প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দর, যা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার এবং ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টায় কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এতে অংশ নেন।
বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, সালাম খান, যিনি ব্যারিস্টার সালাম নামেও পরিচিত, তার কারণে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে, যা বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হাসান মুনসুর, বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল খালেক সরদার, যুবদল নেতা রাজন মনসুর এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা জানান, সম্প্রতি বন্দরের বড় পুকুরের পশ্চিম পাড় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পূবালী ব্যাংক কালাইয়া শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়। কিন্তু ব্যারিস্টার সালাম খান পুকুরের পাড় নিজের জায়গা দাবি করে কাজটি বন্ধ করে দেন।
বক্তাদের অভিযোগ, সালাম খান বিগত সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে ১৫০ শতাংশ জমি দাবি করেছেন। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, "বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস খতিয়ানের প্রায় ১৫০ শতাংশ জমি কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়?" তারা সরকারের জায়গা উদ্ধার করে বন্দরের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
কালাইয়া মার্চেন্ট পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, "কালাইয়া বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা জড়িত।" তিনি আরও বলেন, "বন্দরের জমি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।" একই সঙ্গে তিনি বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে সালাম খান বলেন, "এই জায়গা সংশ্লিষ্ট দপ্তর আমাকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। নিম্ন আদালতের রায় আমার পক্ষে রয়েছে। সরকার আপিল করলে উচ্চ আদালত ওই জায়গার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। জায়গার সপক্ষে আমার সকল প্রমাণাদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া আছে। আমার বিরুদ্ধে যা রটানো হচ্ছে তা স্রেফ অপপ্রচার।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, "সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি সম্পন্ন হোক তা আমি নিজেও চেয়েছি। কিন্তু নির্ধারিত জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন