ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে কোহলি-বুমরাহদের পাঠাতে রাজি ভারত


জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে কোহলি-বুমরাহদের পাঠাতে রাজি ভারত

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটানোর পর আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। সফরটি তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) মধ্যে একটি নীতিগত সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে।

বিসিবির একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারির প্রথম ভাগে সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে দুই বোর্ড ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর বিসিবির ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সভাপতি তামিম ইকবালও এ বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকার কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: সাফের আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরে চিকিৎসাসেবার দায়িত্বে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সিরিজটি শুরু হয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল আশাবাদী। তিনি বলেন, "আমরা একটা সময় নিয়ে আলোচনা করছি। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের আলোচনা যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি আশাবাদী, ভারতীয় দল সিরিজটি খেলতে বাংলাদেশে আসবে। দুই বোর্ড ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে।"

তবে সিরিজ আয়োজনের জন্য দুই দেশের সরকারের সম্মতি অপরিহার্য। রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পূর্বে দুইবার ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে গেছে। বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের আলোচনা ইতিবাচক হলেও সফরটি সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভর করছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ বিষয়ে বলেন, "আমরা খেলাধুলাকে সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। আমরা চাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠুক এবং এই সম্পর্ক যেন জোরদার থাকে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি আমরা আন্তরিকভাবে দেখছি। আমরা চাই তারা এসে আমাদের দেশে খেলুক এবং আমরাও তাদের দেশে গিয়ে খেলতে চাই।"

গত বছরের আগস্টে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের সূচি নির্ধারিত হয়েছিল। দুই দফায় তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টুয়েন্টি খেলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজটি মাঠে গড়ায়নি। দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে সফরটি পিছিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ‘ইউ ক্যান ডু ইট’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের নিবন্ধন

এবার বিসিবি নতুন করে আশার আলো দেখছে। সর্বশেষ ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে জানুয়ারির শুরুতে সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে দুই বোর্ড নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এখন সরকারের সম্মতি পাওয়া গেলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারতীয় দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জীবননগরে রেলপথ অবরোধ, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


জীবননগরে রেলপথ অবরোধ, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন স্থানীয়রা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করার জন্য, স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ এবং আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি নিয়ে স্থানীয়রা রেলপথ অবরোধ করেছেন। তারা রেল কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রদান করেছেন।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন চত্বরে আন্দোলনকারীরা এই কর্মসূচি পালন করেন। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অবরোধের সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি স্টেশনে আটকে রাখা হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ব্যস্ততম এই স্টেশনটি দিয়ে জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে। স্থানীয় কৃষিপণ্য ও বাণিজ্যিক মালামাল দূরপাল্লায় পরিবহনেও স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে পুরো স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে যে ট্রেনটি এখানে থামে, সেটিও মূল প্ল্যাটফর্মের বদলে ২ নম্বর লাইনে দাঁড় করানো হয়। প্ল্যাটফর্ম না থাকায় নিচু স্থান থেকে উঁচুতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

আন্দোলনকারীদের ঘোষিত দাবিগুলো হলোÑ

আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে অন্তত দুজন স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত পদায়ন করা। আধুনিক প্ল্যাটফর্ম, যাত্রীছাউনি ও বিশ্রামাগারসহ স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি প্রদান করা।

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, ‘স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে শুধু জীবননগর নয়, পার্শ্ববর্তী দামুড়হুদা, দর্শনা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে যাতায়াত সহজ হবে।’

কর্মসূচি শেষে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরবর্তীতে রেলপথ পুরোপুরি অচল করাসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতকে জড়ানো টিআইবির বিবৃতি ‘দুরভিসন্ধিমূলক’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


জামায়াতকে জড়ানো টিআইবির বিবৃতি ‘দুরভিসন্ধিমূলক’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিবৃতি প্রদান করায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমালোচনা করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি টিআইবির বিবৃতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন, যা সোমবার রাতে জামায়াতের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্ট। তারপরও দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে টিআইবির মিথ্যা বর্ণনামূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানো অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা না থাকলেও জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের বিবৃতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

গত রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি বিকালে একটি বিবৃতি দেয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

গোলাম পরওয়ার টিআইবির বিবৃতি সম্পর্কে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের পেশাদার যে কোনো কাজকে নির্বিঘ্নে সম্পাদনের পরিবেশ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী কর্তৃক তা বাধাগ্রস্ত হোক, কিংবা সত্য প্রকাশে বাধা অথবা হুমকির সম্মুখীন হবে- তা সমর্থন করে না, বরং প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং জামায়াতকে নিয়ে টিআইবির মনগড়া তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অটিজমের জন্য স্পিচ থেরাপির গুরুত্ব ও পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


অটিজমের জন্য স্পিচ থেরাপির গুরুত্ব ও পদ্ধতি

একটি শিশু যখন কথা বলার পরিবর্তে আঙুল দিয়ে তার পছন্দের খেলনাটি দেখায়, অথবা কেউ যখন একই কার্টুনের সংলাপ বারবার উচ্চারণ করে, তখন তাদের জন্য নিজেদের প্রয়োজন বোঝাতে সমস্যা হয়। তারা নিজের ইচ্ছামতো প্রয়োজন বুঝাতে পারে না। আবার, কিছু শিশু সাবলীলভাবে কথা বলতে পারলেও, কথোপকথনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অন্যের ইশারা ও ইঙ্গিত বুঝতে পারা, কিংবা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এই অভিজ্ঞতাগুলো অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের (Autism Spectrum Disorder – ASD) সঙ্গে সম্পর্কিত যোগাযোগের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

স্পিচ থেরাপির লক্ষ্য

স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যক্তির কার্যকর যোগাযোগ, ভাষা বোঝা ও প্রকাশ করা, সামাজিকভাবে অংশগ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো। কথ্য ভাষা যদি ব্যক্তির প্রয়োজন ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সেটির বিকাশেও সহায়তা করা হয়। একই সঙ্গে অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমও ব্যবহার করা হয়। একজন স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট ব্যক্তির যোগাযোগের শক্তি, সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করেন। এই পরিকল্পনায় ব্যক্তির বয়স, ভাষা বা কথা বিকাশের পর্যায়, পছন্দ, দৈনন্দিন পরিবেশ এবং পরিবারের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো শিশু পানি চাইতে না পারে এবং কান্নাকাটি করে, তবে লক্ষ্য শুধুমাত্র তাকে ‘পানি’ শব্দটি উচ্চারণ করানো নয়, বরং তাকে কথা, ইশারা, ছবি বা উপযুক্ত যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের চাহিদা প্রকাশ করতে সক্ষম করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য থেরাপিস্ট কাজ করেন। পরবর্তীতে, তার সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দ, বাক্য ব্যবহার কিংবা কথার দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। থেরাপির লক্ষ্য সবসময় নির্দিষ্ট, বাস্তবসম্মত এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য; যেমন, শিশু যেন উপযুক্ত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের পছন্দ জানাতে পারে, সাহায্য চাইতে পারে, অথবা কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে অসম্মতি প্রকাশ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে লক্ষ্য ও কৌশল পরিবর্তন করা হয়।

মূল্যায়ন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

সব অটিস্টিক ব্যক্তির জন্য একই থেরাপি বা অনুশীলন কার্যকর হয় না। তাই থেরাপি শুরু করার আগে প্রয়োজনভিত্তিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন থেরাপিস্ট সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন—

• ভাষা বোঝার দক্ষতা : নির্দেশনা, প্রশ্ন, শব্দ ও বাক্যের অর্থ কতটুকু বোঝেন।

• ভাষা প্রকাশের দক্ষতা : কথা, অঙ্গভঙ্গি, ছবি বা অন্য মাধ্যমে কীভাবে নিজের বার্তা জানান।

• সামাজিক যোগাযোগ : কথোপকথন, যৌথ কার্যক্রম ও পারস্পরিক যোগাযোগে কীভাবে অংশ নেন।

• কথ্য ভাষার বৈশিষ্ট্য : শব্দ, বাক্য, উচ্চারণ, কণ্ঠস্বরের সুর এবং বারবার একই কথা ব্যবহারের সম্ভাব্য ভূমিকা।

• বিকল্প যোগাযোগের প্রয়োজন : ছবি, কমিউনিকেশন বোর্ড বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কি না।

• দৈনন্দিন কার্যকারিতা : বাড়ি, স্কুল, কর্মক্ষেত্র বা সামাজিক পরিবেশে যোগাযোগের কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে এবং কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

এছাড়া, ভাষা বিকাশে অভিভাবকের উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রবণক্ষমতা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রবণসমস্যা ভাষা ও যোগাযোগের বিকাশকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবিত করে। প্রয়োজনে অডিওলজিস্টের মাধ্যমে শ্রবণ পরীক্ষা করানো হয়।

অটিজম নির্ণয় এবং অন্যান্য সহাবস্থানকারী অবস্থার মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার্ড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পিচ থেরাপিস্ট, চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের মাধ্যমে করা হয়। অভিভাবকদের উচিত রেজিস্টার্ড পেশাজীবীদের শরণাপন্ন হওয়া।

তথ্যসূত্র : হেলথলাইন

লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ, ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে স্বল্প বেতনে পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, সংকট নিরসনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা উচিত।

বুধবার দলের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার সন্তান পোশাক শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’

দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে, তবে দেশের পুরো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সরকার এখনো সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে। কারণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের পক্ষে জীবন ধারণ করা সত্যিই অসম্ভব। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে অবিলম্বে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা ঠিক যে শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও সমভাবে সত্য যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়বে।’

অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা সুযোগসন্ধানীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

একই সঙ্গে শ্রমিক ভাই-বোনদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি, তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে অক্ষত রাখুন। কারণ শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারাও বেঁচে থাকবেন।’ পাশাপাশি কারখানা মালিকদের উদ্দেশে তিনি শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%