০৯:৪৯ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশি নাগরিকদের এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে। গত কয়েক সপ্তাহে ভিসা বাতিলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলারবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ‘৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল হয়েছে, এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। ভিসাধারীদের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলুন, নইলে দেশটিতে ভ্রমণের সুযোগ হারাবেন।’
নামদার আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশের জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
হোয়াইট হাউসের একটি পোস্টও নামদার নিজের বার্তার সঙ্গে যুক্ত করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে বেশি ভিসা বাতিল করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও এক্সে দেওয়া পৃথক পোস্টে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, জালিয়াতি করেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেন, এমন বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কোনো বিদেশি নাগরিক আইন ভাঙলে, জালিয়াতি করলে কিংবা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভিসা যাচাই ও অভিবাসনসংক্রান্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য জানিয়েছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন হিসাব অনুযায়ী, এরপর ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে বাতিল হওয়া ভিসার ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা এবং মোট সংখ্যার বিস্তারিত বিভাজন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, অভিবাসন নীতি কঠোর করার এসব পদক্ষেপ নিয়ে অধিকারকর্মীদের সমালোচনা রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন