ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে


ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের দ্বিতীয় মেয়াদে এ পর্যন্ত ৩ লাখেরও বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের ব্যাপক অভিবাসন দমন অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই ঘোষণা দিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে দ্রুত গতিতে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যেসকল বিদেশি নাগরিক আইন ভঙ্গ করবেন, জালিয়াতির আশ্রয় নেবেন বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে ভিসা বাতিলের গতি অনেক বেড়ে গেছে। এর আগে, গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক তথ্যে জানানো হয়েছিল যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সেই সংখ্যা মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেল।

আরও পড়ুন: ৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবেন না-রাহুলকে অমিত শাহর কটাক্ষ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই কঠোর অভিবাসন দমন ও নির্বাসন অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে অধিকারকর্মীরা এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে পারেন, এমন শঙ্কায় জাতিগত সংখ্যালঘু অভিবাসীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা কিছু সুনির্দিষ্ট ভিসা বাতিলের ঘটনা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকার নিজেদের সমালোচকদের দমনে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাত ব্যবহার করছে। উদাহরণস্বরূপ, মিনেসোটার সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে ঢাল বানিয়ে পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশিদের নির্বাসনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই অনেক বেশি কঠোর করেছে।

আরও পড়ুন: এল নিনোর প্রভাবে পেরুর দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প মূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার। তবে বাস্তবে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে—যার অন্যতম প্রমাণ নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার (ওয়ার্ক ভিসা) ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপ করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দর কমেছে, শক্তিশালী অস্ট্রেলীয় মুদ্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ এম


বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দর কমেছে, শক্তিশালী অস্ট্রেলীয় মুদ্রা

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহার এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলে মার্কিন ডলার বিশ্ববাজারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার, তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর বুধবারও ডলারের দর চাপের মুখে ছিল। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেশটির মুদ্রাকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর পরিমাপকারী ডলার সূচক ১০১ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে স্থির ছিল। আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অপরদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ডলারের দর শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৭০১৩ ডলারে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার মুদ্রাটির দর তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ ০.৭০১৭ ডলারে উঠেছিল।

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) ডেপুটি গভর্নর অ্যান্ড্রু হাউজারের বক্তব্য দেশটির মুদ্রার দর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি সিটি আয়োজিত এক সম্মেলনে বলেন, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস আগের ধারণার তুলনায় ‘উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ’ হয়েছে। তবে আগামী মাসে নীতিসুদ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর বক্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমে গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বৈঠক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হুতি হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার খবরও বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে ঘিরে বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষ হলে এবং জ্বালানির দাম কমতে থাকলে ডলারের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা কমতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে আগামী কয়েক মাসে ডলারের দর কিছুটা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদ ও মুদ্রাবাজার বিশ্লেষক ক্যারল কং বলেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল শেয়ারবাজারের মনোভাব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব মার্কিন ডলারের দরেও পড়তে পারে।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল প্রকাশের মৌসুমের মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার জাপানের নিক্কেই ও দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও বেড়েছে।

মুদ্রাবাজারে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর ছিল ১৫৮ দশমিক ৩৩ ইয়েন। ইউরোর বিপরীতে ডলারের দর ছিল ১.১২২৯ এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ১.৩৩৭৩৫ ডলার। তবে ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির অবনতিশীল আর্থিক পরিস্থিতির কারণে ইউরো নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন। শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা থাকায় দেশটিতে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সমন্বয়ে বড় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফরাসি সরকার। গত সপ্তাহান্তে সহিংসতা মোকাবিলায় নিজেদের পদক্ষেপের ব্যর্থতাও স্বীকার করেছে সরকার।

এদিকে, আগামী বুধবার থেকে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং জাপান ব্যাংক মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত জানাবে। বাজারের প্রত্যাশা, তিনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকই আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। একই দিনে নিউজিল্যান্ড ও কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। দেশ দুটির নীতিসুদ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বাজারের বিনিয়োগকারীরা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়নি।

বিশ্ববাজারে ডলারের গতিপথ নির্ধারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহার, জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে লাখো মানুষ ঘরবন্দী, বের হতে চান না কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


জাপানে লাখো মানুষ ঘরবন্দী, বের হতে চান না কেন?

জাপানের একটি তরুণ। তিনি একসময় নিয়মিতভাবে স্কুলে যেতেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে তাঁর জীবনে ছন্দপতন ঘটে। স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন এবং বন্ধুদের ফোনের উত্তর দেওয়া কমিয়ে দেন। একসময় তাঁর ঘরই হয়ে ওঠে পুরো পৃথিবী। দিনগুলো কাটে কম্পিউটারের সামনে কিংবা বিছানায় শুয়ে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেন না। বাইরে যাওয়ার কথা উঠলেই অস্বস্তি অনুভব করেন। এভাবে মাস পেরিয়ে বছর চলে যায়।

এটি কেবল একজনের অভিজ্ঞতা নয়। জাপানের অনেক মানুষের জীবনে এমন অভিজ্ঞতা দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখার এই প্রবণতা জাপানে পরিচিত ‘হিকিকোমোরি’ নামে।

হিকিকোমোরি বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এমন অবস্থায় থাকা এর অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়।

তবে হিকিকোমোরিতে থাকা সবাই যে একেবারেই ঘর থেকে বের হন না, তা নয়। কেউ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দোকানে যান, কিন্তু অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলেন। আবার কেউ নিজের ঘর থেকেই বের হতে চান না।

জাপান সরকারের ২০২২ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার মানুষ হিকিকোমোরি অবস্থার মধ্যে ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ, এটি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; বরং দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ।

হিকিকোমোরির পেছনে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক চাপ এবং মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

স্কুলে সহপাঠীদের হাতে অপমানিত হওয়া, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, চাকরি হারানো কিংবা কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ এসব অভিজ্ঞতা কাউকে ধীরে ধীরে সামাজিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, বিষণ্নতা ও সামাজিক উদ্বেগও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে হিকিকোমোরিতে থাকা মানেই যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত, তা নয়। ব্যক্তিভেদে এর কারণ ও অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে।

শুরুতে কেউ হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করেন কিংবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে চান না। ধীরে ধীরে বাইরে যাওয়ার অভ্যাস কমে আসে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকার পর মানুষের সঙ্গে আবার যোগাযোগ তৈরি করা, পড়াশোনায় ফেরা কিংবা চাকরি খোঁজা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অনেকের মনে কাজ করে সামাজিক বিচার ও প্রত্যাখ্যানের ভয়। দীর্ঘ বিরতির পর অন্যদের মুখোমুখি হলে কী বলবেন, এত দিন কোথায় ছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

ফলে ঘরের মধ্যে থাকা সাময়িক স্বস্তি দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক জীবনে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

হিকিকোমোরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানে বিভিন্ন পরামর্শকেন্দ্র ও সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। এসব উদ্যোগে ব্যক্তির সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি, পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দেওয়া এবং ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কাউকে জোর করে ঘরের বাইরে নিয়ে আসার পরিবর্তে তার সমস্যার কারণ বোঝা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ফেরার সহায়তাও কাজে আসতে পারে।

ঘরের মধ্যে দিনের পর দিন কাটানো মানুষটিকে বাইরে থেকে অলস বা অসামাজিক মনে হতে পারে। কিন্তু তার ভেতরে কী ধরনের ভয়, উদ্বেগ কিংবা হতাশা কাজ করছে, তা না জেনে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

হিকিকোমোরি থেকে বেরিয়ে আসার পথ সবার জন্য এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ, আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি পেশাদার সহায়তা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষদের দোষারোপ না করে তাদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা। কারণ, ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও তার পেছনে থাকা মানুষটির জীবনে আবার নতুন করে শুরু করার আকাঙ্ক্ষা একেবারে হারিয়ে গেছে এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

সূত্র: বিবিসি; ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকিয়াট্রি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকবে, তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকবে, তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২ কিলোমিটার হতে পারে।

বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য যে পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে, তাতে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তাছাড়া, আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৭ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন দামে সোনার বিক্রি, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


নতুন দামে সোনার বিক্রি, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম গত ১৩ অক্টোবর কমানো হয়েছে। ওই দিন ভরিতে তিন হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। এরপর দামে আর কোনো সমন্বয় না হওয়ায় আজ বুধবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম তিন হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে দুই লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই হাজার ৬৮২ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময় ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম দুই লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ৯৯ টাকা বাড়িয়ে দুই লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%