, লেনদেন ব্যর্থ হওয়া, ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়া এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতার কারণে অনেক গ্রাহক ও ব্যবসায়ী ইলেকট্রনিক লেনদেনে আগ্রহী হচ্ছেন না।

নগদ ও ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নে ডেস্কভিত্তিক গবেষণা, পেমেন্ট ব্যবস্থার তথ্য ও নীতিমালা পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ২১টি সাক্ষাৎকার এবং পাঁচটি দলভিত্তিক আলোচনা পরিচালনা করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ইলেকট্রনিক অর্থ স্থানান্তরের প্রসার ঘটলেও দেশের লেনদেন ব্যবস্থায় নগদ অর্থের আধিপত্য এখনো রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের মোট সংখ্যার ৮০ শতাংশের বেশি এখনো নগদে সম্পন্ন হয়।

গবেষণায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচের সংবেদনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মুনাফার পরিমাণ এমনিতেই কম। এর মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের অতিরিক্ত মাশুল মুনাফা আরো কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি লেনদেনের পদ্ধতি, অর্থ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগবে এবং কী পরিমাণ খরচ হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি।

ভোক্তাদের জন্য ডিজিটাল লেনদেন সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা দেয়। তবে এ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য সেবা, সহজে অভিযোগ জানানোর ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুললেই হবে না। সাশ্রয়ী সেবা, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, সহজে ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎসাহিত করা সম্ভব।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তসংযোগযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে জাতীয় মানদণ্ড হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এ ব্যবস্থাকে আরো আকর্ষণীয় করতে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেনের পথে বাধা কমানো। তবে এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের কাছে ব্যবস্থাটি কতটা সাশ্রয়ী, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে তার ওপর।

গবেষণার ফলাফল বলছে, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানো গেলে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে লেনদেনের ব্যয় কমানো সম্ভব। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক রেকর্ড সংরক্ষিত হয়, যা আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়লে ব্যাংক নোট ছাপানো, পরিবহন, পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত পুনরাবৃত্ত ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

তবে নগদনির্ভরতা থেকে ডিজিটাল লেনদেনে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার করা, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগ বাড়ানো, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব দূর করা এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে মানুষের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে আয়ের স্তর ও ব্যবসার ধরন নির্বিশেষে সবার জন্য ডিজিটাল লেনদেনকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%