০২:৩৩ পি.এম
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা একটি যৌথ খোলা চিঠিতে দুই দেশের সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানাচ্ছেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মঁদে প্রকাশিত শনিবারের চিঠিতে সাবেক কূটনীতিকরা মন্তব্য করেন যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্তমান নীতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে স্থায়ীভাবে নস্যাৎ করে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তারা ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে যৌথভাবে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছেন যাতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থী বিনিময় থেকে মহাকাশ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার নতুন অংশীদারিত্ব
চিঠিতে বলা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা- যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যোগসাজশ দ্বারা সমর্থিত- ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল। সাবেক কূটনীতিকরা উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বের কাছে ইসরায়েলের ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা আগের মতো নেই।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক, এমির জোনস প্যারি, এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফ্রান্সের সাবেক শীর্ষ অফিসার ইভস অউবিন দ্য লা মেজুসিয়ের ও দ্যনি বোশার্ড অন্তর্ভুক্ত আছেন।
সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন তাঁর মন্তব্যে বলেন, চিঠিতে ব্যবহৃত কঠোর ভাষা কূটনীতিকদের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়; বরং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি এবং দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিমা দেশগুলো কেবল ইসলামদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, বাস্তব পদক্ষেপের সময় এসেছে।
আরও পড়ুন: রাহুলের অভিযোগ, টাটা গোষ্ঠীকে ‘ধ্বংসের’ জন্য মোদি-শাহকে নিশানা
তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি বসতি, গাজায় মানবিক সহায়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্যকে সামনে রেখে সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
চিঠিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত, ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করা, এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা।
এছাড়া, চিঠিতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে ইউএনআরডব্লিউএর মাধ্যমে গাজার জন্য বাধাহীন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিক, কূটনীতিক এবং আইনপ্রণেতাদের জন্য গাজায় নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
গাজার যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান উত্থাপিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক হাজার ২৮৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়ছেন বলে দাবি প্রদর্শন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩৯
সাবেক কূটনীতিকদের মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভবনার অবসান হতে পারে।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখন সেই স্বীকৃতিকে ‘জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তব রূপ’ দিতে হবে।
এছাড়া চিঠিতে ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বেরও সমালোচনা করা হয়েছে। বর্তমান ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে ‘অপ্রতিনিধিত্বশীল ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে তারা একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
তবে সাবেক কূটনীতিকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিকোলাস হপটন বলেন, ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রেরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, সহিংসতা এবং মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: কাশ্মীরে ২০১৯ সাল থেকে ১৬,৩৯৭ নারী ও কন্যাশিশু নিখোঁজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন